সাজা বহাল থাকলেও ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে পারবেন লে পেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৯ জুলাই, ২০২৬, 11:00 AM
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৯ জুলাই, ২০২৬, 11:00 AM
সাজা বহাল থাকলেও ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে পারবেন লে পেন
দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেও ২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ খুলে গেছে কট্টর ডানপন্থী নেতা মেরিন লে পেনের। আপিল আদালত তার সাজা বহাল রাখলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণে আরোপিত অযোগ্যতার মেয়াদ কমিয়ে দেওয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে আর আইনি বাধা থাকছে না তার।
তবে আদালত তাকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক বছরের ইলেকট্রনিক নজরদারির শর্ত দিয়েছেন। তবে নির্বাচনে অযোগ্যতার মেয়াদ কমিয়ে দেওয়ায় ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ ফিরে পেয়েছেন তিনি। ফরাসি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই রায়ের ফলে ফ্রান্সের ক্ষমতার রাজনীতিতে আবারও কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে উঠেছেন ন্যাশনাল র্যালি দলের এই নেত্রী। এর আগে নিম্ন আদালতের রায়ে তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল, যা তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছিল।
মেরিন লে পেন ও তার দল ন্যাশনাল র্যালির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থে নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু সহকারীকে দলীয় সাংগঠনিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন লে পেন। তার দাবি, রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতেই তার বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে।
আদালতের রায়ের পরও তিনি রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার সমর্থকদের দাবি, এ মামলা তাকে থামাতে পারেনি; বরং তিনি আরও শক্ত অবস্থানে ফিরেছেন। এই সিদ্ধান্ত ফ্রান্সের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গত এক দশকে দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী বিরোধী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মেরিন লে পেন। ২০১৭ ও ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয় দফার ভোটে উঠলেও দুইবারই বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছে পরাজিত হন।
সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে ম্যাক্রোঁ ২০২৭ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। ফলে আসন্ন নির্বাচনে লে পেনকে অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা, জাতীয় পরিচয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে তার কঠোর অবস্থান ন্যাশনাল র্যালিকে ফ্রান্সের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক দলে পরিণত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লে পেনের প্রার্থিতা ফ্রান্সে অভিবাসন, নাগরিকত্ব এবং বিদেশিদের অধিকার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র করতে পারে। একই সঙ্গে তার মামলাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে- দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত কোনো জনপ্রিয় রাজনীতিক জনগণের ভোটে দেশের সর্বোচ্চ পদে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাওয়া উচিত কি না। সমর্থকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ভোটারদের; তবে সমালোচকদের দাবি, এমন পরিস্থিতি ফরাসি রাজনীতিতে নতুন নৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করবে।
তথ্য সূত্র- বিবিসি।