ঢাকা ১৬ জুলাই, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সাভারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার ৯, ডিবির জ্যাকেট ও হ্যান্ডকাফ উদ্ধার সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ করবে সরকার হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু শেখ হাসিনা পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর দেশে-বিদেশে ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ ২ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের ২২৬ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ এই মৌসুমে সুস্থ থাকতে খেতে পারেন ৫ ভেষজ চা যে কারণে টাইটানিকের মতো সিনেমা বানাতে চান উর্বশী বিপৎসীমার ওপরে দেশের ৩ নদীর পানি দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে শিক্ষার্থীরা পাচার ও চোরাচালান রুখতে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে

নাটোরের কাঁচাগোল্লা পেল জিআই সনদ

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ আগস্ট, ২০২৩,  3:36 PM

news image

কাঁচাগোল্লা—নাম শুনলেই এসে যায় নাটোরের কথা। রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড কিংবা নৌ-ঘাট, সবখানেই নাটোরের নামে বিক্রি হয় কাঁচাগোল্লা। তবে শুধু নাটোরের মানুষেরাই বুঝতে পারেন কাঁচাগোল্লার নামে কী বিক্রি হচ্ছে। আসল-নকল যা-ই হোক, দেশের প্রসিদ্ধ মিষ্টান্নগুলো সারা দেশে অন্তত একই রকম আকারে বিক্রি হতে দেখা যায়। শুধু ব্যতিক্রম নাটোরের কাঁচাগোল্লা। উপকরণে তো হয়ই, আকারেও এর বিকৃতি হচ্ছে। কাঁচা ছানা থেকে তৈরি মিষ্টান্ন কাঁচাগোল্লা গোলাকার নয়। কিন্তু চিনি মেশানো কাঁচা ছানা ছোট বলের মতো তৈরির পর ‘নাটোরের কাঁচাগোল্লা’ নামে বিক্রি ঠেকাতে ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে এবার মিলল স্বীকৃতি। দেশের ১৭তম জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যের স্বীকৃতি পেল নাটোরের কাঁচাগোল্লা। গত ৮ আগস্ট মঙ্গলবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষরে কাঁচাগোল্লার জিআই স্বীকৃতি অনুমোদন নাটোর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে পাঠানো হয়।

কাঁচাগোল্লার জিআই নিবন্ধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন নাটোরের সাবেক ও রাজশাহীর বর্তমান জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ। গত ৩০ মার্চ অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) মাধ্যমে নাটোরের কাঁচাগোল্লার জিআই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। চার পুরুষ ধরে মিষ্টি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নাটোরের ঐতিহ্যবাহী জয় কালী মিষ্টান্ন ভান্ডার। জিআই স্বীকৃতির ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় এই দোকানের বর্তমান স্বত্বাধিকারী প্রভাত কুমার পাল বলেন, জিআই আবেদন অনেক আগেই করা দরকার ছিল। কেননা বিভিন্ন রকমের মানহীন মিষ্টি কাঁচাগোল্লা নামে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হয়। তাতে নাটোরের কাঁচাগোল্লার সুনাম নষ্ট হয়। এখন জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় বিকৃত আকারে উৎপাদন বন্ধ হবে। দেশের মানুষ আসল কাঁচাগোল্লা চিনে কিনতে পারবে। নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী বলেন, কাঁচাগোল্লা জিআই তালিকাভুক্ত হলো। এর মধ্য দিয়ে নাটোরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি দেশ-বিদেশে কাঁচাগোল্লার ব্র্যান্ডিং ও চাহিদা বাড়বে। এ সংক্রান্ত যেকোনো উদ্যোগে পৌর কর্তৃপক্ষ পাশে থাকবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোরের সাবেক জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নাটোরের কাঁচাগোল্লার ইতিহাস সমৃদ্ধ হওয়ায় নাটোর থেকে বিদায়ের আগে জিআই নিবন্ধনের উদ্যোগ গ্রহণ করি। অবশেষে জিআই স্বীকৃতি এল। নাটোরের এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্নের স্বীকৃতি আদায়ে ভূমিকা রাখায় আনন্দিত বোধ করছি।’ নাটোরের জেলা প্রশাসক আবু নাছের ভূঞা বলেন, নাটোরের ঐতিহ্য ধরে রেখে উৎপাদকেরা কাঁচাগোল্লা প্রস্তুত করেন। কিন্তু বাইরে বিকৃত আকারে কাঁচাগোল্লা বিক্রি হয় বলে বিভিন্ন সময় শোনা যায়। জেলা প্রশাসন এর বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই বিকৃতি রোধ করা হবে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম