আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ মার্চ, ২০২৬, 11:09 AM
যুদ্ধ থামাতে ইরানকে ১৫ দফা প্রস্তাব দিলো যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। আল জাজিরা, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুদ্ধ বন্ধে এই পরিকল্পনা ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবে ইরানকে তার তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি স্থগিত করা, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রস্তাবটি পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এতে দেশটির সেনাপ্রধান সৈয়দ আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছেন। উভয় পক্ষ রাজি হলে ইসলামাবাদ সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। এদিকে, রয়টার্স জানিয়েছে, একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে একটি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি দুই দেশই। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ইরান এ দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা কোনো সরাসরি আলোচনায় অংশ নেয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের পাল্টা আক্রমণে সংঘাত এখন চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। বিমান হামলা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে হতাহতের পাশাপাশি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেলের বাজার ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও। বিশ্লেষকদের মতে, এই ১৫ দফা প্রস্তাব সংঘাত নিরসনের একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক পথ তৈরি করলেও এর বাস্তবায়ন নির্ভর করছে ইরানের সম্মতি, ইসরায়েলের অবস্থান এবং চলমান সামরিক পরিস্থিতির ওপর। ফলে যুদ্ধের মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও সমাধান এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।