ঢাকা ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
শিশুদের বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম উৎপাদন কেন্দ্র হতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভারত ক্ষমা না চাওয়ায় লিজেন্ডস টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াল পাকিস্তান জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস আজ ভারতভাগের পর প্রথমবার আসাম থেকে ঢাকার আন্তর্জাতিক নৌপথে পণ্য পরিবহন ঘুরে দাঁড়িয়ে ১৪ মিনিটে চার গোল করে জিতল জিদানের ফ্রান্স ৪৯তম বিসিএস থেকে আরও ৪০ জনকে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ শাহজালালে ৩ যাত্রীর ব্যাগ থেকে ৬৩১ কার্টন সিগারেট জব্দ

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সিম-টাওয়ার ছাড়াই যোগাযোগ, আলোচনায় ‘লোরা’ প্রযুক্তি

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৫ অক্টোবর, ২০২৬,  11:11 AM

news image

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য নতুন ধরনের যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি কয়েকটি অভিযানে ওই অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের কাছ থেকে সিম কার্ড, মোবাইল টাওয়ার বা ওয়াই-ফাই ছাড়াই যোগাযোগ করা যায় এমন ‘লোরা’ প্রযুক্তির যন্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকটি সূত্র। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থার বাইরে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিরাপত্তা নজরদারিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।


‘লোরা’ নামটি এসেছে ‘লং রেঞ্জ, লো পাওয়ার’ থেকে। কম শক্তি ব্যবহার করে তুলনামূলক দীর্ঘ দূরত্বে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য এই প্রযুক্তি তৈরি হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, উদ্ধার করা কিছু যন্ত্র এনক্রিপ্টেড ও মেশভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থায় কাজ করতে পারে। অর্থাৎ একটি যন্ত্র অন্যটির মাধ্যমে সংকেত পৌঁছে দিতে পারে। এতে মোবাইল টাওয়ারের সরাসরি প্রয়োজন হয় না।


গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের বুদগাম জেলার গুরওয়াতকালান এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লস্কর-ই-তৈয়বার কমান্ডার মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসা ফৌজি নিহত হন বলে দাবি করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তাঁর কাছ থেকে ‘লোরা আল্ট্রা’ লেখা একটি যন্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে তারা।


ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, এ ধরনের যন্ত্র দিয়ে বনাঞ্চলে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে বার্তা, জিপিএস অবস্থান ও জরুরি সংকেত পাঠানো সম্ভব। একাধিক যন্ত্র একে অপরের সংকেত পৌঁছে দিতে পারায় এগুলো নিজেদের মধ্যে একটি ব্যক্তিগত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারে বলেও দাবি তাঁদের।


এর আগে দাচিগাম ও পাহেলগামের মধ্যবর্তী পাহাড়ি বনাঞ্চলে ভারতীয় বাহিনীর ‘অপারেশন মহাদেব’-এর সময়ও একাধিক এনক্রিপ্টেড লোরা যন্ত্র ও সিমবিহীন ফোন উদ্ধারের কথা জানানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, এসব যন্ত্র ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা নিজেদের মধ্যে এবং সীমান্তের ওপারে থাকা যোগাযোগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।


এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতের ন্যাশনাল টেকনিক্যাল রিসার্চ অর্গানাইজেশনের (এনটিআরও) ফরেনসিক বিশ্লেষণে উদ্ধার করা কিছু যন্ত্র স্থানীয়ভাবে তৈরি নয় বলে ধারণা করা হয়েছে। ভারতীয় নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, এগুলো আগে থেকেই নির্দিষ্ট যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ও এনক্রিপ্ট করা ছিল। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে নেই।


প্রতিবেদনটিতে পাকিস্তান ও চীনের প্রযুক্তিগত যোগসূত্রের কথাও বলা হয়েছে। ভারতীয় নিরাপত্তা সূত্রের অভিযোগ, সীমান্তের ওপারে যোগাযোগের জন্য যন্ত্রগুলো আগে থেকেই প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং এতে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই দাবিরও স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।


নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার সামনে আসার পর দক্ষিণ কাশ্মীরের বনাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের নজরদারি ব্যবস্থা পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। লোরা প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত বেতার তরঙ্গ শনাক্ত করতে স্পেকট্রাম স্ক্যানার ও সংকেত বাধাগ্রস্তকারী যন্ত্রের সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।


তবে লোরা নিজে কোনো গোপন বা অপরাধমূলক প্রযুক্তি নয়। কম শক্তি খরচে দূরপাল্লার যোগাযোগের জন্য বিশ্বজুড়েই এর বৈধ ব্যবহার রয়েছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় এ প্রযুক্তির অপব্যবহারের অভিযোগই মূলত নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।


সূত্র: এনডিটিভি

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম