ঢাকা ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
মামুনুল হকের ১৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা হবিগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ফোর্স মোতায়েন বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের মধ্য দিয়ে: তারেক রহমান কুড়িগ্রাম থেকেই উন্নয়ন শুরু করা হবে: ডা. শফিকুর রহমান রাজনীতি করেন, কিন্তু দয়া করে মিথ্যা বলবেন না আরও ১৭১ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুইপক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে স্কুলছাত্র নিহত ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও নগদ অর্থসহ আটক ২ সারাদেশে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত

বৈশ্বিক ইন্টারনেট ছাড়ছে ইরান, নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিন ও মেসেজিং অ্যাপ চালুর উদ্যোগ

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৮ জানুয়ারি, ২০২৬,  10:54 AM

news image

ইরান সরকার ধীরে ধীরে বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা থেকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ আর নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত থাকবে না। সরকারের লক্ষ্য হলো নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর একটি জাতীয় ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু করা, যেখানে তথ্য ও যোগাযোগের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি রাষ্ট্রের হাতে থাকবে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ইন্টারনেট সেন্সরশিপ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফিল্টারওয়াছের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ইন্টারনেটকে ‘সরকারি বিশেষাধিকার’ হিসেবে রূপান্তরের একটি গোপন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদনে ইরানের ভেতরের একাধিক সূত্রের বরাতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও সরকারি মুখপাত্ররা ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০২৬ সালের পর আন্তর্জাতিক ইন্টারনেটের আর অবাধ ইন্টারনেট ফেরানো হবে না। ফিল্টারওয়াচের প্রধান আমির রাশিদি বলেন, নতুন এই ব্যবস্থায় শুধুমাত্র নিরাপত্তা ছাড়পত্রপ্রাপ্ত বা সরকারি যাচাই প্রক্রিয়া উত্তীর্ণ ব্যক্তিরাই সীমিত ও ফিল্টার করা বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। সাধারণ নাগরিকদের জন্য থাকবে কেবল একটি জাতীয় ইন্টারনেট, যা সম্পূর্ণভাবে দেশীয়, আর এটি হবে বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন। এই জাতীয় ইন্টারনেট মূলত একটি সমান্তরাল ডিজিটাল অবকাঠামো, যা সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এতে থাকবে শুধু সরকার অনুমোদিত সার্চ ইঞ্জিন, মেসেজিং অ্যাপ, ন্যাভিগেশন সেবা এবং দেশীয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, যাকে অনেকেই ‘ইরানি নেটফ্লিক্স’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।

চলমান ইন্টারনেট শাটডাউন ও রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি:

টানা ১২ দিনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর গত ৮ জানুয়ারি ইরানে চলমান ইন্টারনেট বন্ধের সূচনা হয়। ওই আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। কঠোর দমন-পীড়নের মুখে বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হলেও দেশটি কার্যত তথ্য-বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। ব্যাপক দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু স্থাপনা, নিহত হয়েছেন বহু নিরাপত্তাকর্মীও। এই ব্ল্যাকআউটকে ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ও কঠোর ইন্টারনেট বন্ধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এটি ২০১১ সালের মিশরের তাহরির স্কয়ার আন্দোলনের সময়কার ইন্টারনেট বন্ধের চেয়েও দীর্ঘ। ইরানের এক সরকারি মুখপাত্র দেশীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অন্তত নওরোজ বা পারস্যের নববর্ষ (২০ মার্চ) পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে। সূত্র: গার্ডিয়ান

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম