বাঁশখালীতে ভারি বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ফসলের ক্ষয়ক্ষতি
০৮ জুলাই, ২০২৬, 2:39 PM
NL24 News
০৮ জুলাই, ২০২৬, 2:39 PM
বাঁশখালীতে ভারি বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ফসলের ক্ষয়ক্ষতি
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ে ঢল এবং সমুদ্রের উচ্চ জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ছনুয়া, চাম্বল, গন্ডামারা, সরল, বাহারছাড়া, খানখানাবাদ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে সমুদ্রয়ের লোনা পানি প্রবেশ করেছে এবং স্থানীয় চিংড়িঘের, সবজি ও পান খেতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলার নিম্নাঞ্চলের আউশ ধানের বীজতলা, মৌসুমি সবজি ক্ষেত ও বিভিন্ন ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদী ও খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বসতঘর, সড়ক, মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়েছে।
দুর্যোগে সাধারন মানুষের নিরাপত্তা পাহাড় ধস সহ ডে কোন বিপদ মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মিটিং করেছে। তাতে বাঁশখালীর সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহ প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যেকোন ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসুচী (সিপিপির) ১৪শত ২০জন স্বেচ্ছাসেবকেরা উপকুলীয় এলাকায় প্রচারনা এবং পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকগন পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢল থেকে রক্ষা পেতে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের প্রেমাশিয়া কদমরসুল এলাকায় বেড়িবাঁধের বড় অংশ ভেঙে গেছে। এতে যেকোন সময় বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে সাগরের নোনাপানি প্রবেশ করতে পারে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি জায়গা দিয়ে পানি প্রবেশ করায় লোকালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বাঁশখালীর সর্বদক্ষিনের ছনুয়া ইউনিয়নের আনোয়ার আজিম সাইফী বলেন,আমাদের উপকূলীয় পাবলিক লাইব্রেরিও পানিবন্দী। টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এই ইউনিয়নের অধিকাংশ জনপদের বাড়িঘর পানিতে ডুবে যাবে। আল্লাহ সহায় হোন।
এছাড়াও উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের ২, ৩, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে প্রায় এক হাজার পরিবার জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে বসতঘর, মাছের প্রজেক্ট ও সড়ক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্লুইসগেটে মাছ ধরার জাল বসিয়ে রাখায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। এতে মধুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
পুইছড়ী এলাকার এক বাসীন্দারা জানান, পাহাড়ি ঢলে পুঁইছড়ির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মদিনাতুল উলুম মাদরাসা সংলগ্ন সড়ক পানির নিচে থাকায় শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে হারুনের দোকানসংলগ্ন ব্রিক সলিং সড়কটি ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
শেখেরখীল ইউনিয়নের নাপোড়া শেখেরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দুপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। কয়েকশ বসতঘর প্লাবিত হয়েছে। সরকার বাজারের উত্তর পাশের নোয়াপাড়া, মোহাব্বত আলী পাড়া, কাচারীপাড়াসহ কয়েকটি গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মৌলভীর দোকান থেকে সরকার বাজার পর্যন্ত সড়কও পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রত্নপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দিঘিরপাড়া এলাকায় সাতটি পরিবারের একমাত্র চলাচলের সড়কটি কাদা ও জলাবদ্ধতায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মারুফ তালুকদার বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কাদায় ভরে যায়। এতে শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের চলাচলে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।
অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ঝুকির কারণে সকল ধরনের পরীক্ষা স্থগিত ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২দিন বন্ধ ঘোষণা করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আউশ ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেত ও নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে। কৃষকদের ক্ষতি কমাতে মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, বৃষ্টি ও জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া যে কোন দুর্যোগ মোবাবেলায় সিপিপি সহ উন্নয়ন সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকেরা মাঠে প্রচারনা চালাচ্ছে বলে তিনি জানান।