ঢাকা ০৬ জুলাই, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
খাগড়াছড়িতে গোলাগুলিতে নিহত ৩ চাটখিলে ৫ বছরের শিশু আসমা ধর্ষণ-হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবনটি কেপিআই ঘোষণা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে জ্বালানি আমদানির চাপ কমাতে চায় সরকার: জ্বালানিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হেনেছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’, নিহত ৫ দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরি কত নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পল্লী উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : মির্জা ফখরুল ‘ডিসেম্বরে পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের নতুন বই দিতে চায় সরকার’ এনআইডির জরুরি সেবা বন্ধ নিয়ে ইসির নতুন আদেশ শনিবারের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবনটি কেপিআই ঘোষণা

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ জুলাই, ২০২৬,  2:00 PM

news image

রাজধানীর গুলশানে নিজের বর্তমান বাসভবনেই থাকছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনকে ‘বিশেষ শ্রেণির’ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। ফলে এ বাসভবন ও এর আশপাশের এলাকা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় চলে এসেছে। জানা যায়, গত ৭ জুন কেপিআই-সংক্রান্ত কমিটির (কেপিআইডিসি) মাসিক সভায় গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। পরে সরকারের অনুমোদনের ভিত্তিতে ১৫ জুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। গত শুক্রবার (৩ জুলাই) এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশিত হয়।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবন থেকেই সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা সরকারি কাজে প্রস্তুত থাকলেও তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না।

এ বাসভবনের মালিকানা প্রসঙ্গে জানা যায়, গত বছরের ৫ জুন অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হাতে বাড়িটির নামজারির কাগজ হস্তান্তর করে। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর গুলশানে প্রায় দেড় বিঘা জমির ওপর নির্মিত বাড়িটি খালেদা জিয়ার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরে নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পর বাড়িটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয়।

গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর তারেক রহমান ওই বাসভবনে ওঠেন। পরে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরও তিনি সেখান থেকেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন।

নিরাপত্তা তদারকিতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সমন্বয়ে পৃথক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হবে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন প্রেসিডেন্ট গার্ডস রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদস্যরা। তাদের সঙ্গে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।

নিরাপত্তা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেপিআই ঘোষিত স্থাপনার সীমানা প্রাচীরের উচ্চতা কমপক্ষে ১২ ফুট হতে হবে। এর ওপর আরো তিন ফুট উচ্চতার ‘ওয়াই’ আকৃতির কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করতে হবে।

এ ছাড়া নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় আশপাশের উঁচু ভবন থেকে নজরদারি, ছবি তোলা বা সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেপিআই স্থাপনার ১৫০ থেকে ৩০০ মিটারের মধ্যে নতুন কোনো উঁচু ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র প্রয়োজন হবে। 

নির্দেশনা অনুযায়ী, কেপিআই স্থাপনার ২৫ মিটারের মধ্যে নতুন কোনো ভবন বা স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। পাশাপাশি স্থাপনার চারপাশের পাঁচ ফুট এলাকার মধ্যে থাকা বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন গাছপালা অপসারণের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি, তথ্য এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের সুরক্ষার স্বার্থেই গুলশানের এই বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম