ঢাকা ০৬ জুলাই, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
শিশুরা আগামীর বাংলাদেশ, দেশগড়ার সৈনিক: জুবাইদা রহমান বাবার শেষ বিদায়ে যে কারণে অনুপস্থিত মোজতবা খামেনি ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৩ মৃত্যু জুনের ‘ভুতুড়ে বিল’ নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলো বিদ্যুৎ বিভাগ খাগড়াছড়িতে গোলাগুলিতে নিহত ৩ চাটখিলে ৫ বছরের শিশু আসমা ধর্ষণ-হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবনটি কেপিআই ঘোষণা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে জ্বালানি আমদানির চাপ কমাতে চায় সরকার: জ্বালানিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হেনেছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’, নিহত ৫ দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরি কত

চাটখিলে ৫ বছরের শিশু আসমা ধর্ষণ-হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

#

নিজস্ব প্রতিনিধি

০৬ জুলাই, ২০২৬,  2:46 PM

news image

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় আসমা আক্তার (৫) নামে এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে তার চাচাতো ভাই শাহাদাত হোসেন (২৬) কে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জেলার বিশেষ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন।দণ্ডপ্রাপ্ত শাহাদাত উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাবুল হোসেনের ছেলে এবং নিহতের চাচাতো ভাই। নারীও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি সেলিম শাহী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদেশে আরও বলা হয়েছে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখতে। রায় ঘোষনার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এর আগে তিন দফা রায়ের তারিখ পরিবর্তনের পর ৬ জুলাই রায় ঘোষণার চূড়ান্ত দিন ধার্য করা হয়েছিল।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নিহত আসমা আক্তার চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মো. শাহজাহানের মেয়ে। সাজাপ্রাপ্ত একমাত্র আসামি শাহাদাত হোসেন একই গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে এবং নিহত শিশুটির সম্পর্কে চাচাত ভাই। ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় পাঁচ বছরের শিশু আসমা। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ ৯ দিন পর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আসামি শাহাদাতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে আসমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এরপরই শাহাদাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত চলাকালে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে গা শিউরে ওঠা বর্ণনা দেন আসামি শাহাদাত। তিনি স্বীকার করেন, ঘটনার দিন দুপুরে তিনি শিশু আসমাকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর বিষয়টি সবার কাছে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি অবুঝ শিশুটিকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরবর্তীতে আলামত গোপন করতে মরদেহটি বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন। সে সময় এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি জানাজানি হলে নোয়াখালীজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। আসমা হত্যার দ্রুত বিচার ও আসামির ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগে টানা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম