ঢাকা ১৪ মে, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ঈদে লম্বা ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি: নির্বাহী আদেশে ২৫ মে বন্ধ অফিস ২০২৭ সালে এসএসসি শুরু ৭ জানুয়ারি, এইচএসসি ৬ জুন পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা, সেই ফোরকানের লাশ মিলল পদ্মায় শাপলা চত্বর মামলায় দীপু মনি-রূপা-মোজাম্মেল বাবু গ্রেপ্তার দেশের প্রয়োজনে মুক্তিযোদ্ধারা আবারও রাজপথে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু দেশীয় পশু দিয়েই কোরবানি হবে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নদীর বাঁধ ভেঙে হালুয়াঘাটের ২০ গ্রাম প্লাবিত দেশে ভোটার বাড়ল ৬ লাখ ২৮ হাজার সাতকানিয়ার পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী

পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা, সেই ফোরকানের লাশ মিলল পদ্মায়

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ মে, ২০২৬,  4:50 PM

news image

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে পদ্মা সেতুর ওপর থেকে ফোরকানের ব্যাগ ও জামাকাপড় উদ্ধার করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাঁচ খুনের ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল কাজ করছিল। এরই মধ্যে পদ্মা সেতুর ওপর একটি ব্যাগ ও কিছু কাপড় পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সিআইডি। পরে যাচাই-বাছাই করে জানা যায়, সেগুলো পলাতক ফোরকানের। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার পদ্মা নদী থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে ওই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নৃশংস এ ঘটনায় নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া। পেশায় প্রাইভেটকারচালক ফোরকান মিয়া বছরখানেক আগে রাউতকোনা গ্রামের ওই বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে; বাবার নাম আতিয়ার রহমান মোল্লা। হত্যাকাণ্ডের পরদিন শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান। ঘরের মেঝেতে তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পড়ে ছিল বিছানার ওপর। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নিহতদের স্বজনরা। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনার দিন মরদেহের পাশে বেশ কিছু প্রিন্ট করা কাগজ পড়ে থাকতে দেখেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফোরকান হোসেন এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের একটি অভিযোগ করেছিলেন। একই সঙ্গে ওই অভিযোগপত্রে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা ছিল, পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার জেরেই ফোরকান এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগেই দুজনকে আটক করেছিল পুলিশ।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম