তরুণকে আটকে মুক্তিপণ দাবি, ঢাবি শিক্ষার্থীসহ গ্রেপ্তার ৩
২৮ জুন, ২০২৬, 12:31 PM
NL24 News
২৮ জুন, ২০২৬, 12:31 PM
তরুণকে আটকে মুক্তিপণ দাবি, ঢাবি শিক্ষার্থীসহ গ্রেপ্তার ৩
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি চত্বরে এক তরুণকে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। একই ঘটনায় আরও দুজন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২৭ জুন) ভুক্তভোগী সাজিদ হাসানের শ্বশুর মাসুম চৌধুরী বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে সাজিদ হাসান ও তার এক বন্ধুকে ধরে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আটকে রাখা হয়। পরে ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগ তুলে সাজিদের পরিবারের কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের দাবির ফোন পেয়ে ভুক্তভোগীর শ্বশুর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে। তবে এ সময় আরও দুজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
পুলিশ জানায়, মোবাইল ফোনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আটক অবস্থায় থাকা তরুণের পকেট থেকে এক যুবক ইয়াবা বের করছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া তিনজনের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, যার পড়াশোনা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এছাড়া পলাতকদের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তাদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে, ভুক্তভোগী সাজিদ হাসানের কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হয়েছে দাবি করে তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
শাহবাগ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি অপহরণের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ায় এ বিষয়ে মামলা নেয়া হয়েছে। পলাতক দুজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তারা গ্রেফতার হলে পুরো ঘটনার নেপথ্য সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।
ঘটনার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা পরে জানতে পেরেছি। তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ওই শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ তাদের নিয়ে গেছে। বিষয়টি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।