ব্রাজিলের গরুর মাংসে ৫৫ শতাংশ শুল্ক বসাচ্ছে চীন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 11:52 AM
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 11:52 AM
ব্রাজিলের গরুর মাংসে ৫৫ শতাংশ শুল্ক বসাচ্ছে চীন
ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গরুর মাংসের নির্ধারিত বার্ষিক কোটার অতিরিক্ত অংশে অতিরিক্ত ৫৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে চীন। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
চীনের নতুন এই পদক্ষেপের ফলে নির্ধারিত কোটার বাইরে ব্রাজিলের গরুর মাংস আমদানিতে বিদ্যমান ১২ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে আরও ৫৫ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হবে। তবে নতুন শুল্কটি ব্রাজিল থেকে আমদানি করা পুরো গরুর মাংসের ওপর নয়; শুধু নির্ধারিত কোটার অতিরিক্ত পরিমাণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
২০২৬ সালের জন্য চীন ব্রাজিলের গরুর মাংস আমদানির কোটা নির্ধারণ করেছে প্রায় ১১ লাখ ৬ হাজার টন। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এই কোটা পূর্ণ হয়ে গেছে বলে চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে এরপর চীনে পাঠানো অতিরিক্ত চালান নতুন শুল্কের আওতায় পড়বে।
চীন চলতি বছরের শুরু থেকেই গরুর মাংস আমদানিতে সুরক্ষা ব্যবস্থা বা ‘সেফগার্ড’ কার্যকর করেছে। এর আওতায় ব্রাজিলসহ কয়েকটি বড় সরবরাহকারী দেশের জন্য আলাদা আমদানি কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোটা অতিক্রম করলে অতিরিক্ত ৫৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। এই ব্যবস্থা তিন বছরের জন্য কার্যকর থাকার কথা।
চীনের বাজার ব্রাজিলের গরুর মাংস রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর ব্রাজিল চীনে প্রায় ১৭ লাখ টন গরুর মাংস রপ্তানি করেছিল। চলতি বছরের নির্ধারিত কোটা সেই পরিমাণের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফলে কোটার বাইরে রপ্তানিতে বাড়তি শুল্ক আরোপ ব্রাজিলের মাংস রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
ব্রাজিলের রপ্তানিকারকেরা এরই মধ্যে কোটার সীমা দ্রুত পূরণ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সতর্ক ছিলেন। আগস্টে চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ব্রাজিলের জন্য নির্ধারিত কোটার প্রায় ৯০ শতাংশ তখনই ব্যবহার হয়ে গেছে। এরপর সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তা পুরোপুরি শেষ হওয়ার খবর আসে।
চীনের পক্ষ থেকে অবশ্য এটিকে শুধু ব্রাজিলকে লক্ষ্য করে নেওয়া ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করা হয়নি। একই ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্যান্য বড় গরুর মাংস সরবরাহকারী দেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। চীনের বাণিজ্য কর্তৃপক্ষের যুক্তি, অতিরিক্ত আমদানির চাপ থেকে দেশটির অভ্যন্তরীণ গবাদিপশু ও মাংস উৎপাদন খাতকে সুরক্ষা দেওয়াই এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।
ফলে চীন-ব্রাজিল বাণিজ্যে গরুর মাংস এখন নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কোটার বাইরে রপ্তানি চালু রাখতে হলে ব্রাজিলের রপ্তানিকারকদের বাড়তি শুল্কের প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে।
তথ্য সূত্র- ইয়াহু নিউজ।