নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ নভেম্বর, ২০২২, 10:21 PM
ডিবি পরিচয়ে ডাকাতি প্রস্তুতকালে কুখ্যাত কাউসার বাহিনীর ৪ সদস্য গ্রেফতার
সাম্প্রতিক সময়ে মহাসড়কে বেশকিছু ডাকাতির ঘটনা প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে র্যাব-৩ এই সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রদের গ্রেফতারে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারী শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন এলাকায় জাঙ্গাল গ্রামস্থ সুন্দরবন ফিলিং স্টেশনের পার্শ্বে কতিপয় ডাকাত দল কর্তৃক ডাকাতি প্রস্তুতিকালীন সময় র্যাব-৩ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল ৯ নভেম্বর ২২ ইং গভীর রাতে অভিযান পরিচালনা করে সংঘবদ্ধ দুর্ধর্ষ ডাকাত দলের সর্দার মোঃ কাওসার আলী (৩০)মোঃ আব্দুল্লাহ আল-মামুন (৪০) মোঃ আলী আকবর (২৪)মোঃ ইমামুল হক (২৭)কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব-৩ ।
ধৃত আসামীদের নিকট হতে ২ টি ডিবি জ্যাকেট, ১ টি র্যাবের জ্যাকেট, ১ ওয়াকিটকি সেট, ১ টি হ্যান্ডকাপ, ১টি ভুয়া পুলিশ আইডি কার্ড, ১ টি এনআইডি কার্ড, ১টি মানিব্যাগ, ১টি লেজার লাইট, ১ টি ব্যাগ, ১ টি মোবাইলফোন এবং নগদ ৩,৬৯,০০০/- টাকা উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য যে, উক্ত ডাকাত দলের ১ জন সদস্যের মধ্যে ১ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং ১ ডাকাত পলাতক রয়েছে। পলাতক ডাকাতদের গ্রেফতারের জন্য র্যাব-৩ গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানায় ডাকাত দলের সর্দার মো. কাওসার আলী নিজেকে ডিবি পুলিশের এএসপি পদবী, মো. মামুন ডিবি পুলিশের ওসি, মো. আলী আকবর র্যাবের এসআই এবং মো. এনামুল ডিবি পুলিশের কনস্টেবল পরিচয় দিয়ে ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাতের আধাঁরে ঘুরে বেড়ায়। ধৃত আসামীরা জন-সমাগমহীন ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে সুযোগ বুঝে ডিবি ও র্যাবের জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় চলাচলকৃত যাত্রীবাহী বাসকে লেজার লাইটের মাধ্যমে গতিরোধ করে ভুয়া ডিবি ও র্যাবের পরিচয় দিয়ে টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল এবং অন্যান্য মূল্যবান দ্রব্য-সামগ্রী লুটপাট করে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় গৃহ ডাকাতি, সড়ক ডাকাতি, গরুবাহী ট্রাক, মালবাহী ট্রাক ও বিভিন্ন মালামালের গুদামে ডিবি ও র্যাবের জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় ডাকাতি করে থাকে। উক্ত চক্র গত ৩-৪ বছর যাবৎ ডাকাতি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তাদের মূল টার্গেট নিউমার্কেট এবং পল্টন এলাকার ব্যাংকের কাস্টমার। যখন কোন এলাকায় ডাকাতির কার্যক্রম পরিচালনা করে তখন ডাকাত দলের সর্দার কাওসার সবাইকে নিয়ে বস্তিতে তাদের ভাড়াকৃত বাসায় সমবেত হয়ে সেখান থেকে ডাকাতির স্থান রেকি করে। যখন কোন ব্যাংকের কাস্টমার ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে অন্যত্র গমন করে তখন ডাকাত দলের গোয়েন্দা সদস্য উক্ত ব্যক্তিকে অনুসরণ করে সুযোগ বুঝে তার টাকা এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে নেয়। এ পর্যন্ত উক্ত চক্র ঢাকা কুমিল্লা মহাসড়ক এবং মাওয়া হাইওয়ে রোডে ১৫-২০টির অধিক ডাকাতি করেছে। ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি হতে অর্জিত অর্থের মাধ্যমেই তারা জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। ধৃত ইমামুলের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা রয়েছে।গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।