নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ এপ্রিল, ২০২৬, 2:03 PM
৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা, ৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আর এই বৃষ্টির কারণে দেশের পাঁচ জেলায় বন্যা হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ জেলার মধ্যে ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনায় বন্যা শুরু হয়ে গেছে। অন্য তিনটি জেলাতেও নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার নিচু এলাকায় এরই মধ্যে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল মঙ্গলবার পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়। গতকাল রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রাজধানীতে আজ সকাল থেকেই বৃষ্টি চলছে। আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেছেন, এ বৃষ্টি যে কোনো এলাকায় একটানা হবে তা নয়। থেমে থেমে বিভিন্ন এলাকায় হতে পারে। বৃষ্টি চলতে পারে আগামী ৪ মে পর্যন্ত। এদিকে দেশের চারটি নদীর পানি এরই মধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে মনু নদী ছাড়া বাকি তিনটি নদী নেত্রকোনার ওপর দিয়ে প্রবাহিত। পানি উন্নয়ন বোর্ড তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভুগাই কংস নদীর পানি বিপদসীমার ৮২ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর বাইরে সুরমা, কুশিয়ারা নদীর পানিও এক থেকে দেড় মিটারের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া। তিনি বলেন, এসব নদী আকারে ছোট। তাই ভারী বৃষ্টি হলে এভাবে পানি বেড়ে যায়। তবে বৃষ্টি কমে গেলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।