ঢাকা ১০ মার্চ, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
দেশের সব মেডিকেল কলেজের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে ৪ বাংলাদেশি মারা গেছেন : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ভিজিটর ভিসা নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের বিশেষ সতর্কবার্তা মিরপুরে বহুতল ভবনে আগুন এলপি গ্যাসের দাম ৪১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব ৫ মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টার নাম সংশোধন সরকারি দলের সংসদীয় সভা ১১ মার্চ চাঁদপুরে মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ঈদের ছুটি পাচ্ছেন না যারা নৌ-পুলিশের প্রধানসহ ৫ অতিরিক্ত আইজিপিকে বাধ্যতামূলক অবসর

কাল থেকে শুরু ফ্যামিলি কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ মার্চ, ২০২৬,  11:05 AM

news image

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক (পাইলট) কার্যক্রম আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে। রাজধানীর কড়াইল এলাকায় নারীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই দিনই সুবিধাভোগীদের কাছে মোবাইল ফোনে প্রথম মাসের নগদ সহায়তা পৌঁছে যাবে। এই কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে আর বাণিজমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত থাকবেন সুনামগঞ্জে। 

প্রকল্পের বিস্তারিত জানাতে আজ সোমবার দুপুর আড়াইটায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাল্টিপারপাস হলে সংবাদ সম্মেলন করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১৪ উপজেলার একটি করে ওয়ার্ডে এই কার্ড দেওয়া হবে। এর আওতায় প্রতি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা পাবে। এ বিষয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। 

কয়েক দিন আগে সরকারের তরফে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বগুড়ায় হবে বলে জানানো হয়েছিল, পরে তা পরিবর্তন করা হয়। এখন ঢাকার কড়াইল এলাকায় উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

যেখানে দেওয়া হবে কার্ড 

মঙ্গলবার থেকে যেসব এলাকায় পরীক্ষামূলক ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে সেগুলো হচ্ছে– রাজধানীর কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি, ভাসানটেক বস্তি, মিরপুর সার্কেল বা শাহ আলীর ওয়ার্ড-৮, আলিমিয়ার টেক বস্তি ওয়ার্ড-১৪ ও বাগানবাড়ি বস্তি এলাকা। রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাসন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ।

পাঁচ স্তরের কমিটি

উপকারভোগী নির্বাচন ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে পাঁচ স্তরের কমিটি কাজ করবে। এর মধ্যে রয়েছে উপজেলা কমিটি (শহর কমিটি), ইউনিয়ন কমিটি, পৌর কমিটি (শহর) ও ওয়ার্ড কমিটি। সব কমিটির ওপরে থাকবে মন্ত্রিসভা কমিটি। অর্থমন্ত্রী এই কমিটির সভাপতি। আর কমিটির সদস্য সচিব সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। এরপর জাতীয় কারিগরি ও তথ্য ব্যবস্থাপনা (ডেটা ম্যানেজমেন্ট) কমিটি। এ কমিটির প্রধান সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

এ কর্মসূচির সরকারি নীতিপত্রে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড মূলত একীভূত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি। ব্রাজিলে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের কারণে দারিদ্র্য কমেছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায়ও এ ধরনের পরিবারকেন্দ্রিক সহায়তা কর্মসূচি চালু আছে, যাতে সফলতাও দেখা গেছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মূল দায়িত্বে থাকবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। তবে নারী ও শিশু, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থ, পরিকল্পনাসহ ১৪টি মন্ত্রণালয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরাসরি যুক্ত থাকবে। এখন পাইলটিং প্রকল্প শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের সব পরিবার এই কার্ড পাবে। তবে এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবার। কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিশ্বাস, কোনো ধরনের ধর্মীয় ডিসক্রিমিনেশন– কিছুই হবে না। আগামী চার মাসের মধ্যে পাইলটিং কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবে। 

জানা যায়, পরিবারে থাকা মা অথবা নারীপ্রধানের নামে এই কার্ড ইস্যু করবে সরকার। কার্ডের মালিকের বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে। কার্ডে নাগরিকের সব ধরনের তথ্য থাকবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই কার্ডকে সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ডে রূপান্তর করা হবে। 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম