ঢাকা ০৯ জুলাই, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সিলেট ও চট্টগ্রামে ১০ স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যার আশঙ্কা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা করে পালালো পাষণ্ড স্বামী প্রাথমিকের বৃত্তির ফল আজ প্রকাশ হচ্ছে না ইরানের ‘হত্যার তালিকায়’ শীর্ষে আমি: ট্রাম্প ফ্রান্সের বিপক্ষে মহারণের আগে বড় ধাক্কা মরক্কোর পাহাড় ধসে কক্সবাজারে দুই শিশুর মৃত্যু বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশব্যাক করা ৪ জনকে ফেরানো হলো ভারতে বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চ মাতাবেন যারা সংবিধানে ফিরেছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ৮ সেনা নিহত

“মালি থেকে শান্তিরক্ষী প্রত্যাহার জাতিসংঘের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া”

#

১০ জুলাই, ২০২৩,  4:56 PM

news image

-অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া-

স্বাধীনতার পর থেকেই এদেশে  নানাবিধ গুজব ছড়িয়ে আসছে বিএনপি জামায়াত। তারা দেশের অভ্যন্তরে ও বাহিরে নানান রকম গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এদেশের রাবের নিষেধাজ্ঞাতেও বিএনপি জামায়াতের হাত রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ একদিকে দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ঠিক সেসময়ই কূটসা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোতে ব্যস্ত বিএনপি জামায়াত। তারা তাদের  কূটচালের  মধ্যে নতুন করে যোগ করেছে মালিতে শান্তি রক্ষী বাহিনী নিয়ে গুজব ছড়ানো। প্রতিবছর  পৃথিবীতে  বিভিন্ন  দেশের  শান্তি  প্রতিষ্ঠার  জন্য  জাতিসংঘ  বিভিন্ন  দেশের  শান্তিরক্ষী  বাহিনী  প্রেরণ  করে।  শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর জাতিসংঘ পুনরায় সে শান্তিরক্ষী ফিরিয়ে আনে। এসব শান্তিরক্ষী বাহিনীগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকেই নেওয়া হয়। জাতিসংঘের এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বাংলাদেশ থেকে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা বাহিনীতে প্রচুর পরিমাণে লোক নিয়ে থাকে। বাংলাদেশ শান্তি রক্ষা বাহিনীর লোক নেওয়ার দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে অবস্থান করছে।  গত ৩০ বছর ধরে বাংলাদেশের  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যগণ শান্তিরক্ষা মিশনের শান্তিরক্ষার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। শুধু কাজ করে যাচ্ছে না বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যগণ সুনামের সাথে শান্তি রক্ষার ও প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সোমালিয়া, জর্জিয়া, সিয়েরালিওন ,পশ্চিম সাহারা  বিভিন্ন দেশে শান্তি রক্ষার জন্য কাজ করেছে। বর্তমানে মালিতে শান্তি রক্ষার জন্য বাংলাদেশের ১৭০০ সদস্যদের কাজ করছে। এর মধ্যে সামরিক বাহিনীর প্রায় ১৪০০ এবং পুলিশ বাহিনীর ৩০০ সদস্য কাজ করছে। সামরিক বাহিনী মোতায়নের ক্ষেত্রে আফ্রিকার দেশ শাদের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মিশর। বর্তমানে হুট করে আফ্রিকার দেশ মালি ঘোষণা করছে তাদের শান্তিরক্ষী বাহিনী আর রাখতে চায় না। মালিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনার জন্য শান্তিরক্ষী বাহিনীকে দায়ী করছে মালি সরকার। শান্তিরক্ষী বাহিনীর ফেরত নেওয়া এটি জাতিসংঘের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। জাতিসংঘ চাইলে যেকোন দেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর প্রেরণ করতে পারে আবার চাইলে তারা ফিরিয়ে আনতে পারে। এখন যদি জাতিসংঘ তাদের শান্তিরক্ষী বাহিনী মালিক থেকে ফিরিয়ে আনতে চায় তাহলে  এটা  একটা  স্বাভাবিক  প্রক্রিয়ায়  বলে  গণ্য  হবে।  আমাদের  দেশের  কিছু  লোক  দেশবিরোধী  ষড়যন্ত্রে  লিপ্ত  মালি শান্তিরক্ষা  বাহিনী  নিয়ে।  আর  এই  ষড়যন্ত্রে  ভূমিকা  রাখছেন  বিএনপি  জামায়াত।  বিএনপি  জামায়াত  মালির  শান্তি  রক্ষা বাহিনীর  প্রত্যাহার  বিষয়ে  নানা  রকম  গুজব  ছড়াচ্ছে।  এই  গুজব  ছড়িয়ে  তারা  মালিতে  অবস্থিত  বাংলাদেশের  ১৭০০ 

শান্তিরক্ষী বাহিনীকে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শুধু ১৭০০ বাহিনীকেই তারা বিপরীত দিকে ঠেলে দিচ্ছে না বরং বিশ্বের বুকে  বাংলাদেশের  আইন-শৃঙ্খলা  বাহিনীর  নামে  দুর্নাম  ছড়াচ্ছে।  এতে  বাংলাদেশকে  খাটো  করা  হচ্ছে  এবং  আগামী নির্বাচনে  বিএনপি  জামায়য়াত  দেশের  আইন-শৃঙ্খলা  রক্ষাকারী  বাহিনী  দিয়েও  রাজনীতি  করার  চেষ্টা  করছে।  দেশের অভ্যন্তরে কোন দল গুজব ছড়ানো দেশবিরোধী কার্যক্রম এগুলো সর্বদাই ছড়িয়ে আসছে বিএনপি জামাত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনা যখনই বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করেছেন ঠিক তখনই ষড়যন্ত্রে  লিপ্ত  হচ্ছে  বিএনপি  জামাত।  বাংলাদেশের  মানুষ  তাদেরকে  অবশ্যই  এর  সমুচিত  জবাব  দেবে  এবং  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সামরিক শান্তিরক্ষী পাঠানোর ক্ষেত্রে  বাংলাদেশ  কয়েক বছর ধরে  সর্বোচ্চ  অবস্থানটি  ধরে রেখেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিন পর্যন্ত ৩৬ মাসের মধ্যে ২০ মাসই বাংলাদেশ শীর্ষে ছিল। এ সময় বাংলাদেশের আট হাজার ৬১৯ জন পুরুষ ও ২২৪ জন নারী মিলিয়ে আট হাজার ৮৪৩ জন শান্তিরক্ষী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী প্রায় দুই যুগ  ধরে বিশ্বের ৫৪টি মিশনে ৩৮টি দেশে শান্তিরক্ষায় অনন্য ভূমিকা রেখে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা দেশের গৌরব বাড়িয়েছেন। এ পর্যন্তদায়িত্ব পালন করেছেন এক লাখ ১৮ হাজার ৯৮৫ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী। বর্তমানে ১২টি দেশ-আইভরিকোস্ট, লাইবেরিয়া, সুদান, ডিআর কঙ্গো,পশ্চিম সাহারা, হাইতি, দক্ষিণ সুদান এবং লেবাননে মোট আট হাজার ৯৩৬ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিয়োজিত। এই ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে এটা স্পষ্ট হয়, বিএনপির লক্ষ্য রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধন করা ও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করা। তবে দলটি এবং তাদের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্য এবং খাসলত দেশের মানুষ হাড়ে হাড়ে চেনে, জানে। ইতিমধ্যে তাদের মুখোশ খুলে গেছে দেশবাসীর সামনে। জনসমর্থন ‘শূন্য’ এর নিচে নেমে গেছে তাদের। আর তাই জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বিএনপি। যার অংশ হিসেবে আপাতত তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। দেশে মানবাধিকার নেই, রাজনৈতিক কর্মসূচি করা যাচ্ছে না, বাকস্বাধীনতা নাই- এসব দাবি করছেন বিএনপি নেতারা বাকস্বাধীনতার সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে পত্রিকায় এবং গণমাধ্যমে বিবৃতি ও কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে। আমরা বিএনপির কাছ থেকে রাজনৈতিক দল হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি। রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও গুজব না ছড়িয়ে তাদের আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রতি নেওয়ার আহ্বান জানাই। সাংবিধানিক পন্থায় একমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন হতে পারে।

লেখক: অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া
ট্রেজারার
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
সাবেক চেয়ারম্যান
ট্যুরিজম অ্যান্ড হস্পিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম