ঢাকা ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ভোটের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের ঢল, ভাড়া বেশী নেয়ায় সড়ক অবরোধ সন্দ্বীপে বিএনপি প্রার্থীর ১৪ দফা নির্বাচনী অঙ্গীকার ঘোষণা পদত্যাগ করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূলে রয়েছে: মির্জা ফখরুল নির্বাচন উপলক্ষে টাকা বিতরণ করলে কঠোর শাস্তি পরাজয়ের মুখে টাকা দিয়ে ভোট কিনছে একটি দল : বিএনপি সম্মিলিত ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিয়ে যা বললেন উপদেষ্টা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন ৫ লাখের বেশি প্রবাসী নেত্রকোনায় ভোট কেন্দ্রে আগুন

৯ জনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলার রায় আজ

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ নভেম্বর, ২০২৩,  10:55 AM

news image

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বাগেরহাটের খান আকরামসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহীনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করবেন। রায় ঘোষণার জন্য গত মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহীনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই দিন ধার্য করেন। এ মামলায় ৯ আসামির মধ্যে খান আকরাম হোসেন (৬০), শেখ মোহম্মদ উকিল উদ্দিন (৬২), মো. মকবুল মোল্লা (৭৯) কারাবন্দি। আর পলাতক আসামিরা হলেন খান আশরাফ আলী (৬৫), সুলতান আলী খাঁন (৬৮), রুস্তম আলী মোল্লা (৭০), শেখ ইদ্রিস আলী (৬১), শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল (৬৪), ও মো. মনিরুজ্জামান হাওলাদার (৬৯)। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর রানা দাসগুপ্ত, তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিদের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগগুলো হলো-

অভিযোগ-১ : ১৯৭১ সালের ২৬ মে ১৫-২০ জন রাজাকার ও ২৫-৩০ জন পাকিস্তান দখলদার সেনাবাহিনীর সদস্যসহ বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানাধীন চাপড়ী ও তেলিগাতীতে নিরীহ নিরস্ত্র মুক্তিকামী মানুষের ওপর অবৈধভাবে হামলা চালিয়ে ৪০-৫০টি বাড়ির সব মালামাল লুণ্ঠন করে, বাড়িঘর অগ্নিসংযোগে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে, দুজন নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখম করে এবং ১০ জন নিরীহ নিরস্ত্র স্বাধীনতার পক্ষের মানুষকে গুলি করে হত্যা করে।

অভিযোগ-২ : ১৯৭১ সালের ৭ জুলাই আসামিরা বাগেরহাট জেলার কচুয়া থানাধীন হাজরাখালী ও বৈখালী রামনগরে হামলা চালিয়ে অবৈধভাবে নিরীহ নিরস্ত্র স্বাধীনতার পক্ষের চারজন লোককে আটক ও অপহরণ করে আবাদের খালের ব্রিজে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেয়।

অভিযোগ-৩ : ১৯৭১ সালের ১৩ নভেম্বর বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানাধীন ঢুলিগাতী গ্রামে হামলা চালিয়ে দুজন নিরস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাকে অবৈধ আটক, নির্যাতন ও গুলি করে হত্যা করে।

অভিযোগ-৪ : ১৯৭১ সালের ১৭ নভেম্বর বাগেরহাট জেলার কচুয়া থানাধীন বিলকুল ও বিছট গ্রামে হামলা চালিয়ে চারজন নিরীহ নিরস্ত্র স্বাধীনতার পক্ষের লোককে আটক ও অপহরণ করে কাঁঠালতলা ব্রিজে এনে নির্যাতন করার পর গুলি করে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়।

অভিযোগ-৫ : ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর বাগেরহাট জেলার কচুয়া থানাধীন বিলকুল গ্রাম হতে নিরস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আলী নকীবকে অন্যায় আটক ও অপহরণ করে মোরেলগঞ্জ থানার দৈবজ্ঞহাটির গরুর হাটির ব্রিজের ওপরে নিয়ে নির্যাতন করার পর গুলি করে হত্যা করে।

অভিযোগ-৬ : ১৯৭১ সালের ১৬ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার কচুয়া থানাধীন উদানখালী গ্রামে হামলা চালিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের নিরীহ নিরস্ত্র উকিল উদ্দিন মাঝিকে অবৈধভাবে আটক করে হত্যা করে এবং তার মেয়ে তাসলিমাকে অবৈধভাবে আটক ও অপহরণ করে কচুয়া রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে আসে। কচুয়া রাজাকার ক্যাম্প ও আশপাশের রাজাকার ক্যাম্পে দীর্ঘদিন অবৈধভাবে তাসলিমাসহ চারজনকে আটকিয়ে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ দখলদারমুক্ত হলে মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকার ক্যাম্প তল্লাশি করে ভিকটিম তাসলিমাকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে পৌঁছে দেন।

অভিযোগ-৭ : বাগেরহাট জেলার কচুয়া থানাধীন গজালিয়া বাজারে হামলা চালিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরীহ নিরস্ত্র শ্রীধাম কর্মকার ও তার স্ত্রী কমলা রানী কর্মকারকে অবৈধভাবে আটক করে নির্যাতন করে। আসামিরা শ্রীধাম কর্মকারকে হত্যা করে কমলা রানী কর্মকারকে জোর করে অপহরণ করে কচুয়া রাজাকার ক্যাম্পে এনে আটকে রাখে। উল্লিখিত আসামিসহ কচুয়া রাজাকার ক্যাম্প ও আশপাশের রাজাকার ক্যাম্পে কমলা রানী কর্মকারসহ অন্য চারজনকে দীর্ঘদিন আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। প্রায় এক মাস শারীরিক নির্যাতনের পর কমলা রানী কর্মকার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

২০১৭ সালের ৩১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেয়া হয়। পরে চার্জ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম