ঢাকা ১৯ জুন, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সাভারে জনগনের চাহিদায় ফুতপাত দখলমুক্ত করলো সাভার উপজেলা প্রশাসন আশুলিয়ায় মাদ্রাসার নির্মানাধীন ভবন থেকে ২ রাউন্ড গুলিসহ বিদেশি পিস্তল উদ্ধার সাপাহারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে স্টান্ডিং অর্ডার অন ডিজাষ্টার'র সভা অনুষ্ঠিত সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে হবে এইচএসসি পরীক্ষা : শিক্ষামন্ত্রী হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু প্রাথমিক শিক্ষার সব দপ্তরের জন্য জরুরি নির্দেশনা স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলেন অভিনেতা আলভী নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান নেত্রকোনায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু সাগর-রুনি হত্যা: ১২৭ বারের মতো পেছালো তদন্ত প্রতিবেদন

হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেই ইরান যুদ্ধ শেষ করতে চান ট্রাম্প : ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩১ মার্চ, ২০২৬,  10:54 AM

news image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সহযোগীদের জানিয়েছেন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত না হলেও তিনি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান শেষ করতে আগ্রহী। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করা এখন তার প্রধান অগ্রাধিকার নয়, বরং দ্রুত সময়ের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান সমাপ্ত করাই তার লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যার মাধ্যমে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন হয়। এই পথ আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র জোরপূর্বক এই প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য বৃহৎ সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে যুদ্ধ নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে চলে যেতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে এই সংঘাত সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে গেলে তা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নীতিনির্ধারকেরা।

এ অবস্থায় ওয়াশিংটনের নতুন কৌশল হিসেবে সামনে এসেছে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেওয়া। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য এখন ইরান-এর নৌবাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংস করা। এতে করে তেহরানের সামরিক চাপ কমানো এবং তাদের কৌশলগত সক্ষমতা হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ইরান যদি তার অবস্থানে অনড় থাকে এবং প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র তার ইউরোপীয় ও উপসাগরীয় মিত্রদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে পারে। কর্মকর্তাদের মতে, প্রয়োজনে এই মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার উদ্যোগ তাদের হাতেই তুলে দেওয়া হতে পারে।

এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আক্রমণ শুরু করার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ এ পর্যন্ত ১,৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

হামলার পাল্টা জবাবে ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইরান।

তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম