ঢাকা ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় বিস্ফোরণের পর আগুন, নিহত ৭ হাম উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু, ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি বেকারত্ব কমাতে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় জোর দেওয়ার তাগিদ রাষ্ট্রপতির প্রথম স্ত্রীসহ এমপি নজরুল ইসলাম রিমান্ডে ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক এনসিপির, সন্ধ্যায় মিছিল সরকার বাধ্য হয়েই তেলের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নৌসদস্যের মৃত্যু জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহে ইউনিয়ন পরিষদকে ‘বড় বরাদ্দ’ দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর: মাহদী আমিন স্বাস্থ্যখাতের ওপর সরকারের বড় সাফল্য নির্ভর করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত বেড়ে ৮২

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,  11:38 AM

news image

সুদানে সোনার খনি ধসে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির পশ্চিম কর্দোফান অঞ্চলের আল জারা এলাকায় একটি খনি ধসে অন্তত ৮২ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


এলাকাটি নিয়ন্ত্রণকারী আধাসামরিক র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, এখনও অজ্ঞাতসংখ্যক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ চালানো হলেও পাথর ও মাটি সরাতে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।


মঙ্গলবার খনির বিভিন্ন অংশ ধসে পড়তে শুরু করলে কয়েক ডজন ক্ষুদ্র খনি শ্রমিক মাটির নিচে আটকা পড়েন। রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পরদিন সকাল পর্যন্ত ৮২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


বেঁচে যাওয়া এক খনি শ্রমিক খায়ের আল সায়েদ জাবারা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কতজন আটকা পড়ে আছেন, তা তারা জানেন না। জীবিত কিংবা মৃত সবাইকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে পাথর ও মাটি সরানোর জন্য ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন।


আরেক খনি শ্রমিক আল আমিন সুলেইমান বলেন, ওই এলাকায় খনির মুখগুলো খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। একটি খনি ধসে পড়লে আশপাশের অন্য খনিগুলোও ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তার ধারণা, মাটির নিচে আটকে থাকা অনেকেই আর জীবিত নেই।


সুদানে খনি ধস নতুন কোনো ঘটনা নয়। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় পরিত্যক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই কাজ করেন হাজারো শ্রমিক। সামান্য দৈনিক মজুরির আশায় তরুণদের অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এসব খনিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।


সুদানের সোনার খনি শিল্পের বড় একটি অংশই ক্ষুদ্র ও অনানুষ্ঠানিক খনির ওপর নির্ভরশীল। এসব খনিতে শ্রমিকেরা হাত ও সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে মাটি খুঁড়ে সোনা উত্তোলন করেন। পাশাপাশি সোনা পরিশোধনের কাজে পারদ ও সায়ানাইডের মতো বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।


২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে চলমান যুদ্ধে দেশটির অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের অর্থায়নে সোনা ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে অনেক তরুণ ঝুঁকিপূর্ণ সোনা অনুসন্ধানের কাজে যুক্ত হয়েছেন। যাদের অধিকাংশই পশ্চিম কর্ডোফানের আল জারা-র মতো অনিয়ন্ত্রিত খনিগুলোতে কাজ করছে।


উল্লেখ্য, আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম দেশ সুদান মহাদেশের অন্যতম প্রধান সোনা উৎপাদক। দেশটি জানিয়েছে, গত বছর ৭০ টন সোনা উৎপাদন হয়েছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ উৎপাদন।


সূত্র : গালফ নিউজ

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম