NL24 News
০৯ মে, ২০২৬, 2:31 PM
সাভারে 'কুলি বিটের' টাকা দিতে নারাজ মুরগি ব্যবসায়ীরা, চলছে ধর্মঘট
ফয়জুল ইসলামঃ সম্প্রতি সাভার পৌরসভায় গাড়ি থেকে মুরগি লোড-আনলোডের জন্য 'কুলি বিট' বাবদ মুরগি প্রতি এক টাকা করে নির্ধারণ করে ইজারা দেয় সাভার পৌরসভা। কিন্তু এই টাকা ইজারাদারদের দিতে নারাজ মুরগি ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, তারা কুলি ব্যবহার করেন না, নিজেদের মুরগি নিজেরই লোড-ডাউনলোড করেন। ফলে মুরগির প্রতি এক টাকাকে চাঁদা হিসেবে উল্লেখ করে তারা মুরগির সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন। অভিযোগ দিয়েছেন থানায়। এর প্রভাব পড়েছে সাভারের বাজারে। ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতারা।
মুরগি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সাভার পৌরসভার রেডিও কলোনি হতে ব্যাংক টাউন পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশে মালামাল বহনকারী পরিবহন লোড-আনলোডের জন্য ‘কুলি বিট’ নামে ইজারা দেয় সাভার পৌরসভা। আগে মুরগির প্রত্যেক গাড়ি থেকে ৮০ টাকা করে দেয়া হত। কিন্তু বর্তমানে ইজারাদারের লোকজন মুরগি নামানো এবং উঠানোর সময় ‘কুলি বিট’ হিসেবে এক টাকা করে নিচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা নিজেরাই শ্রমিক দিয়ে মালামাল ওঠানামা করালেও এই ‘চাঁদা’ দিতে হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে অনেক সময় গাড়ি আটকে রাখা এবং চালকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটছে।
সাভার-আশুলিয়া মুরগি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, মুরগির গাড়িপ্রতি ৮০ টাকা করে পার্কিং চার্জ নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে। কিন্তু নতুন ইজারাদার আলমগীর হোসেন, শ্রাবণ মিয়া ও জুয়েল মিয়াসহ আরও কয়েকজন প্রতি পিস মুরগির জন্য এক টাকা করে কুলি বিটের নামে টাকা চাচ্ছে। আমরা এই টাকা দিব না। কারণ এক একটি গাড়িতে এক হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০টও পর্যন্ত মুরগি থাকে। সে হিসেবে গাড়ি প্রতি এক হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। প্রয়োজনে আমরা ৮০ টাকার জায়গায় ১৫০ টাকা বা ২০০ টাকা পর্যন্ত দিতে পারি গাড়ি প্রতি। কিন্তু মুরগির প্রতি এক টাকা করে এতো টাকা দেয় তো আমাদের পক্ষে সম্ভব না। এটা পুরোপুরি চাঁদাবাজি। এর আইনি ভিত্তি নেই।
যতক্ষণ পর্যন্ত সমাধান না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে বলেও জানা এই ব্যবসায়ী নেতা। এদিকে ‘কুলি বিট’ ইজারাদার আলমগীর হোসেন মোল্লা বলেন, আমি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে পৌরসভার থেকে ইজারা নিয়েছি। পৌরসভা থেকে আমাদেরকে মুরগিপ্রতি এক টাকা করে নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেই হিসাবে আমরা টাকা নিচ্ছি। এটা তো চাঁদা না। ব্যবসায়ীরা গাড়িপ্রতি যে ৮০ টাকার কথা বলছে এটা সঠিক নয়। ২০২০ সালে পৌরসভায় ত্রিপক্ষীয় এক সমঝোতার মাধ্যমে মুরগির প্রত্যেক গাড়ি থেকে ৩৫০ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছিল। কখনো ৮০ টাকা ছিল না।
বিষয়টি আমি ইউএনওকে জানিয়েছি। তিনি বসে সমাধান করতে বলেছেন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা আমার কাছে না এসে থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছেন। “কিন্তু ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, আমরা নাকি চাঁদা নিতেছি। ইউএনও সাহেবও আমাকে বলেছেন, মুরগির ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টা সমাধান করার জন্য। কিন্তু ব্যবসায়ীরা আমার কাছে আসেন না। তারা থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছেন। সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মুরগির ব্যবসায়ীরা আমার কাছে এসেছিলেন। আমি দুই পক্ষকে বসে এটা সমাধান করতে বলেছি। এটি তো এমন বিষয় না যে সমাধান হবে না। প্রয়োজনে ইজারাদারের দর কমিয়ে দেওয়া সুযোগ আছে।
তিনি বলেন, এর আগেও এক টাকা করে নির্ধারণ করা ছিল। সেই আলোকে এবারও এক টাকা করে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। তখন ব্যবসায়ীরা আন্দোলন করে এটি কমিয়ে ছিল। ফলে এবার আমি দুই পক্ষকে বলেছি বসে সমাধান করার জন্য। তারা থানায় আছে। সমাধান যদি সেখানে না হয় তখন আমরা উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে এটা সমাধান করে দেব এবং এটি নির্দিষ্ট দর বেঁধে দিব। তখন উভয় পক্ষকে এটি মানতে হবে।