ঢাকা ১৩ মে, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
একনেক সভায় ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার ৯ প্রকল্প অনুমোদন হাম ও উপসর্গে আরও ৮ জনের মৃত্যু দেশে বছরে ২৪ হাজার মানুষের মৃত্যু কারণ অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি: তথ্যমন্ত্রী সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্ল্যান্ট বসানোর ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর এপ্রিলে ৫২৭ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ৫১০ জন নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ১২ চূড়ান্ত অনুমোদন পেলো পদ্মা ব্যারাজ ২৭তম বিসিএসের বঞ্চিত আরও ৯৬ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন এসএসসি-এইচএসসি নিয়ে নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

দেশে বছরে ২৪ হাজার মানুষের মৃত্যু কারণ অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ মে, ২০২৬,  4:27 PM

news image

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) প্রবন্ধে জানানো হয়, ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের (আইএইচএমই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে প্রায় ২৪ হাজার মৃত্যু অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের কারণে হয়েছে। দিন দিন এ মাত্রা আরও বাড়ছে। বিশ্ব লবণ সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিচার্স ইনস্টিটিউটের সহায়তায় এক সেমিনারে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রশিক্ষণ কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক লবণ গ্রহণ ৫ গ্রামের কম হওয়া উচিত। তবে বাংলাদেশে বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপে দেখা গেছে, দেশে গড়ে একজন ব্যক্তি প্রতিদিন প্রায় ৯ গ্রাম লবণ গ্রহণ করেন, যা ডাব্লিউএইচওর সুপারিশের প্রায় দ্বিগুণ। সেমিনারে তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। শেষ ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত আইএইচএমই'র গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ স্টাডি অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মাত্রারিক্ত লবণ ব্যবহারের ঝুঁকিতে আছে। ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মৃত্যু উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, যার মধ্যে ১৬ লাখ ৭০ হাজার মৃত্যু সরাসরি উচ্চ সোডিয়াম খাদ্যাভ্যাসের কারণে অসংক্রামক রোগে হয়েছে। এ পরিপেক্ষিতে বাংলাদেশেও অসংক্রামক রোগ বাড়ছে। দেশে বছরে আনুমানিক ৫ লাখ ৭০ হাজার মানুষ মারা যায় এসব রোগে। ফলে দেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগজনিত, যার মধ্যে প্রায় ৫১ শতাংশ অকাল মৃত্যু হিসেবে চিহ্নিত। এরমধ্যে হৃদরোগ বর্তমানে এককভাবে দেশের মোট মৃত্যুর ৩৪ শতাংশ দায়ী। উচ্চ রক্তচাপ, যা এসব রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্ববর্তী কারণ মাত্রাতিরিক্ত লবণ খাওয়া। বাংলাদেশে প্রায় ২৪ হাজার মৃত্যু উচ্চ সোডিয়ামযুক্ত খাদ্যাভাসের কারণে হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় লবণ গ্রহণ কমানো একটি সহজ এবং ব্যয়সাশ্রয়ী উপায়। ব্যক্তিগত পর্যায়ে রান্নায় বা খাবারের টেবিলে পরিমিত লবণ ব্যবহার করা এবং কম লবণযুক্ত খাবার নির্বাচন করা স্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানানো হয় সেমিনারে। একই সঙ্গে সরকারের, জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের এবং খাদ্যশিল্পের সমন্বিত উদ্যোগ খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় লবণের পরিমাণ কমাতে অত্যন্ত জরুরি। এসময় বলা হয়, এই ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় লবণ গ্রহণ কমানোর জন্য বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে- প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে সোডিয়াম কমানোর জন্য পণ্য পুনর্গঠন ও শিল্পখাতে নিয়মনীতি প্রণয়ন; স্কুল, হাসপাতাল ও কর্মস্থলে কম লবণযুক্ত স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবেশ সৃষ্টি; ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং ব্যবস্থা চালু করা। যেন উচ্চ লবণযুক্ত খাবার সহজে চিহ্নিত করা যায়; জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও শিক্ষামূলক প্রচারণা; এবং খাদ্যে সোডিয়াম পরিমাণ ও জনগণের লবণ গ্রহণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ। এছাড়া স্বাদ বৃদ্ধির জন্য লবণের বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক ভেষজ ও মসলা ব্যবহার করা যেতে পারে। রসুন, আদা, গোলমরিচ, ওরেগানো, ধনিয়া, দারুচিনি, ভিনেগার, লেবু এবং অন্যান্য ভেষজ ও মসলা খাবারের স্বাদ বাড়াতে সাহায্য করে এবং একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে সহায়তা করে। বিএফএসএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিএনসিআরপি) ফারুক আহমেদ ও বিএফএসএর সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম