ঢাকা ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় বিস্ফোরণের পর আগুন, নিহত ৭ হাম উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু, ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি বেকারত্ব কমাতে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় জোর দেওয়ার তাগিদ রাষ্ট্রপতির প্রথম স্ত্রীসহ এমপি নজরুল ইসলাম রিমান্ডে ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক এনসিপির, সন্ধ্যায় মিছিল সরকার বাধ্য হয়েই তেলের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নৌসদস্যের মৃত্যু জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহে ইউনিয়ন পরিষদকে ‘বড় বরাদ্দ’ দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর: মাহদী আমিন স্বাস্থ্যখাতের ওপর সরকারের বড় সাফল্য নির্ভর করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়ার অভিযোগ, জাতিসংঘে পাকিস্তানকে আক্রমণ করল ভারত

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,  11:37 AM

news image

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে আবারও আক্রমণ করেছে ভারত। রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার অভিযোগ এনে ইসলামাবাদকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছে দিল্লির প্রতিনিধিরা। এসময় জাতিসংঘকে সন্ত্রাসবাদের আসল বাস্তবতা উপলব্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, বিশ্বের শীর্ষ সারির সন্ত্রাসী ও নির্দেশকরা কোন দুর্গম বা শাসনহীন সীমান্ত এলাকায় নয় বরং সাধারণ বেসামরিক লোকালয় ও সুরক্ষিত শহরের ভেতরে আশ্রয় পেয়েছিল।


পাকিস্তানকে সরাসরি ইঙ্গিত করে জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পারভাথানেনি জানান, ৯/১১ হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী ও আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনসহ খালিদ শেখ মোহাম্মদ, রামজি বিনালশিভ, ওয়ালিদ বিন আত্তাশ এবং মুস্তফা আহমেদ আল-হাউসাবির মতো কুখ্যাত সন্ত্রাসীরা দূরবর্তী কোনো আস্তানায় নয় বরং পাকিস্তানের নগর এলাকায় বহাল তবিয়তে বসবাস করছিল। তিনি বলেন, ৯/১১ হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা নির্দেশক আল-কায়েদা নেতারা কোনো নির্জন বুনো পরিবেশে বিচার এড়িয়ে লুকিয়ে ছিল না। বিশেষ করে ওসামা বিন লাদেন, যিনি ওই হামলার অর্থায়ন ও নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাকে ২০১১ সালের মে মাসে ‘অপারেশন নেপচুন স্পিয়ার’-এর মাধ্যমে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের এক সুরক্ষিত ও সামরিক নজরদারিতে থাকা লোকালয় থেকে খুঁজে বের করে নির্মূল করা হয়।


ভারতীয় প্রতিনিধি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যেসব শিথিল ও অনুকূল পরিবেশ ৯/১১-এর মাস্টারমাইন্ডদের আশ্রয় দিয়েছিল, সেই একই কাঠামো পরবর্তীতে লস্কর-এ-তৈয়বা (এলইটি) এবং জৈশ-এ-মোহাম্মদ (জেএম)-এর মতো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে স্থান, সমর্থন ও নিরাপত্তা দিয়ে আসছে। উল্লেখ্য, এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রশিক্ষণ শিবির ও উদ্বোধনী কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করেই ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ‌‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করে তাদের একাধিক ঘাঁটি দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল।


নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে হরিশ পারভাথানেনি দাবি করেন, এই সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে প্রতিনিয়ত নিজেদের নাম ও পরিচয় পরিবর্তন করছে। তিনি বলেন, যে একই অনুকূল পরিবেশ ৯/১১-এর রূপকারদের সুরক্ষা দিয়েছিল, তা বছরের পর বছর ধরে আল-কায়দার সহযোগী লস্কর-এ-তৈয়বা ও জৈশ-এ-মোহাম্মদের মতো সংগঠনকে অভয়ারণ্য, সমর্থন ও দায়মুক্তি দিয়ে আসছে। নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা কাঠামোর হাত থেকে বাঁচতে তারা নতুন নতুন ছদ্মবেশ ধারণ করছে এবং তাদের নেতৃত্ব ও প্রশিক্ষণ পরিকাঠামোকে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।


বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ভারতের এই শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, সন্ত্রাসবাদের অস্তিত্ব পুরোপুরি মুছে ফেলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে কোনো দেশেই এই ধরনের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বজায় না থাকে এবং কোনো সাধারণ নাগরিককে যেন আর তার স্বজন হারাতে না হয়।


সূত্র: এনডিটিভি

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম