ঢাকা ০২ নভেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, কাভার্ডভ্যানে আগুন বিকাশ-নগদ-রকেটের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জের বৈধতা নিয়ে রুলের শুনানি আগামীকাল শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৬৭০ পোশাক কারখানা: বিজিএমইএ সীমান্তের ওপারের ইশারায় অনেকে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট নিয়ে নতুন নিয়ম কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আবহাওয়ার আগাম বার্তা পাবেন কৃষকরা প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও যৌথ অভিযানে উপকূলে জলদস্যুতা কমেছে আজ টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন, মহাসড়কে ১০ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ

শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৬৭০ পোশাক কারখানা: বিজিএমইএ

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ নভেম্বর, ২০২৬,  1:50 PM

news image

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগ এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের প্রধান তিনটি শিল্পাঞ্চলে। এর জেরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর-ময়মনসিংহ ও সাভার-আশুলিয়া-জিরানী এলাকার ৬৭০টি পোশাক কারখানার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ না করেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক।


সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বিজিএমইএর বেলা সাড়ে ১১টার হিসাব অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট ২ হাজার ১৩৪টি পোশাক কারখানার মধ্যে চালু ছিল ১ হাজার ৪৬৪টি। বাকি ৬৭০টি কারখানার কার্যক্রম বন্ধ ছিল।


বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ শিল্পাঞ্চলে। এ দুই এলাকায় মোট ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ৩৮২টির শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বের হয়ে যান। এতে কর্মহীন হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭২ জন শ্রমিক।


অন্যদিকে, সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকায় ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২২৩টিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানার ৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫০ জন শ্রমিক কাজ না করেই বাড়ি ফিরেছেন।


রাজধানীর মিরপুরেও শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব পড়েছে। সেখানে ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৬৫টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৩ হাজার ৪৫০ জন শ্রমিক।


তবে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের চিত্র ভিন্ন। নারায়ণগঞ্জের ১৯৭টি এবং চট্টগ্রামের ৩১৪টি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের কোনো প্রভাব পড়েনি। এসব এলাকার সব কারখানায় স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে।


এর আগে রোববারও ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগ এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। চলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। পরে সাভার ও গাজীপুর এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়।


শিল্পাঞ্চলের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রোববারও সাভার-আশুলিয়ার ১৭৭টিসহ সারা দেশে মোট ৫২৯টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানায়, সহিংসতা ও নাশকতায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর মিরপুর ও গাজীপুর থেকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে।


এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্পকারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দ্রুত কারখানাগুলো চালু রাখা এবং শিল্পাঞ্চলে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম