ঢাকা ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় ইয়াবা তৈরির সরঞ্জামাদি ও ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ২ হাজার টাকা ছাড়াল ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম রাড্ডা ক্লিনিক দখলমুক্ত ঘোষণা, টাঙানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির সাইনবোর্ড প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ রূপপুরের জ্বালানিবাহী বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান সপ্তম দিনেও থামেনি চুয়েট আন্দোলন প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিতদের জন্য বড় সুখবর কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত টার্মিনাল থেকে যাত্রীসেবা শুরু সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাইবার আইনের অপপ্রয়োগ চাই না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালমনিরহাটে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪, আহত ৬

লাউসে বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রতারণা ও দালাল চক্রের ভয়াবহ চিত্র

#

০৫ মে, ২০২৬,  6:05 PM

news image

লাউস প্রবাসী প্রতিনিধি: লাউসে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য শ্রমিককে নিয়ে গিয়ে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র তাদের ওপর প্রতারণা ও নির্যাতন চালাচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন এজেন্সি ও স্থানীয় দালালরা শ্রমিকদের আকর্ষণীয় চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাউসে পাঠায়। তাদের বলা হয়—কোম্পানির মাধ্যমে বৈধ চাকরি, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, আকামা বা টিআরসি কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট, এক বছরের মাল্টিপল ভিসা এবং মাসে ৭০০ মার্কিন ডলার বেতন দেওয়া হবে। কাজ হিসেবে দেখানো হয় কম্পিউটার অপারেটরের মতো তুলনামূলক সহজ পেশা।

কিন্তু বাস্তবে লাউসে পৌঁছানোর পরই চিত্র ভিন্ন হয়ে যায়। বিমানবন্দরে রিসিভ করার পর প্রবাসী বাংলাদেশি দালালরা শ্রমিকদের পাসপোর্ট ও অতিরিক্ত ৫০০ ডলার জিম্মি করে নেয়। এরপর তাদের শহরের একটি হোটেলে আটকে রাখা হয়। সিম কার্ড দেওয়ার নাম করে ৩০ ডলার নেওয়া হলেও, স্থানীয় বাজারে এর প্রকৃত মূল্য অনেক কম—যা স্পষ্ট প্রতারণার প্রমাণ।

পরবর্তীতে এসব শ্রমিকদের চীনা পরিচালিত বিভিন্ন নির্মাণ বা খনির কাজে ৬০০ থেকে ১০০০ ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাদের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অমানবিক পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মাটির গভীরে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়, যেখানে যাতায়াতে প্রায় দুই ঘণ্টা লাগে এবং তীব্র গরম ও অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।

চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত বেতন ৭০০ ডলার হলেও, দালালরা তা থেকে বড় অংশ কেটে রেখে শ্রমিকদের হাতে মাত্র ৪০০ ডলার তুলে দেয়। অসুস্থতা বা কাজ করতে না পারলে কোনো বেতন দেওয়া হয় না। অধিকাংশ শ্রমিকই “ফ্রি ভিসা” অবস্থায় থাকায় প্রতি বছর নিজ খরচে ভিসা নবায়ন করতে বাধ্য হন।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—পাসপোর্ট, ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট ও টিআরসি কার্ড দালালরা জিম্মি করে রাখে এবং এসব কাগজ ফেরত পেতে আবারও ৫০০ ডলার দাবি করা হয়। অনেক শ্রমিক বাধ্য হয়ে এই অর্থ প্রদান করলেও, অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে কাগজপত্র ফিরে পান না।

ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই দালাল চক্র শ্রমিকদের বেতন আত্মসাৎ করছে এবং তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং ভুক্তভোগী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন প্রবাসীরা।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম