NL24 News
১৮ মার্চ, ২০২৬, 3:42 PM
রুট গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ
কে হোসাইন : রুট গ্রুপ অফ কোম্পানিজ নামের কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজ্জাকুল হোসেন (টুটুল) এর নামে জালিয়েতির অভিযোগ উঠেছে। অনুষন্ধানে জানা যায় যে ১৯৯৮ সালে ট্রেডিং ব্যবসা দিয়া শুরু করলেও ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ও সাধারণ মানুষের অর্থ প্রতারণা ও আত্মসাৎ করে আজ বহু কোম্পানির মালিক বনে গেছেন। এই প্রতিষ্ঠানটির চালিকা শক্তি হচ্ছে রুট ট্রেডিং কর্পোরেশন ও জামান কর্পোরেশন এবং তৈরি পোশাক, সুতা, সার, পোলট্রি ও মৎস্য খাদ্যসহ কয়েকটি খাতে এ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে সাধারণ ব্যবসায়ী ও ব্যাংক জালিয়াতির টাকায়। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রুট গ্রুপের নামে থাকলও রয়েছে অনেক প্রতরানার অভিযোগ। মুক্তখবর এর অনুষন্ধানে উঠে এসেছে তাদের প্রতারণার ফিরিস্তি।
প্রতারণা-১
রুট গ্রুপ এর দ্বারা প্রতারিত একজন অসহায় ভুক্তভোগী মাল সাপ্লাইকারী ব্যবসায়ী বলেন, এই কোম্পানির দুইজন দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা সকল প্রতিষ্ঠান দেখাশুনা করছে। যারা সরকারের উর্ধতন মহলে যোগাযোগ রক্ষাকরে এবং সাধারণ ব্যাবসায়ীদের পাওনা অর্থ পরিশোধ না করে তাদের হুমকি ধমকি দিয়ে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে অফিস থেকে বেড়ে করে দেয়। যে কারণে ভুক্তভুগি রুট গ্রুপ এর ম্যানেজার তরিকুল ইসলাম (তরুন) ও জুয়েল আহাম্মেদের বিরুদ্ধে বনানী থানায় একটি জিডি করেন। জিডি নং-২২৭৪, তারিখ: ২৮/০৫/২০২৫। জিডির পর বনানী থানা পুলিশ তৎপর হলে মালিক পক্ষ হতে তরিকুল ইসলাম (তরুন) ও কামরুজ্জামান (ডি এম ডি) ভুক্তভুগীর সাথে যোগাযোগ করে তার পাওনা ৪৬ লক্ষ টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করবে বলে প্রতিজ্ঞা করেন। যা পরবর্তীতে দিবো দিচ্ছি বলে সময় ক্ষেপন করে এবং যোগাযোগ করলে ধমকি দিয়ে ফোন কেটে দেয়। উক্ত ব্যাবসায়ী জানায়, আমার মতো এরকম আরো বহু পাওনাদার ব্যাবসায়ী আছে যারা পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে রুট গ্রূপের কর্মকর্তা দ্বারা মিথ্যা মামলা ও হেনস্তার শিকার হয়ে টাকা ফেরত পাওয়ার পরিবতে নিজেদের জানমাল রক্ষায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
ব্যাংক জালিয়াতি- ১
ব্যাংক জালিয়াতির শীর্ষে প্রতিষ্ঠানটি বহু ঘটনা মধ্যে ২০১৯ সালে রুট গ্রুপ পরিচালিত দুটি বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধার (শুল্কমুক্ত সুবিধা) অপব্যবহারের অভিযোগে পৃথক মামলা করেছে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বন্ড কমিশনারেট অর্থদণ্ড প্রদান করে রায় দিয়েছে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিষ্ঠান টির মধ্যে বিশেষ করে রানকা ডেনিম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে বন্ডেড কাঁচামাল অবৈধভাবে অপসারণের উদ্দেশ্যে মজুত করা এবং রানকা সোহেল কম্পোজিট টেক্সটাইলস মিলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে কাঁচামাল শুল্ককর পরিশোধ না করে অবৈধভাবে খালাস নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে বন্ড কমিশনারেট। গ্রূপের টেক্সটাইল খাতের প্রতিষ্ঠান রানকা ডেনিম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ও রানকা সোহেল কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার মোল্লারচর এলাকায় অবস্থিত দুটি বন্ডেড প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
ব্যাংক জালিয়াতি - ২
গ্রাহকের আস্থা বৃদ্ধি এবং ব্যাংকের ভীত অধিকতর শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি. খেলাপি বিনিয়োগ আদায়ের লক্ষ্যে নানাবিধ কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। তারই অংশ হিসেবে ০৭ জানুয়ারী, ২০২৫ তারিখে ব্যাংকের খেলাপি গ্রাহক রাঙ্কা ডেনিম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, রাঙ্কা সোয়েল কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, রুট ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেড এবং রুট অ্যাপারেলস লিমিটেড (রুট গ্রুপ) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোহাম্মদ রাজ্জাকুল হোসেন এর নিকট ব্যাংকের বকেয়া পাওনা প্রায় ৭৯৬.৩৬ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যে সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে উক্ত প্রতিষ্ঠানের অফিসের সামনে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাহী ও কর্মকর্তাগণ অবস্থান কর্মসূচী পালন করে।
শীর্ষ ঋণ খেলাপি কোম্পানিগুলির মধ্যে আলোচনায় এসেছে যখন তারা সার আমদানির জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে ঋণপত্র (এলসি) নথি জমা দিয়েছে, যা পরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত নয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। গোপন সূত্র জানা যায়, বর্তমানে ‘রুট গ্রুপ’ নামের এই কোম্পানিটির অধীনস্ত কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক প্রতারক এবং আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসীদের দ্বারা পরিচালিত! রুট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব রাজ্জাকুল হোসেন টুটুল (এমডি), উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব কামরুজ্জামান (ডিএমডি) প্রাক্তন দুর্ণিতীবাজ ও বহিস্কৃত সেনা সদস্য, তরিকুল ইসলাম (তরুন) (জিএম১), মিঃ জুয়েল আহমেদ (জিএম২) এবং রুট গ্রুপের বেশিরভাগ কর্মচারী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতারকচক্র এবং দেশবিরোধী আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসী জগতের সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এই গ্রুপের মালিক এবং কিছু দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি দ্বারা গঠিত সিন্ডিকেটটি বাংলাদেশ ব্যাংক, স্থানীয় বাজার, এজেন্ট, সাধারণ মানুষ এবং সরবরাহকারীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রতারণা করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব রাজ্জাকুল হোসেন টুটুল ও উপ-পরিচালক জনাব কামরুজ্জামান এবং কিছু কর্মকর্তা আত্মগোপনে রয়েছে। যে কারণে ভুক্তভুগীরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও জিডি দায়ের করেছেন এবং আরও নতুন মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, যদিও জনাব রাজ্জাকুল হোসেন এবং তার কোম্পানির কিছু কর্মকর্তা ব্যাংক এবং সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করার পর আত্মগোপনে রয়েছেন, তবুও কোম্পানিটি কিছু দুর্নীতিবাজ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি এবং ভ্যদ্র মুখোশধারী অপরাধীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে! কিছু কর্মকর্তা সাধারণ সরবরাহকারীদের ভয় দেখানোর জন্য রাজনৈতিক পরিচয় বিক্রি করে জীবনের শেষ সম্বল টুকু কেড়ে নিয়েছে। এবং তারা নতুন নতুন উপায় বের করে আরও অধিক অর্থ আত্মসাৎ করার পরিকল্পনা করছে। উল্লেখিত অপরাধ সম্পর্কে জানতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব রাজ্জাকুল হোসেন (টুটুল) এর সাথে যোগাযোগ করবার চেষ্টা করলে তার ব্যাক্তিগত নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। এবং অতিরিক্ত ব্যাবস্থাপনা পরিচালক জনাব কামরুজ্জামান এর সাথে যোগাযোগ করলে উনি আমেরিকায় আছেন বলে ফোন কেটে দেন। রুট গ্রুপ দেশের শীর্ষ ঋণ খেলাপিদের তালিকায় ৪৯তম স্থানে রয়েছে। রুট গ্রুপ বর্তমানে আনুমানিক ২-৩ হাজার কোটি টাকা ব্যাঙ্ক খেলাপি এবং সাধারণ ব্যাবসায়ীদের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আজ বহাল তবিয়তে বাংলাদেশ ও বিদেশে ব্যবসা পরিচালনা করছে! এই কোম্পানির বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ থাকলেও সরকার তাদের বিরুধ্যে কোন কার্যকরী ব্যাবস্থা নিচ্ছে না কেন সেটাই জনমনে প্রশ্ন! -চলবে