ঢাকা ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি কত নাটোরে বসতঘরে আগুন লেগে মা-মেয়ের মৃত্যু সন্ধ্যায় বিটিভিতে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান নির্বাচনি অপরাধের দ্রুত বিচারে ৫ দিনের জন্য ৬৫৭ বিচারক নিয়োগ বিশ্বকাপে ভারতে সঙ্গে খেলতে পাকিস্তানের ৩ শর্ত শেষ মুহূর্তে ঢাকা-১৮ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা মান্নার নির্বাচনের দিন মেট্রোরেল চলাচল নিয়ে নতুন নির্দেশনা নির্বাচনে পুরনো রাজনৈতিক চর্চা, ব্যয়সীমা অতিক্রম ৩৪% প্রার্থীর ভোটের দিন প্রার্থী ও নির্বাচনি এজেন্টের যানবাহন ব্যবহারে কমিশনের নির্দেশনা রাজধানীতে সকালের তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি

রাজউকের নোটিশ প্রদানের পরও থেমে নেই পুরান ঢাকায় ডায়মন্ড সিটি বিল্ডার্সের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ

#

৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫,  11:29 AM

news image

উজ্জল হোসেন: গত ৫ ডিসেম্বর শুক্রবার এফডিসিতে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি রোধে ভবন মালিকদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেছেন, আমার অবস্থান অনেকটা আসামির মতো। নগর পরিকল্পনা ও ভবন নির্মাণে রাজউকের ত্রুটি বিচ্যুতি ও দায় রয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত, মামলা, জেল, জরিমানা এমনকি ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখন রাজউকের অবস্থান জিরো টলারেন্স। রাজউকের মোবাইল কোর্ট, উচ্ছেদ, জরিমানা, ভবনের ব্যত্যয় রোধে নোটিশ প্রদান,  বিদ্যুৎ সংযোগ  বিচ্ছিন্ন সব আইনকে অমান্য করেই পুরান ঢাকায়  ডায়মন্ড সিটি বিল্ডার্সের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ এর কাজ চলমান রয়েছে যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাসহ জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। রাজউক জোন ৫ এর অন্তর্গত সাব জোন ৫/৩ এর আওতাধীন পুরান ঢাকার ডুরি আঙ্গুল লেন, লালবাগ, ঢাকাতে ডায়মণ্ড সিটি বিল্ডার্স নামক একটি ডেভেলপার কোম্পানির অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে একটি ভবনের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। যার জমির অবস্থান প্লট নং-২৮, ডুরি  আঙ্গুলি লেন, লালবাগ, ঢাকা ।

সরেজমিনে ডায়মন্ড সিটি বিল্ডার্স এর নির্মাণাধীন এই ভবনে দেখা যায়, ডেভেলপার কোম্পানি রাজউকের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা সম্পূর্ণরূপে লঙ্ঘন করে নিজেদের ইচ্ছেমত ঝুঁকিপূর্ণভাবে নির্মাণ কাজ চলমান রেখেছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করার পূর্বে রাজউক থেকে বিভিন্ন শর্ত সাপেক্ষে ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র এবং নকশা পাশের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। দেশের ভবন নির্মাণ, নকশা, সুরক্ষা এবং ব্যবহারের জন্য প্রণীত নিয়মাবলী যা জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য মূলত বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) প্রণীত হলেও এই ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে তাঁর ছিটেফোঁটায় পরিলক্ষিত হয়নি। ভবনটিতে দেখা যায়, (সেটব্যাক) অর্থাৎ বাতাস চলাচলের সুযোগ, অগ্নি নিরাপত্তা, এবং অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনের পথ তৈরি করে বাড়ির নকশার একটি অংশ যেখানে বাড়ির নির্মাণ শুরু করার আগে জমির সীমানা থেকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব (ফাঁকা জায়গা) রাখার নিয়ম থাকলেও ডায়মণ্ড সিটি বিল্ডার্স তা না রেখে ইমারত নির্মাণ বিধিমালাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছেন। এছাড়াও ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউক প্রদত্ত প্রতি ফ্লোরের আয়তন শতাধিক বর্গ মিটার বাড়ানোর পাশাপাশি বেশ কয়েক ফুট ডেভিয়েশন (বিচ্যুতি) করার কারনে অধিক পরিমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভবনটিতে কর্মরত এক প্রকৌশলীর সাথে কথা হলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ এলাকাতে তৈরির ক্ষেত্রে সেফটি নেটের ব্যবস্থার প্রয়োজন থাকলেও প্রথম দিকে কোম্পানি তা না করলেও সদ্য ভুমিকম্পের পরবর্তীতে তড়িঘড়ি করে খুবই অপ্রতুল সেফটি নেট দিয়েছেন। তিনি বলেন এই ভবনে ভয়েড রাখার কথা থাকলেও তা রাখা হয়নি। এই ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে আরও জানা যায়, নির্মাণ কাজ শুরু করার পূর্বেই লিখিতভাবে রাজউককে অবহিত করার কথা থাকলেও ডেভেলপার কোম্পানি তা না করেই নির্মাণ কাজ চলমান রেখেছেন। নকশা বহির্ভূত এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণের বিষয়ে এক নগর পরিকল্পনাবিদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন,  নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ একটি ভয়াবহ সমস্যা যা ঢাকা ও অন্যান্য শহরকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে, কারণ এতে অপরিকল্পিত নগরায়ন, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা এবং কাঠামোগত ঝুঁকি বাড়ে, যেখানে ৭৪% ভবনই নকশা অনুযায়ী হয় না, ফলে রাজউক ও সিটি কর্পোরেশনের তদারকি প্রয়োজন এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করা অপরিহার্য।

তিনি বলেন,  নকশা বহির্ভূত ভবনগুলো প্রায়শই দুর্বল নির্মাণ সামগ্রী ও পদ্ধতি ব্যবহার করে তৈরি হয়, যা ভূমিকম্প বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধসে পড়ার বড় কারণ, যেমনটি গত (২১ নভেম্বর) শুক্রবার ঢাকায় ভূমিকম্পে পুরান ঢাকার কসাইটুলীর একটি ভবনের রেলিং ধসে ৩ জনসহ সারাদেশে ১০ জনের মৃত্যু  দেখা গেছে। তিনি আরও বলেন এ ধরনের নির্মাণ শহরের পরিকল্পিত কাঠামো নষ্ট করে, যেখানে খোলা জায়গা, পার্ক, রাস্তাঘাট ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার অভাব দেখা দেয়, যেমনটা ড্যাপ (Detailed Area Plan) এর প্রস্তাবনায় বিপরীত চিত্র দেখা যায়। পরিশেষে তিনি আইনের  সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে  এ ধরনের নকশা বহির্ভূত ভবন চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, যেমন জরিমানা, ভেঙে ফেলা এবং নির্মাণাধীন থাকলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন। এদিকে ঝুকিপূর্ণ ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের বিষয়ে অত্র এলাকার দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নিকট জানতে চাইলে তারা এ প্রতিবেদককে জানান এই ভবনের বিরুদ্ধে নির্মাণ আইন অনুযায়ী নোটিশ প্রদান করা হয়েছে এবং যে কোন সময় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে ।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম