ঢাকা ৩১ মার্চ, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বিএনপি কোনোভাবেই ইতিহাসকে বিকৃত করবে না: তথ্যমন্ত্রী পদোন্নতি বঞ্চিত ১৮২১ চিকিৎসকের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ফায়ার সার্ভিসের নতুন পরিচালক মাহমুদুল হাসান সাপ্তাহিক ছুটি বাড়তে পারে সরকারি চাকরিজীবীদের ইরান যুদ্ধের কারণে ২০০ ডলার ছুঁতে পারে তেলের দাম দিনে ১৩ ঘণ্টা পাম্প বন্ধ রাখতে চান মালিকরা বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএসসিসি'র মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন ১৪ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ রাজধানীতে স্কুলকালীন যানজট নিরসনে বিকল্প খোঁজার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ঝালকাঠিতে জেলের জালে ধরা পড়ল দানবাকৃতির ‘খটক মাছ’, বিক্রি আড়াই লাখ টাকায়

আওয়ামী দোসর সাজ্জাদ মুহুরী সেচ প্রকল্পের টাকা লুটেপুটে কোটিপতি

#

০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,  4:06 PM

news image

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় পাঁচ কাঠা জমির উপর আটতলা ভবন, কুমিল্লা শহরে ছয়তলা বাড়ী, নিজ এলাকা চৌয়ারা কুমিল্লায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমিজমা ও সম্পদ কিনেছেন। নিজের ও পরিবারের জন্য কিনেছেন বিলাসবহুল একাধিক গাড়ি।

★ সাজ্জাদকে বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি কৃষকদের।

এ আর মোল্লা : কৃষকদের স্বপ্ন পূরণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ৫৬২ কোটি ৬৯ টাকা অর্থায়নে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ফেনীতে মুহুরী সেচ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কিন্তু ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর প্রকল্প পরিচালক রাফিউস সাজ্জাদ ততকালীন আওয়ামী সরকারের চিহ্নিত কিছু গডফাদারের সাথে যোগসাজশে লুটেপুটে প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করায় পূরণ হলোনা কৃষকদের স্বপ্ন। সূত্রে জানা যায়, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ৫৬২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা অর্থায়নে ৯টি প্যাকেজের মাধ্যমে এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়। প্রতিটি প্যাকেজের কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করে সকল নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিকো মানি হিসেবে (২-৩)% টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহণের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন তার পছন্দের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে। প্রতিটি প্যাকেজে প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী পন্থী ঠিকাদারকে কাজ দিয়ে লুটপাট করেছেন তিনি। এমনকি প্যাকেজ সমাপ্তি করতে কখনো কখনো দিয়েছেন অতিরিক্ত বরাদ্দ। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাবষ্টেশন বসাতে ৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন এনার্জি প্যাককে। কিন্তু এ ধরনের সাবষ্টেশন বসাতে খরচ হয় সর্বোচ্চ ২৮-৩০ কোটি টাকা।  এছাড়া সাবষ্টেশনটির কাজ সম্পন্ন করতে আরও ৫ কোটি টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়া হয় যা পুকুর চুরির সামিল বলেছেন ঠিকাদার শাহাদাত হোসেন উজ্জ্বল। এছাড়া ফেনী জেলার পাঁচটি উপজেলা ও চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৬ ও ৭ নম্বর প্যাকেজের প্রাক্কলিত মূল্যের ১৩ শতাংশ বেশি মূল্যে প্রায় ১৫৭ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকার কাজ পান জার্মানির লুডভিগ ফাইফার হোচ-উন্ড টিফবাউ জিএমবিএইচ অ্যান্ড কোম্পানি নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফেনীর মুহুরী সেচ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পের ৫৩৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের ৮৫০টি স্কিমের মধ্যে হস্তান্তর ৩৩৭টি স্কিম। তবে নিয়ম অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় বেশিরভাগই বন্ধ রয়েছে। ফেনীর পাঁচটি উপজেলা ও চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত সেচ সুবিধা পেয়েছে মাত্র ৩ হাজার হেক্টর। প্রকল্পের কার্যাদেশ অমান্য করে নিন্মমানের ইট ও কংক্রিট ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি ছাদ ঢালাই করতে পাথরের পরিবর্তে নিন্মমানের কংক্রিট, সিলেকশন বালুর পরিবর্তে ভিটি বালু দিয়ে প্লাস্টার-গাথুনী। ভূগর্ভস্থ পাইপের দুইপাশে ও নিচে ৬ ইঞ্চি উপরে ১২ ইঞ্চি বালু দেয়া হয়নি। কোথাও কোথাও ড্যামেজ পাইপের টুকরো আগুনে পুড়িয়ে জোড়াতালি দিয়ে কাজ করা হয়েছে। ফলে পানির ওভার ফ্লো হচ্ছে। এছাড়া ডিস্ট্রিবিউশন বক্সে ৬০ শতাংশ রড কম  ও ছাদে ৫০ শতাংশ রড কম ব্যবহার করে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এমনকি কার্যাদেশ অমান্য করে রডের পরিবর্তে স্ক্র্যাপ রড ও বাংলা রড ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সাজ্জাদের সাথে যোগসাজশে কাজ না করেও বিল নেয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, ৮শ'র বেশি পাম্পের বেশির ভাগই অকেজো। ভূগর্ভস্থ পানি লাইনে নিন্মমানের পাইপ ব্যবহারের কারণে অধিকাংশ জায়গায় দেবে গেছে। ফলে পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। অনেক জায়গায় পাইপ ভেঙে যাওয়ায় পানি নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছাতে পারছে না। ফলে পানির অভাবে কৃষকেরা চাষাবাদ করতে পারছে না। এভাবে কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ হলো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী প্রকল্প পরিচালক রাফিউস সাজ্জাদ ও তার সিন্ডিকেটের ঠিকাদারদের লুটপাটের কারণে। তবে কৃষকদের স্বপ্ন ভঙ্গ হলেও সপ্ন পূরণ হয়েছে সাজ্জাদের। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় লুটপাটের টাকায় তিনি গড়ে তুলেছেন পাঁচ কাঠা জমির উপর আটতলা ভবন, কুমিল্লা শহরে ছয়তলা বাড়ী, নিজ এলাকা চৌয়ারা, ফুলতলী, সদর দক্ষিণ, কুমিল্লায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমিজমা ও সম্পদ কিনেছেন। নিজের ও পরিবারের জন্য কিনেছেন বিলাসবহুল একাধিক গাড়ি। তবে পানি উন্নয়ন অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে সাজ্জাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ হওয়ার পর বিপাকে পড়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে অতিরিক্ত মহাপরিচালক থেকে ডিমোশন করে চীপ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে প্রশাসনে সংযুক্ত করা হয়েছে। অফিসে আসা-যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন বিভিন্ন অজুহাতে। অনেকটা পালিয়ে বেড়ানোর মতো অবস্থা। তবে সন্তুষ্ট নন সপ্ন ভঙ্গ হওয়া কৃষকেরা। তারা সাজ্জাদকে বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেছেন। প্রয়োজনে তারা সাজ্জাদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন বলে প্রতিবেদককে জানান। বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে জানতে সাজ্জাদের অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি একাধিকবার ফোন ও পরিচয় দিয়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও যোগাযোগ করতে না পারায় সাজ্জাদের মন্তব্য প্রকাশ করা সম্ভব হলোনা। তবে বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মোঃ এনায়েত উল্লাহ'র সাথে কথা বললে তিনি সাজ্জাদের ডিমোশনের ব্যাপাটি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম