ঢাকা ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বাবার পথ ধরে সংসদে যাচ্ছেন যেসব সন্তান নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ কবে, জানালেন প্রেস সচিব পিরোজপুর-২ আসনে বিএনপির আহম্মদ সোহেল মনজুর বিজয়ী জনগণ আর পুরোনো বন্দোবস্তে ফিরে যেতে চায় না : আলী রীয়াজ আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস যে কারণে ছুটির দিনও আজ ব্যাংক খোলা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানালেন প্রধান উপদেষ্টা চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণ, নিহত ২ যে পদ্ধতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করবে নতুন সরকার

যে পদ্ধতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করবে নতুন সরকার

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,  11:22 AM

news image

বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে দলটি।  সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই যে প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন, এটি স্পষ্ট। তবে শপথ নিয়ে তারেক রহমানের চেয়ারে বসতে আরও কিছু সাংবিধানিক ধাপ রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ ও শপথ পাঠ। এর মাধ্যমেই নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকালের অবসান এবং নির্বাচিত সরকারের পথচলা শুরু হবে।

সংসদ সদস্যদের শপথ

ইতোমধ্যে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

গেজেট প্রকাশের তিনদিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি। সংবিধানের তৃতীয় তফসিলের বিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার পড়ান। তবে স্পিকারের পদত্যাগ ও ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় তাদের শপথ পাঠ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

তবে শপথ পাঠের পরবর্তী পদ্ধতি সংবিধানেই বলা আছে। সংবিধানের ১৪৮(২)ক অনুচ্ছেদে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনও ব্যক্তি যেকোনও কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হইলে বা না করিলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করিবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই ইহার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।

প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ

সংসদ সদস্যগণ শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি, যে দল বা জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জিতেছে, অর্থাৎ ১৫১টি বা তার বেশি আসনে জয়ী হয়েছে, তাকেই সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানাবেন। তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠের আস্থাভাজন হিসেবে প্রথমে সংসদ নেতা হবেন এবং এরপর আমন্ত্রণ পেয়ে নতুন সরকার গঠন করবেন। 

এ বিষয়ে সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদে বিষয়ে বলা হয়েছে, ৫৬।

(১) একজন প্রধানমন্ত্রী থাকিবেন এবং প্রধানমন্ত্রী যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রী থাকিবেন।

(২) প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদিগকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করিবেন।

(৩) সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন।

প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের পদের ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। এর মধ্য দিয়েই আগের সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয়ে নতুন সরকার গঠন হয়ে যাবে।

কারণ, সংবিধান অনুযায়ী শপথ গ্রহণ হয়ে গেলেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবে। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “এই সংবিধানের অধীন যেক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির পক্ষে কার্যভার গ্রহণের পূর্বে শপথগ্রহণ আবশ্যক, সেই ক্ষেত্রে শপথগ্রহণের অব্যবহিত পর তিনি কার্যভার গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।”

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম