ঢাকা ১৭ জুন, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সাভারে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকার, প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার ডিএসসিসির এক নম্বর অগ্রাধিকার বর্জ্য অপসারন জনগণের অর্থ পাচার হতে দেয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী হাম ও উপসর্গে একদিনে আরও ৪ জনের মৃত্যু দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে পারেন শিক্ষকেরা: শিক্ষামন্ত্রী হাদি হত্যা মামলায় সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন ২৮ জুন জনগণের টাকা পাচার হতে দেয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী দেশে প্রথমবারের মতো ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে সরকার ফ্যাসিস্ট আমলের লুটপাটে ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিগারেট-মদের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মিছিল দেখে ‘ভাষা হারিয়েছেন’ আইনমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ডাক ম্যাক্রোঁর

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৫ এপ্রিল, ২০২৬,  11:46 AM

news image

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার আধিপত্যবাদী লড়াইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট না হয়ে বিশ্বমঞ্চে ‘মধ্যম শক্তির’ দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যবস্থাকে কেবল দুটি দেশের ওপর নির্ভরশীল থাকলে চলবে না; বরং ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে একটি স্বতন্ত্র মেরু গঠন করা জরুরি।’ এশিয়ায় সপ্তাহব্যাপী সফরের শেষ পর্যায়ে সিউলে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সাফ জানিয়ে দেন, ফ্রান্স বা ইউরোপ কোনো পরাশক্তির ‘অনুগত রাষ্ট্র’ (ভ্যাসাল স্টেট) হতে চায় না। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো চীনের আধিপত্য কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের খামখেয়ালিপনার শিকার না হওয়া।’ বর্তমানে ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো দেশগুলো তীব্র জ্বালানি সংকটে ভুগছে। এই পরিস্থিতিতে ম্যাক্রোঁ মনে করেন, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা এবং ভারতের মতো দেশগুলোর সাথে মিলে একটি শক্তিশালী জোট গঠন করা সম্ভব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ গবেষণা, পারমাণবিক শক্তি এবং প্রতিরক্ষা খাতে এই দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ম্যাক্রোঁর দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। ইরান ইস্যুতে ফ্রান্স সাহায্য করছে না বলে অভিযোগ তুলে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফরাসি প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। বিশেষ করে ফরাসি আকাশসীমা ব্যবহারে অনুমতি না দেওয়ায় ফ্রান্সকে ‘অত্যন্ত অসহযোগী’ রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। এর জবাবে ম্যাক্রোঁ বলেন, ইরান ইস্যুতে কোনো আলোচনা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পথে হেঁটেছে, যা ‘প্যান্ডোরার বক্স’ খুলে দেওয়ার শামিল। ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কেবল বোমা মেরে বা সামরিক অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান হয় না। বরং তিনি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন মেকানিজম’ বা সংঘাত নিরসন ব্যবস্থার প্রস্তাব দেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ম্যাক্রোঁ মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফরাসি নেতা চার্লস দ্য গোল-এর আদর্শ অনুসরণ করছেন। দ্য গোল যেভাবে স্নায়ুযুদ্ধের সময় ওয়াশিংটন ও মস্কোর বাইরে ফ্রান্সের স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখতে চেয়েছিলেন, ম্যাক্রোঁ বর্তমান সময়ে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের ক্ষেত্রে একই নীতি গ্রহণ করছেন। আগামী জুনে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ সম্মেলনে ম্যাক্রোঁ তার এই ‘তৃতীয় শক্তির’ পরিকল্পনা বিশ্বনেতাদের সামনে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম