ঢাকা ২৫ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: ৮ জেলে উদ্ধার, নিখোঁজ ৫ বাণিজ্যিক কোচিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না বিচারকরা ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি পাবেন না যারা আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাংয়ের হামলায় নিহত অন্তত ৪৭ চীনা পণ্য ও মার্কিন নীতি: ট্রান্সশিপমেন্টকে ‘প্রতারণা’ বলছে যুক্তরাষ্ট্র, নজরে সিঙ্গাপুর ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ‘লোকদেখানো’ দাবি মার্কিন সিনেটরের ঝিনাইদহে সড়কে প্রাণ গেল শ্রমিক নেতার কক্সবাজারে প্যারাবন নিধন মামলায় সাতজনের কারাদণ্ড অনলাইনে ধুতুরা বিক্রির দায়ে অ্যামাজন-সুইগি-বিগবাস্কেটের লাইসেন্স স্থগিত

মানি এক্সচেঞ্জে ডলার বিক্রির সর্বোচ্চ দর ১২৬ টাকা ৫০ পয়সা

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ আগস্ট, ২০২৬,  11:01 AM

news image

দেশের খোলাবাজারে ডলারের দাম ১২৬ টাকা ৫০ পয়সা ঘোষণা করেছে মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমসিএবি)। নতুন দর অনুযায়ী, এখন থেকে মানি এক্সচেঞ্জগুলো প্রতি ডলার ১২৫ টাকা ৫০ পয়সায় কিনবে। বিক্রি করবে তার চেয়ে ১ টাকা বেশি দামে। সম্প্রতি খোলাবাজারে ডলারের দাম বেড়ে ১২৮ টাকায় উঠে যায়। এমন পরিস্থিতিতে মানি চেঞ্জারদের ওপর তদারকি জোরদার করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাই খোলাবাজারে ডলারের নতুন দাম ঘোষণা করা হয়।


সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন দর ঘোষণা করেন এমসিএবি সভাপতি এম এস জামান। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী গৌতম দে, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। এম এস জামান জানান, নতুন এই দর সংগঠনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশের সব মানি চেঞ্জারকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।


ডলার বাজারে অস্থিরতা নিয়ে তিনি বলেন, 'ডলারের বাজারে অনৈতিক কারসাজির দায় মানি চেঞ্জারদের নয়, ব্যাংকগুলোর। মানি চেঞ্জার খাতের পরিধি অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় এ খাতে বাজার ম্যানিপুলেট বা 'গেম' করার সুযোগ নেই।' 


তিনি অভিযোগ করে বলেন, করোনা-পরবর্তী সময়ে ডলার বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে বিভিন্ন ব্যাংক বিপুল পরিমাণ মুনাফা করেছে। অথচ বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেই এর দায় মানি চেঞ্জারদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়।


এমসিএবি সভাপতি বলেন, মানি চেঞ্জাররা কেবল নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বা ক্যাশ কারেন্সি ক্রয়-বিক্রয় করে। তারা কোনো ইলেকট্রনিক বা ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা লেনদেন করে না এবং সরাসরি রেমিট্যান্সও আনতে পারে না। বিদেশফেরত যাত্রী ও প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে আসা নগদ বৈদেশিক মুদ্রাই তাদের ব্যবসার মূল উৎস।


তিনি বলেন, 'প্রবাসীরা কষ্টের উপার্জনের নগদ অর্থ দেশে নিয়ে এলে মানি চেঞ্জাররা তা কিনে বৈধ ধারায় নিয়ে আসে। এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে তারা।'


ডলারের দর নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা মানি চেঞ্জারদের নেই দাবি করে এম এস জামান বলেন, 'মানি চেঞ্জারদের মূলধন বা সক্ষমতা কতটুকু যে তারা ডলারের রেট নিয়ন্ত্রণ করবে? কেন্দ্রীয় ব্যাংকই দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি এবং মুদ্রানীতি নির্ধারণ করে। অথচ বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিলেই অভিযোগ তোলা হয় যে মানি চেঞ্জাররা রেট বাড়াচ্ছে।' 


তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলার কেনাবেচা করলেও এবং শিডিউল ব্যাংকগুলোর জন্য ডলারের দাম নির্ধারণ করে দিলেও মানি চেঞ্জারদের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকে না। এ বৈষম্য দূর করে বৈধভাবে ডলার লেনদেনের সুযোগ বাড়ানো এবং অবৈধ মার্কেট বন্ধে নীতি সহজ করার দাবি জানান তিনি।


সংবাদ সম্মেলনে এম এস জামান জানান, বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে ইতিমধ্যে অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন মানি চেঞ্জারদের একটি তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাংবাদিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে বাজার নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের লিখিত নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম