ঢাকা ০৪ জুলাই, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সোনারগাঁওয়ে আসামি ধরতে গিয়ে তিন পুলিশ সদস্যসহ চারজনকে কুপিয়ে জখম স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও অবহেলার ক্ষেত্রে বদলি নয়, সরাসরি চাকরিচ্যুতি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার : পানিসম্পদমন্ত্রী দেশ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে : অর্থমন্ত্রী চকবাজারের আশিক টাওয়ারে আগুন আ.লীগের আর কোনোদিন দেশে রাজনীতি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই অভ্যুত্থান কোনো দল বা ব্যক্তির নয়: প্রধানমন্ত্রী বান্দরবানে অস্ত্রসহ কেএনএফ সদস্য আটক চার নদ-নদীতে তীব্র ভাঙন, বন্যা নিয়ে দুঃসংবাদ জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন: গুলিবিদ্ধ ইমন মারা গেছেন

#

১৮ আগস্ট, ২০২৪,  11:21 AM

news image

কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পেটে গুলিবিদ্ধ হন কলেজছাত্র মো. ইমন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কলেজছাত্র সেই ইমন মারা গেছেন।রোববার (১৮ আগস্ট) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। নিহত ইমন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের মো. জুলহাসের ছেলে। তিনি মনিরুজ্জামান খান বিএম কলেজ থেকে ২০২৩ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর হেমনগর ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হন তিনি। গত ৪ আগস্ট বিকেলে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের সময় পেটে গুলিবিদ্ধ হন ইমন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসার জন্য ইমনকে মাইক্রোবাসে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে পুলিশ গাড়ি থামায়। পুলিশ যখন জানতে পারে রোগী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ, তখন তারা আহত ইমনকে গাড়ি থেকে জোর করে নামিয়ে পেটে লাথি মারে। পরে লাঠি দিয়ে বেদম পেটায়। শুধু ইমনকেই নয়, পুলিশ সদস্যরা গাড়ির চালকসহ সঙ্গীদেরও মারধর করে। পরে অনেক অনুনয়-বিনয় করে ছাড়া পান তারা। পুলিশ ছেড়ে দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয় ইমনকে বহনকারী মাইক্রোবাসটি। তবে ভাগ্য ভালো ঠিক সময়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স পান তারা, রওনা হন ঢাকার পথে। তবে অ্যাম্বুলেন্সের চালক ঢাকা মেডিকেল কলেজে পর্যন্ত যেতে অস্বীকৃতি জানালে ইমনকে উত্তরার লেক ভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুদিনেই খরচ হয় লাখ টাকা। অনেক কষ্টে সে টাকা জোগাড় করে তার পরিবার। এরপর ৬ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকেই সামনের সারিতে ছিলেন কলেজছাত্র ইমন আলী। ১০ বছর বয়সে বাবা হারানো চারজনের পরিবারে ইমনই ছিলেন একমাত্র কর্মক্ষম, ফলে ছেলের চিকিৎসার ব্যয় বহনে এরইমধ্যে সহায় সম্বল বিক্রি করেছেন মা রিনা বেগম। বাবার মৃত্যুর পর ইমনই হয়ে ওঠেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম। পড়ালেখার পাশাপাশি টিউশনি করে হাল ধরেন পরিবারের। ইমনের ছোট আরও দুই ভাই আর এক বোনের সংসারে মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন রিনা বেগম। এদিকে গতকাল শনিবার (১৭ আগস্ট) রিয়াজ নামে গুলিবিদ্ধ আরও এক ছাত্রের মৃত্যু হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি। গত ৪ আগস্ট ধানমন্ডি জিগাতলায় আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হন রিয়াজ।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম