বেগমগঞ্জে ১২ দিনে ৮ জনকে গুলি, অস্ত্রধারীরা অধরা
নিজস্ব প্রতিনিধি
১৯ আগস্ট, ২০২৬, 11:41 AM
নিজস্ব প্রতিনিধি
১৯ আগস্ট, ২০২৬, 11:41 AM
বেগমগঞ্জে ১২ দিনে ৮ জনকে গুলি, অস্ত্রধারীরা অধরা
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার, পূর্বশত্রুতা ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে গত ১২ দিনে আটজনের ওপর গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত ৬ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত উপজেলার আলাইয়ারপুর, গোপালপুর ও চৌমুহনী পৌর হকার্স মার্কেট এলাকায় এসব গুলির ঘটনা ঘটে। প্রতিটি ঘটনার পর থানায় মামলা হলেও কোনো অস্ত্রধারীকে ধরতে পারেনি পুলিশ। অপরাধী গ্রেপ্তার নিয়ে ভুক্তভোগীদের তরফ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তুচ্ছ ঘটনায় গত সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে বেগমগঞ্জের আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের মোশাকপুর গ্রামের রমনিরহাটে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় পাঁচজনকে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে আহত করে দুবৃর্ত্তরা। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন–নজরুল ইসলাম শান্ত, মারুফ আহমেদ, জসিম উদ্দিন, সাকিব হোসেন ও মো. বাবলু। তাদের মধ্যে মুমূর্ষু অবস্থায় মো. বাবলুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মী। রাতে মোশাকপুর গ্রামে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে তিনটি মোটরসাইকেল ও দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। মোটরসাইকেলে থাকা আমরা পাঁচজন ছররা গুলিতে বিদ্ধ হই। আমাদের মাথা, হাত ও পিঠে গুলি লেগেছে।’
এর আগে গত ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নে ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বর্দি গ্রামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক রাব্বি হোসেন রাকিবকে উঠিয়ে নিয়ে পায়ে গুলি করার ঘটনা ঘটে।
গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামের চৌকিদার বাড়িতে ওয়ার্ড যুবদল নেতা সোহাগ হোসেন সোহেলের বাড়ি ঢুকে সন্ত্রাসীরা তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
এছাড়া গত ৬ আগষ্ট মধ্য রাতে উপজেলার চৌমুহনী হকার্স মার্কেটে জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাজী আবুল কাশেমকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দুর্বৃত্তরা। ওই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বিএনপি নেতার সহযোগী ফার্মেসি ব্যবসায়ী ইয়াসিন সেন্টুর পেটের বাম দিকে বিদ্ধ হয়।
বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাস বলেন, বেগমগঞ্জের ছয়ানী ইউনিয়ন যুবদল নেতা শাকিল, গোপালপুর ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি সহেল ও আমানউল্যাহপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মহসীনকে গুলি করে আহত করে সন্ত্রাসীরা। এ সব ঘটনায় থানায় মামলা হলেও পুলিশ কোন আসামিকে ধরেনি। তিনি উপজেলার অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী-সেবনকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বেগমগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ৯ আগষ্টের গুলির ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পড়েনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। গত ৬ আগস্টের ঘটনায় বিএনপি নেতা আবুল কাশেম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) এ এন এম ইমরান খান বলেন, আসামিদের ধরতে পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। ঘটনা ঘটিয়ে আসামিরা এলাকা ছাড়া হওয়ায় তাদের এখনও ধরা যায়নি। তবে আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে। সূত্র : সমকাল