বিশ্বকাপ শেষ, এবার নতুন মিশনে আর্জেন্টিনা
স্পোর্টস ডেস্ক
২১ জুলাই, ২০২৬, 11:20 AM
স্পোর্টস ডেস্ক
২১ জুলাই, ২০২৬, 11:20 AM
বিশ্বকাপ শেষ, এবার নতুন মিশনে আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ করেছে আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হলেও সামনে তাকানোর সময় খুব বেশি পাচ্ছে না লিওনেল স্কালোনির দল। কারণ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হচ্ছে নতুন আন্তর্জাতিক চক্র, যেখানে অপেক্ষা করছে প্রীতি ম্যাচ, বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব, কোপা আমেরিকা এবং অনিশ্চয়তায় থাকা ফিনালিসিমা।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ইতোমধ্যেই ২০২৬ থেকে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নতুন আন্তর্জাতিক সূচি প্রকাশ করেছে। সেই সূচি অনুযায়ী, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রথম আন্তর্জাতিক বিরতি অনুষ্ঠিত হবে। ওই সময়ে আর্জেন্টিনা দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। যদিও প্রতিপক্ষ, ভেন্যু কিংবা ম্যাচের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
এরপর ৯ থেকে ১৭ নভেম্বর হবে বছরের শেষ আন্তর্জাতিক বিরতি। সেখানেও প্রতিযোগিতামূলক কোনো ম্যাচ নেই আর্জেন্টিনার। নতুন দল গঠন, তরুণদের সুযোগ দেওয়া এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সাজাতে এই সময়টিকে কাজে লাগাতে চাইবে স্কালোনির কোচিং স্টাফ।
বাছাইপর্বেও খেলবে আর্জেন্টিনা
২০৩০ বিশ্বকাপ হবে বিশেষ এক আসর। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে। এই তিন দেশ সরাসরি মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে।
তবে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত হলেও বাছাইপর্ব থেকে অব্যাহতি মিলছে না। প্যারাগুয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রবার্ট হ্যারিসন জানিয়েছেন, তিন দেশই দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে অংশ নেবে। যদিও কনমেবল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সূচি প্রকাশ করেনি, তবে ২০২৭ সালের মার্চ থেকে বাছাইপর্ব শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগের মতো লিগ পদ্ধতিতেই ম্যাচগুলো আয়োজন করা হতে পারে।
কোপা আমেরিকাই সবচেয়ে বড় লক্ষ্য
বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হবে ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকা। আসরটি কোথায় হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে আবারও যুক্তরাষ্ট্রে টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এই টুর্নামেন্ট আর্জেন্টিনা ফুটবলের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ এটি হতে পারে লিওনেল মেসিকে ছাড়া তাদের প্রথম কোপা আমেরিকা। ২০০৪ সালের পর এই প্রথম এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের নিয়ে দল গঠনের কাজ আরও জোরালোভাবে শুরু করতে হবে স্কালোনিকে।
অনিশ্চয়তায় ফিনালিসিমা
কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের মধ্যকার ফিনালিসিমা নিয়েও এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।
চলতি বছর কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনার ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। ২০২২ সালে যে মাঠে বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা, সেই মাঠেই দুই মহাদেশের চ্যাম্পিয়নদের লড়াই আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় ম্যাচটি স্থগিত করা হয়।
পরে নতুন তারিখ ও ভেন্যু নিয়ে দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। ফলে ম্যাচটি আর আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এখন ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকার আগেই ফিনালিসিমা আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।
নতুন চক্র, নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়ায় হতাশা থাকলেও আর্জেন্টিনার সামনে এখন নতুন করে দল গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, নতুন মুখদের জায়গা করে দেওয়া এবং ২০২৮ কোপা আমেরিকা ও ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পরিকল্পনা সাজানোই হবে স্কালোনির সবচেয়ে বড় কাজ।
বিশ্বকাপের মঞ্চে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে গেলেও আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক ফুটবল যাত্রা থেমে নেই। বরং নতুন লক্ষ্য, নতুন পরিকল্পনা এবং নতুন প্রজন্মকে নিয়ে আরেকটি অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে আলবিসেলেস্তেদের।