বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশব্যাক করা ৪ জনকে ফেরানো হলো ভারতে
নিজস্ব প্রতিনিধি
০৯ জুলাই, ২০২৬, 11:04 AM
নিজস্ব প্রতিনিধি
০৯ জুলাই, ২০২৬, 11:04 AM
বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশব্যাক করা ৪ জনকে ফেরানো হলো ভারতে
বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছিল চার ভারতীয় নাগরিককে। দীর্ঘ আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন বিএসএফের অবৈধ পুশইনের শিকার হওয়া সেই চার ভারতীয় নাগরিক। এক বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভারতের শীর্ষ আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশের কারাগার থেকে দেশে ফিরলেন সুইটি বিবি, তার দুই নাবালক সন্তানসহ মোট চারজন।
বুধবার বাংলাদেশের সোনামসজিদ সীমান্ত পার করে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার মাহাদিপুর এলাকার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সীমান্ত দিয়েই চারজনকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে স্থানীয় জেলা প্রশাসন।
পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের পাইকরের বাসিন্দা হলেও গত এক দশক ধরে দিল্লিতে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতো সুইটির পরিবার। অভিযোগ, বাংলাদেশি সন্দেহে ২০২৫ সালের জুন মাসে সুইটি ও তার দুই নাবালক সন্তান এবং তাদেরই প্রতিবেশী দানিশ শেখ, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনালী বিবি ও তাদের এক সন্তানকে (মোট ৬ জন) গ্রেফতার করে দিল্লির কে.এন. কাটজু মার্গ থানার পুলিশ। পরবর্তীতে তাদের আসাম সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়। কিন্তু বাংলাদেশে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে অনুপ্রবেশের মামলায় স্থানীয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে।
এরপরই আদালতের নির্দেশে তারা স্থানীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। যদিও মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অভিযোগ ছিল, তাদের সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা বা নাগরিকত্বের তথ্য যাচাই-বাছাই না করেই ৬ জনকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করে দেওয়া হয়। সোনালীসহ ছয় জনকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করার ঘটনায় তীব্র শোরগোল পড়ে যায় ভারতজুড়ে। বিষয়টি নিয়ে সুইটি বিবি এবং সোনালী বিবির পরিবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। এরপর সেই মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ থেকে গত বছরের ডিসেম্বর মাসেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিজের দেশে ফেরার সুযোগ পান অন্তঃসত্ত্বা নারী সোনালী বিবি ও তার পুত্রসন্তান সাবির। মূলত মানবিকতার খাতিরেই তাদের মুক্তি দেয় বাংলাদেশের আদালত। কিন্তু তার স্বামী দানেশ শেখ এবং সুইটি ও তার দুই নাবালক সন্তান ছিলেন বাংলাদেশের কারাগারেই।
এরই মধ্যে গত ২২ মে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়ে দেয় যে, তথ্য যাচাই-বাছাই করার পর তারা পুশব্যাক করা ওই চার ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। সেক্ষেত্রে প্রায় এক বছর পর বুধবার মালদহের মাহাদিপুর স্থলসীমান্ত দিয়ে ভারতে ফেরেন সুইটিসহ মোট চারজন ভারতীয় নাগরিক।