ঢাকা ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বসন্তের শুরুতেই সাতক্ষীরায় গাছে গাছে আমের মুকুল, বাম্পার ফলনের আশা কাল থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিচ্ছেন তারেক রহমান ত্রয়োদশ সংসদের ৮৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ উচ্চ ডিগ্রিধারী: টিআইবি সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার জনসহ নিহত ৫ বাংলাদেশি গাইবান্ধায় দুর্বৃত্তদের হামলায় যুবদল কর্মীর আঙুল বিচ্ছিন্ন আসামিকে ধরতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু চৌদ্দগ্রামে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে মিলল শিশুর মরদেহ মন্ত্রিপরিষদের নতুন সচিব হলেন ড.নাসিমুল গনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের বিদায়ী সাক্ষাৎ

বসন্তের শুরুতেই সাতক্ষীরায় গাছে গাছে আমের মুকুল, বাম্পার ফলনের আশা

#

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,  5:05 PM

news image

মনিরুজ্জামান মনি: ঋতুরাজ বসন্তের শুরুতেই সাতক্ষীরার গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল। জেলার গ্রামাঞ্চল, পুকুরপাড়, রাস্তার ধারে ও বাড়ির আঙিনার আমগাছগুলো এখন মুকুলে সেজে উঠেছে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকায় চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের আশা করছেন জেলার আমচাষিরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, সাতক্ষীরার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় ছোট-বড় আমবাগান ও বাড়ির আঙিনার গাছে ইতোমধ্যে মুকুল এসেছে। বিশেষ করে মাঝারি ও ছোট আকারের গাছে মুকুলের উপস্থিতি বেশি। জেলায় হিমসাগর, আম্রপালি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, মল্লিকা, বোম্বাই, হাড়িভাঙ্গা ও বিভিন্ন স্থানীয় জাতের আমের চাষ হয়। মুকুলের মৌ-মৌ গন্ধে বাগান মালিকদের চোখে এখন স্বপ্নের ছোঁয়া। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে সাতক্ষীরায় মোট ৪ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হিমসাগর ৮৯৯ হেক্টর, আম্রপালি ৫৬৪ হেক্টর, গোবিন্দভোগ ৩৮২ হেক্টর, গোপালভোগ ২১৯ হেক্টর, লতা ১৪৩ হেক্টর, মল্লিকা ৮০ হেক্টর, বোম্বাই ৫০ হেক্টর এবং অন্যান্য স্থানীয় জাত ২৪৩ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক হিসেবে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১,২৫০ হেক্টর, কলারোয়ায় ৬৫৮, তালায় ৭১৫, দেবহাটায় ৩৭০, কালিগঞ্জে ৮৩৯, আশাশুনিতে ১৪৫ ও শ্যামনগরে ১৬০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, গত মৌসুমে জেলায় আম উৎপাদন হয়েছিল ৭০ হাজার ৮৮০ মেট্রিক টন। চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে জেলায় আমবাগানের সংখ্যা ৫ হাজার ২৯৯টি এবং মোট আমচাষির সংখ্যা ৫০ হাজার ৭৪৫ জন। এর মধ্যে নিবন্ধিত চাষির সংখ্যা ৩৫১ জন। চাষিরা জানান, মুকুল আসার পর থেকেই বাগানের পরিচর্যা জোরদার করা হয়েছে। রোগবালাই থেকে রক্ষা পেতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কীটনাশক ও পরিচর্যার কাজ চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তারা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ মো. মনির হোসেন বলেন, “সাতক্ষীরার মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ বছর ৪ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে এবং আমরা আশা করছি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে। কৃষকরা ইতোমধ্যে বাগানের পরিচর্যা শুরু করেছেন। আমরা চাষিদের গুণগত মান বজায় রেখে নিরাপদ আম উৎপাদনে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, প্রতিবছরের মতো এবারও সাতক্ষীরার বিখ্যাত হিমসাগর আম বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।” তিনি আরও জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সাতক্ষীরা থেকে ১৮০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি হয়েছিল। ২০২৩-২৪ সালে রপ্তানি হয় ৬০ মেট্রিক টন এবং ২০২৪-২৫ মৌসুমে রপ্তানি হয়েছে ৭২ মেট্রিক টন আম। চলতি মৌসুমে হিমসাগর আমের গুণগত মান ধরে রেখে অন্তত ১০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানির লক্ষ্যে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। সব মিলিয়ে বসন্তের শুরুতেই আমের মুকুলে ভরে ওঠা সাতক্ষীরার বাগানগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে জেলায় বাম্পার আম উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম