
NL24 News
২৮ আগস্ট, ২০২৫, 11:56 AM
প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে
তিন দফা দাবিতে দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো ক্লাস-পরীক্ষা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। এর আগে গতকাল বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম প্রকৌশল অধিকার আন্দোলন। প্ল্যাটফর্মটির সাধারণ সম্পাদক সাকিবুল হক লিপু আজকের এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তবে বুয়েটে আজ বৃহস্পতিবার এমনিতেই সাপ্তাহিক বন্ধ। এদিকে গতকাল প্রকৌশলের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার পর বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, পুলিশের ন্যাক্কারজনক হামলায় বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তা ছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি মাসুদ গণমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করেছেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এই পুলিশ জুলাইয়ের আগের পুলিশের মতোই আচরণ করেছে। কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারা আবারও শিক্ষার্থীদের ওপর ঘৃণ্য অপকর্ম করেছে।’ বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশের সব সরকারি-বেসরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদসমূহে আজ ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা নিজেদের নাম-পরিচয়সহ পুলিশের হামলার শিকার হওয়ার বর্ণনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন প্রকাশ করবেন। এসব তথ্য পরবর্তীতে সংগঠিতভাবে সামনে আনা হবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আহত শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে জমা দিতে বলা হয়েছে। হামলার ছবি ও ভিডিও প্রচার ও সংরক্ষণ অব্যাহত রাখতে এবং নির্দিষ্ট ড্রাইভ লিংকে আপলোড করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘পুলিশকে অবশ্যই এই হামলার জবাবদিহি করতে হবে। যদি জবাবদিহি না করে, তবে আমরা ধরে নেব, এরা পতিত স্বৈরাচারী সরকার শেখ হাসিনার পুলিশ।’ শিক্ষার্থীরা জানান, পরবর্তী দাবিদাওয়া ও করণীয় শিগগিরই আলোচনা সাপেক্ষে ঘোষণা করা হবে। এদিকে বুধবার রাতে শাহবাগে গিয়ে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’ উল্লেখ্য, তিন দফা দাবিতে গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।একপর্যায়ে তারা বেলা দেড়টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যেতে শুরু করেন। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে তাদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় তাদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। তখন লাঠিপেটার ঘটনাও ঘটে। এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশের লাঠিপেটার পর তারা বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আবারও শাহবাগে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ১০টার পর তারা শাহবাগ মোড় ছেড়ে যেতে থাকেন। গতকাল রাতেই শাহবাগে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের সভাপতি ওয়ালী উল্লাহ আজ বিকেল পাঁচটায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের কাউন্সিল হলে সভা হবে বলে জানান। সেখানে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ওই সময় বুয়েটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ দেশের সব ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন অব ইঞ্জিনিয়ার্স’ ঘোষণা করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো- নবম গ্রেড সহকারী প্রকৌশলী পদে কেবল পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ ও ন্যূনতম যোগ্যতা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার করা; দশম গ্রেডে শুধু ডিপ্লোমাধারীরা আবেদন করতে পারেন, সেখানে যেন উচ্চ ডিগ্রিধারীরাও আবেদন করতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা এবং শুধু বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং যারা সম্পন্ন করবেন, তারাই যেন প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) লিখতে পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া। এদিকে প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্লোমাধারী ব্যক্তিদের পেশাগত দাবির যৌক্তিকতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গতকালই একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার।