ঢাকা ২৪ জুন, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের মাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট-চেক ও এআই বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু একযোগে ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়ন নীতিসহায়তা বাড়লে রফতানি আয় দেড়শ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে: বাণিজ্যমন্ত্রী বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক আরিফ উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত পবিত্র আশুরা ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা ডিএমপির আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত দেবে ট্র্যাইব্যুনাল: ডা. জাহেদ তেলের দামের ভবিষ্যৎ এখন চীনের হাতে

পরিবেশ বিপর্যয়ে বিলুপ্তির পথে বাবুই পাখি, হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্য

#

১২ মার্চ, ২০২৫,  1:37 PM

news image

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি: একসময় শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গ্রামাঞ্চলে তালগাছ, নারকেলগাছ ও সুপারিগাছে সারি সারি বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা দেখা যেত। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই দৃশ্য এখন প্রায় বিলীন। পরিবেশ বিপর্যয়, বন উজাড়, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসার এবং নগরায়ণের ফলে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির আবাসস্থল। ফলে বিলুপ্তির পথে এই নিপুণ স্থপতি পাখি। বাবুই পাখি খড়, কচি নারকেল ও তালগাছের পাতা, ঝাউ ও কাশবনের লতাপাতা দিয়ে নিপুণভাবে বাসা তৈরি করে। তাদের তৈরি বাসাগুলো যেমন নান্দনিক, তেমনই মজবুত। প্রবল ঝড়-বৃষ্টি কিংবা দমকা বাতাসেও এসব বাসা টিকে থাকে। বাসা তৈরির পর পুরুষ বাবুই পাখি সঙ্গী আকৃষ্ট করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। স্ত্রী বাবুই পাখি যদি বাসাটি পছন্দ করে, তবে সেখানে তারা নতুন পরিবার গড়ে তোলে। নালিতাবাড়ীসহ শেরপুরের বিভিন্ন গ্রামে একসময় প্রচুর বাবুই পাখি দেখা যেত। বিশেষত ধান কাটার মৌসুমে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেত। কিন্তু এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। স্থানীয় পাখিপ্রেমী রকিব মুক্তাদির বলেন, "আগে আমাদের বাড়ির নারকেলগাছে অসংখ্য বাবুই পাখির বাসা থাকত। এখন সেসব শুধুই স্মৃতি।" আরেক পাখিপ্রেমী রাসেল বলেন, "আগে আমাদের আশপাশের প্রতিটি সুপারিগাছে ৫-৬টি বাবুই পাখির বাসা থাকত। এখন গাছ থাকলেও বাবুই পাখি আর দেখা যায় না।" সরেজমিনে জানা গেছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি অর্থের লোভে বাবুই পাখির বাসা সংগ্রহ করে শহরের বিত্তবানদের কাছে শোভাসামগ্রী হিসেবে বিক্রি করছে। ফলে একদিকে বাবুই পাখির সংখ্যা কমছে, অন্যদিকে তাদের বাসা তৈরি করার সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর, শেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নূর কুতুবে আলম সিদ্দিক বলেন, বাবুই পাখি সংরক্ষণে সরকার ও পরিবেশ সংস্থাগুলোর আরও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাখির আবাসস্থল ধ্বংস রোধ, তাল ও নারকেলগাছ সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই কেবল এই দুর্লভ পাখিকে রক্ষা করা সম্ভব। বিখ্যাত কবি রজনীকান্ত সেন বাবুই পাখির শিল্পশৈলীর প্রশংসা করে লিখেছিলেন—

বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই,

“কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই,

আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে

তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে।”

কিন্তু আজ সেই শিল্প ধ্বংসের পথে। সময় এসেছে সরকার, পরিবেশবিদ ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করে বাবুই পাখি ও তাদের শৈল্পিক বাসাগুলোকে রক্ষা করার।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম