দুই কোটি টাকার সরকারি মাল বিক্রি করে ভাগাভাগি, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেস্টা
৩০ জুলাই, ২০২৬, 4:44 PM
NL24 News
৩০ জুলাই, ২০২৬, 4:44 PM
দুই কোটি টাকার সরকারি মাল বিক্রি করে ভাগাভাগি, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেস্টা
> গোমর ফাঁসকারী সন্দেহে আটক ও হুমকি-ধমকি।
> মালামাল বিক্রির হোতা এডি এডমিন। তাকে রক্ষায় ফুঁসছে কেন? ডিডি এডমিন।
কামরুজ্জামান মিল্টন: বাংলাদেশ রোডস এন্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বিআরটিএ’র প্রশাসন শাখার এক কনিষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ। আর এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গুঞ্জন-কানাঘুষা পৌছায় সংবাদমাধ্যমের কান অবদি। বেরও হয় দু-এক টুকরো খবর। আর তাতেই নড়ে উঠে কর্তৃপক্ষ (প্রশাসন)। তারপর শুরু “শাক দিয়ে মাছ ঢাকা”র অপচেস্টা। তার মানে চলছে-ওই সব মালামাল অবৈধভাবে বিক্রির সন্দেহভাজন গোমর ফাসকারীদের ওপর দমন-পীড়ন ও হুমকি-ধমকিসহ নানাভাবে পুরা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার পাঁয়তারা। আর এ কাজটি করছেন-খোদ প্রশাসন শাখার উপ সচিব পদমর্যাদার সামিউল মাসুদ নামের উপ-পরিচালক (ডিডি এডমিন)। কর্মচারীদের কেউ কেউ তার এই তথ্য পাচার বা গোমর ফাসের সন্দেহের ভয়ঙ্কর তোপে পালিয়ে ও আইনের আশ্রয় নিয়ে বাঁচার পথ খুঁজছে।
আসল ব্যাপারটা হলো-গেল জুলাই আন্দোলনে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে অকেজো বিআরটিএ’র প্রায় দুই কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের মালামাল ভাঙ্গাড়ি ও বর্জ্র্য নামে অবৈধভাবে সদ্য হয়-বিক্রি। আর এ নিয়ে নানা গুঞ্জনে ভাব বেগতিক বুঝে দায় এড়াতে দশ দিন পর তৈরী করা হয়-বৈধতার কিছু কাগজপত্র ও কোষাগারে টাকা জমার বয়ান। সরকারের প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল (জিনিসপত্র) রক্ষকের ভক্ষনের এমন বেপরোয়া কান্ডে নির্বাক দর্শকদের ফিসফিস-কানাঘুষা বিআরটিএ’র হেড অফিসের দেয়ালের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে।
এসব মালামাল (জিনিসপত্র) কোন নিয়ম-নীতির (দরপত্র ছাড়াই) তোয়াক্কা ছাড়াই অপসরনের নামে বিক্রি করে দেয়া হয়। আর এ কাজটি করেন-ওই হেড অফিসেরই সহকারী পরিচালক, প্রশাসন (এডি এডমিন) সিদ্দিকুর রহমানের নির্দেশে,তারই সিন্ডিকেটের লোকজন। গত ১লা জুলাই থেকে ৪ই জুলাই পর্যন্ত একটানা প্রায় চার দিন ধরে এডি এডমিনের বিশ্বস্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী জন দাশ ওরফে জনি দাশ ওই অফিসের পার্কিংয়ের বিভিন্ন জায়গায় রাখা ওই সব মালামাল ট্রাক বোঝাই করে বের করতে শুরু করে।
এতে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দিলেও এডি এডমিন সিদ্দিকের নির্দেশে ছাড়তে বাধ্য হয়। ফলে বাগড়া ওয়ালারাসহ অনেকে বনে যায়-নির্বাক দর্শক। এরপর তা নিয়ে কানাঘুষা বিআরটিএ’র ভেতর থেকে গিয়ে কনটেন্ড ও সংবাদ পর্যন্ত গড়ায়। এ পত্রিকাটিতে ওই কনটেন্ড’র সুত্র ধরে খোঁজখবর নিয়ে খন্ডাকারে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আর এতে প্রশাসন ক্ষুব্ধ হয়ে গত দুদিন (মঙ্গল ও বুধবার) ওই কর্মচারীদের কাউকে কাউকে ডেকে হুমকি-ধমকি ও লাঞ্ছিত করে বিষয় ধামাচাপা দেয়ার চেস্টায় লিপ্ত হয়। তার তাও খোদ ডিডি এডমিন। এর আগে গত বুধবার হঠাৎ মিটিং করে তৈরি হলো-এ সংক্রান্তের কিছু কাগগপত্র ও কোষাগারে নামমাত্র কিছু টাকা জমা দেয়ার একটা বয়ান। এভাবেই সবার চোখে ধুলা দিয়ে আপাতত বিষয়টি থামানোর চেস্টা চলে।
কিন্তু ঘটে তার উল্টোটা। ছড়ায় আরো এর দুর্ঘন্ধ। ফলে ডিডি এডিমিনের ক্ষোভের শিকার হয়-ওই সব ভুক্তভোগী। তবে অনেকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে-এ ব্যাপারে এডি এডমিন সিদ্দিক ফাঁসলে ওই ডিডি এডমিনসহ আরো অনেকে পার না পাওয়ার আশঙ্কায় ডিডি এডমিন এটা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কারণ-বিগত সময়ে অনেকবার দুই কোটির বেশী দাম হওয়া মালামাল এডি এডমিন বিনা দরপত্রে হঠাৎ সিসিটিভি বন্ধ রেখে বেচে দিলো। এর ভাগ কে পায় নি ? তা মেলাতে শুধু সুষ্ঠু তদন্তটাই প্রয়োজন। সেই সাথে প্রশ্ন উঠছে-মালামাল বিক্রির হোতা এডি এডমিন। কেন ফুঁসছে ? ডিডি এডমিন। তাহলে পুরো টাকাটাই উপর তলা থেকে নীচতলা অবদি হয়েছে-ভাগাভাগি? আসলেই যেন তাই। পরের খন্ডে দেখা যাক।
এ খন্ডেও এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য এডি এডমিন সিদ্দিকুর রহমানের সাথে সরাসরি ও মোবাইলে, কোনভাবেই যোগযোগ সম্ভব হয়নি। অন্য কেউই এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। এমন কি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের খোদ চেয়ারম্যান ও ডিডি এডমিন, কেউই না। ফোন তো ধরেন নি। হোয়াটস-অ্যাপে মেসেজ দিয়েও মেলেনি কোন সাড়া। আর দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব তদন্তে প্রমানিত হলে সংশ্লিস্ট কেউই ছাড় পাওয়ার কোন সুযোগ নাই। তবে সদ্য সংশ্লিস্ট মন্ত্রনালয়েও বিষয়টি জানানো হয়। তাতে না হয়, কিছু অনিহা ও কিছু সাধুবাদের আলো-আন্ধারের মধ্যেও নিরীহ-নিরব কেউ কেউ এর বিহিতে বেশ আগ্রহী।