ঢাকা ০৩ জুলাই, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রেখে প্রজ্ঞাপন জারি ৫ মন্ত্রী পেলেন নতুন দায়িত্ব ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয় কমেছে দশমিক ৫৮ শতাংশ এলপি গ্যাসের দাম ৩৫৭ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ জার্মানির হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, নিহত ২ এক লাখ শিক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার মিলেমিশে থাকাই বাংলাদেশের মানুষের আবহমানকালের মূল্যবোধ: প্রধানমন্ত্রী করিডরের উপকার তিন দেশই পাবে: চীনা রাষ্ট্রদূত হজযাত্রীদের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ১৯ কেজি সোনা উদ্ধার

দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ও নিরুপায় মানুষের মৃত্যু

#

২৭ আগস্ট, ২০২৪,  11:31 AM

news image

কে. হোসাইন: বিশ্বের কিছু দেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ও সীমা অতিক্রম করছে নিরুপায় মানুষের মৃত্যু ও তার সংখ্যা। মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অবনতি হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি। ভারি বৃষ্টিপাত নিচ্ছে বন্যার রূপ। অথৈই পানিতে ডুবে গেছে বিভিন্ন দেশের নিম্নঅঞ্চলগুলো।  আকস্মিক বন্যার কারণে বাড়ছে পানিবাহী রোগ, প্রতিরোধ বিলম্ব ও নিরাময় কেন্দ্রের অসহায়ত্বের কারণে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। অসহায় মানুষগুলো ঠাঁই না পেয়ে থাকছে কলাগাছ, বাস-কাঠের ভেলায় কেউবা আশ্রয়কেন্দ্রে। অনেকে আবার নিজেদের সহায় সম্বল হারিয়ে হয়ে পড়েছেন নিঃস্ব বানভাসি কচুরি পানার মতো। এছাড়াও শস্য ক্ষেত্র, রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খাদ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। 

গত মে মাস থেকে বিশ্ব বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক বিশ্লেষণ করলে দেখাযায় বাংলাদেশ সহ চারপাশের দেশগুলো মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্থ এই বন্যার কারণে। চলতি মাসে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্থান চীন, মায়ানমার, মালি, থাইল্যান্ডসহ আফ্রিকার দেশ নাইজার, দক্ষিণ সুদান ও আশপাশের দেশগুলোতে  দেখা দিয়েছে বন্যার ভয়াবহতা। দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে বিভিন্ন দেশে বন্যায় চরম দুর্ভোগে দিন পার করছে নিরুপায় মানুষ। গত শুক্রবার চাইনিজ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকারী সিসিটিভি এ খবর জানিয়েছে, চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ লিয়াওনিংয়ে গত কয়েকদিন যাবত ভারি বর্ষণে ১১ জন নিহত এবং আরও ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছে।

রিলিফ ওয়েব এর পরিস্থিতি আপডেট এবং প্রতিক্রিয়া জানা যায়, ৩০ শে জুলাই, ২০২৪-এ ভারত এর মুন্ডাক্কি, চুরামালালা, মেপ্পাদি পঞ্চায়েতের ভেল্লারিমালা গ্রামের কাছে, ভাইথিরি তালুক, ওয়েনাড জেলার একটানা ভারী থেকে অত্যন্ত প্রবল বর্ষণের ফলে একটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।  প্রায় ৭০০ বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে।

স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশনাল সেন্টার (SEOC) কেরালার রিপোর্ট অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট ২৩১ টি মৃতদেহ এবং ২১২ টি শরীরের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে৷ মোট ৬৩০ জন আহত হয়েছে, ২১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, এবং প্রায় ১১৯ জন নিখোঁজ রয়েছে। ওয়েনাডের সমস্ত ত্রাণ শিবির সফলভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷  এসব ক্যাম্পে বসবাসকারী মোট ৭০২টি পরিবারকে এখন ভাড়া বাড়ি, সরকারি কোয়ার্টার এবং আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং বর্তমানে অস্থায়ী আশ্রয়ে রয়েছেন।

মিয়ানমারে জুনের শেষ থেকে, মুষলধারে মৌসুমি বৃষ্টিপাত এবং বিভিন্ন নদীর উপচে পড়া বেশ কয়েকটি রাজ্য ও অঞ্চলকে ডুবিয়ে দিয়েছে, যা ইতিমধ্যেই গুরুতর মানবিক চাহিদাকে বাড়িয়ে দিয়েছে এবং আনুমানিক ৩৯৩০০০ জন মানুষকে চরম  প্রভাবিত করেছে৷ সারাদেশে, আনুমানিক ৩ মিলিয়ন মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত, নতুন বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে অনেকেই বর্ষা মৌসুমে উপযুক্ত আশ্রয় ছাড়াই বসবাস করছেন। UNOCHA তথ্যমতে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০০ মিলিয়ন অসহায় মানুষের মানবিক সহায়তা এবং সুরক্ষা প্রয়োজন।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম