ঢাকা ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কানাডায় ঝড়ের তাণ্ডব, বিদ্যুৎহীন হাজারো পরিবার ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা অপরাধ দমনে পুলিশকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মামলার রায় আগামী সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে জাপানের বিপক্ষে লড়বে ব্রাজিল নতুন করে ৯০ প্রবাসীকে সিআইপি মর্যাদা দিতে যাচ্ছে সরকার দেশকে অস্থিতিশীল করতে সামাজিক মাধ্যমে নানা গুজব রটানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী বেনজীরের অবস্থান জানতে ইন্টারপোলকে পুলিশের চিঠি জিরোপয়েন্ট থেকে সদরঘাট কোনো হকার বসা যাবে না

জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন না করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পেছনে ছুটছে ইরান: রুবিও

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,  11:15 AM

news image

কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত ২৬তম সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকের পর ভারত ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তি হতে যাচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠলেও, তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন না করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পেছনে ছুটছে ইরান। 


তবে এই প্রসঙ্গের পাশাপাশি তিনি বিশ্বের সব দেশের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছেন, আমেরিকার কঠোর নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানকে অর্থ উপার্জনে বা সহায়তায় কোনো দেশ এগিয়ে এলে তাদের ওপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। 


সম্প্রতি ‌‘দ্য ব্রায়ান কিলমিড শো’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারত ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তির খবর নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। রুবিও বলেন, আমি মনে করি না যে ভারত ও ইরানের মধ্যে কোনো বাণিজ্যচুক্তি হতে যাচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন যে, প্রতিটি দেশই নিজস্ব স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে এবং বিশ্বমঞ্চে তেহরানের সঙ্গে একাধিক দেশের যোগাযোগ রয়েছে। এমনকি ওয়াশিংটন নিজেও একাধিকবার তেহরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ রক্ষা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রুবিও মন্তব্য করেন, অবশ্যই বিশ্বের অনেক দেশ নিজেদের মতো পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করে এবং তারা ইরানি সরকারের সঙ্গে আলোচনাও করে। আমরা নিজেরাও তো বিভিন্ন আলোচনার তাগিদে ইরানি শাসনব্যবস্থার অংশীদারদের সঙ্গে দেখা করেছি এবং তাদের সঙ্গে আমাদেরও যোগাযোগ ছিল।


তবে এই আলোচনার মাঝেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ববর্তী কঠোর অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরানকে আমেরিকান নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বা তাদের রাজস্ব বাড়ানোর নতুন কোনো পথ তৈরি করে দিতে কোনো দেশকে সাহায্য করতে দেওয়া হবে না। রুবিওর মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, কোনো দেশেরই উচিত হবে না ইরানকে তাদের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা। ইরান যেন এমন কোনো মেকানিজম তৈরি করতে না পারে যার মাধ্যমে তারা আয় বাড়াতে পারে এবং সেই অর্থ পরবর্তীতে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন কিংবা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করতে পারে—সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আর যদি কোনো দেশ ইরানকে এই কাজে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আমাদের সেই সব দেশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।


ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য তুলে ধরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, তেহরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া হবে না—বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যত দিন দায়িত্বে রয়েছেন, তত দিন তো নয়ই। তিনি জানান, তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রধান উপায় হিসেবে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক অবরোধ বহাল রাখছে, তবে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পথও খোলা রাখা হয়েছে। তার ভাষায়, যত দিন তারা পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়ার চেষ্টা চালাবে বা দাবি করবে, তত দিন তাদের মূল্য চোকাতে হবে এবং এই মূল্যের বড় অংশ হবে অর্থনৈতিক। তবে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করি—শুধু নিজেদের সুরক্ষার জন্যই নয়, বরং তারা যেন অন্যদের হুমকি দিতে না পারে তা নিশ্চিত করতেও আমরা প্রস্তুত। রুবিও তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, তারা দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে অর্থ ব্যয় না করে সেই অর্থ দিয়ে সশস্ত্রগোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পেছনে ছুটছে, যা যুক্তরাষ্ট্র কখনোই হতে দেবে না।


এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে টানা ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি সপ্তাহের সবচেয়ে ভারী সংঘাতের পর দুই দেশ একে অপরকে প্রতিনিয়ত কঠোর হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাতেই মার্কিন বাহিনী ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে ‘অত্যন্ত ভারী আক্রমণ’ চালিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় আবারও এমন হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে। 


অন্যদিকে, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে তেহরান একটি ‘নতুন কৌশল’ গ্রহণ করেছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, আপনারা খুব শিগগিরই দেখতে পাবেন যে যুদ্ধক্ষেত্র, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলার ক্ষেত্রে ইরানের নতুন কৌশল আপনাদের যাবতীয় ভিত্তি গুঁড়িয়ে দেবে। তবে ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখবে এবং তেহরানের সহযোগীদের ওপরও কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেবে।


সূত্র: এনডিটিভি

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম