NL24 News
০৯ মে, ২০২৬, 8:10 PM
জাল দলিলে জমির ক্ষতি পূরণের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা
ডিসি অফিস এলএ শাখার কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তাকে ব্যবহার করেছেন মোশাররফ হোসেন বাবু
এ আর মোল্লা: ইসলামি লেবাসে তুরাগ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যুতা করে আসছে মোশাররফ হোসেন বাবু। বাবুর রয়েছে ৪০-৫০ জনের একটি কিশোর গ্যাং বাহিনী।এই বাহিনী অন্যের জমি দখল করে লাগিয়ে দেয় সাইনবোর্ড। এরপরই শুরু জাল দলিল তৈরির আয়োজন ও রেকর্ডপত্রে নাম উঠানো হয় অসাধু ভূমি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায়। কোন ভুক্তভোগী প্রতিবাদ করলেই তাকে বিভিন্ন মামলা দিয়ে করা হয় হয়রানি। তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ায় এলাকার চিহ্নিত কিছু আওয়ামী গডফাদার ও স্থানীয় প্রশাসনের কিছু সদস্যকে সবসময় অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে চলতেন। ফলে ভুক্তভোগীরা বিচার পাওয়া তো দূরে থাকুক উল্টো মামলা-হামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হতেন। তবে ৫ই আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা হলে তিনি কিছুদিন গাঁ ঢাকা দেন। কিন্তু টাকা থাকলে বাঘের চোখও কেনা যায় এমন প্রবাদই সত্য হয়েছে বাবুর ক্ষেত্রে।
সম্প্রতি তিনি বিএনপি-জামাতের একাধিক পথভ্রষ্ট নেতার সহযোগিতায় আবারও তার পূর্বের রাজত্ব ফিরে পেয়েছেন। তুরাগ থানাধীন নলভোগ এলাকায় অনুসন্ধান করলে এসব অপকর্মের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। তবে জাল দলিল দিয়ে মালিক সেজে ডিসি অফিস থেকে ভুক্তভোগী রমজানের জমির ক্ষতিপূরণের টাকা নিতে এসে মিডিয়ার জালে ধরা খেয়েছেন বাবু। এক্ষেত্রেও তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নামধারী কিছু সন্ত্রাসী ও ডিসি অফিস এলএ শাখার কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তাকে ব্যবহার করেছেন। সন্ত্রাসীরা রমজানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাকে এলএ শাখায় ঢুকতে দেয়নি। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগী রমজান। অন্যদিকে কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় বাবু তার জাল দলিল বলে রেকর্ডের ধারাবাহিকতায় রমজানের ক্ষতিপূরণের টাকা অবৈধভাবে নেয়ার আগ মুহূর্তে ধরা পড়ে যায় মিডিয়ায় জালে।
পরবর্তীতে সংবাদকর্মীদের সহযোগিতায় আইন অনুযায়ী জেলা প্রশাসক বরাবর বিলটির বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তি প্রদান করেন। রমজান আপত্তিতে বলেন, ঢাকা জেলার তুরাগ থানাধীন সিএস-১৩৬ নং খতিয়ানের সিএস-১২৮, ১২৯, ২০৭ নং দাগসহ অপরাপর দাগের ভূমিতে জনৈক মৃত আইনুদ্দিন শেখ এর পুত্র হোসেন আলী শেখ, একাব্বর শেখ, জব্বার আলী শেখ এবং স্ত্রী বানু বিবি মালিক ছিলেন। পরবর্তীতে এসএ ২৭৬ ও ২৮০ নং খতিয়ানের এসএ-১২৮, ১২৯, ২০৭ নং দাগের ভূমি একাব্বর শেখ এর পুত্র এবং আমি দরখাস্তকারীর বাবা আব্দুল গফুর এর নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তীতে নলভোগ মৌজার আরএস-২৩৫ ও ২৫১ নং খতিয়ানের ২২৭, ২২৮ ও ২২৯ নং দাগের ভূমি সিটি-৩৩৭ নং খতিয়ানের ১০৫৭ নং দাগে আমেনা বেগম, ১০০০ খতিয়ানে ১০৫৯ দাগে মিন্নত আলী ৭০১/১ খতিয়ানে ১০৫৯ নং দাগে নাজিম উদ্দিন গং ৫৭০ নং খতিয়ানে ১০৫৭ নং দাগে গোলেনুর বেগম গং এবং একই দাগে ৫৯১ নং খতিয়ানে ছায়েদ আলী, ৭৫৯ নং খতিয়ানে ১০৫৭ ও ১০৫৮ নং দাগে নাগর আলী গং, ৮৫১ নং খতিয়ানে ১০৫৯ নং দাগে ফরিদ আহম্মেদ, ১০৫৭ নং খতিয়ানে ১০৫৯ নং দাগে সাইজুল হক গং, ১৫২০ নং খতিয়ানে ১০৫৯ নং দাগে তাহের আলী গংদের নাম ভুলবশত রেকর্ডভুক্ত হয়।
অত্র দাগের সম্পত্তি আমরা উপস্থিত না থাকায় আমার নামে সিটি রেকর্ড হয় নাই বিধায় আমরা উল্লেখিত ভূমির মালিকানা ও রেকর্ড সংশোধনের ঢাকা সিটি রেকর্ড সংশ্লেষণের বিষয়ে ঢাকা জেলার বিজ্ঞ ১ম যুগ্ম জেলা জজ, আস্বপ্নত্বে দেওয়ানী ৪৬৩/২০২১ নং মোকদ্দমা চলমান। বর্তমানে নিম্ন তফসিল বর্ণিত ভূমি ঢাকা ওয়াসা উত্তরা এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশন। উল্লেখিত ভূমির মালিকানা ও সিটি জরিপ সংশোধনের বিষয় ঢাকা জেলার বিজ্ঞ ২য় যুগ্ম জেলা জজ, ১ম আদালত দেওয়ানী ৫১৮/২৪ চলমান এবং সিআর মামলা নং ৮৮৩/২৫ (কোতোয়ালি থানা) তদন্তাধীন। বর্তমানে তফসিল বর্ণিত ভূমি ঢাকা ওয়াসা, উত্তরা এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশন শোধনাগারের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। আমি এবং অপর পক্ষ ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করলে আমরা বিগত ১০-০২-১৯২৭ ইং তারিখের দলিল নং-১০২২ এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আবেদন করলে বিগত ১৯-০৫-২০২৫ ইং তারিখে রেজিষ্ট্রেশন শাখা হতে একখানা প্রতিবেদন দাখিল করেন যে অত্র দলিল দ্বারা অত্র দাগের কোন সম্পত্তি বিক্রয় করা হয় নাই বিধায় উক্ত মোকদ্দমা চলমান থাকা অবস্থায় উল্লেখিত দাগের ভূমির অধিগ্রহণকৃত টাকা প্রদান করা হইলে আমি দরখাস্তকারীসহ আমার ছোট বোন কহিনুর অপূরনীয় ক্ষতির মুখে পড়বো।
আমার অত্র বিষয় নিয়ে দেওয়ানী মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকায় বিগত ০৫-০৫-২০২৬ ইং ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা শাখা-৫ এর একখানা আদেশ প্রদান করেন। যেহেতু মোকদ্দমাসমূহ বিচারাধীন আছে বিধায় অত্র মোকদ্দমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত জমির ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখা একান্ত আবশ্যক, অন্যথায় আমার অপূরণীয় ক্ষতি হবে। বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে মোশাররফ হোসেন বাবুর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি পরিচয় দিয়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। জাল দলিল দিয়ে মালিকবনে যাওয়া মোশাররফ হোসেন বাবু রমজানের জমির ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাৎ চেষ্টার বিষয়ে এডিসি লিটুস লরেন্স চিরানকে, আপনারা জাল দলিলের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পরেও মোশাররফ হোসেন বাবুর পক্ষে বিল দেয়ার অর্ডার দিতে পারেন কিনা? এমন প্রশ্ন করলে তিনি প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়ে বিষয়টি দেখবেন বলে জানান। তবে এসব বিষয়ে জানতে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের কার্যালয়ে একাধিকবার গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার মোবাইলে পরিচয় দিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।