স্পোর্টস ডেস্ক
১০ জানুয়ারি, ২০২৬, 11:02 AM
গোলখরায় ভিনিসিয়ুস, মাঠে হতাশা আর হলুদ কার্ড
একজন উইঙ্গারের প্রধান দায়িত্ব প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠানো। পাশাপাশি অ্যাসিস্টে অবদান রাখাও প্রত্যাশিত। কিন্তু ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সেই মানদণ্ডে একেবারেই ফিকে। একজন উইঙ্গারের মূল দায়িত্ব প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানো, পাশাপাশি গোলের সুযোগ তৈরি করে সতীর্থদের সহায়তা করা। কিন্তু ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সেই মানদণ্ডে একেবারেই হতাশাজনক। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সবশেষ ২০ ম্যাচে গোলের খাতা খুলতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদের এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। এ সময়ে পেয়েছেন মাত্র তিনটি অ্যাসিস্ট। বিপরীতে শাস্তির খাতায় নাম লিখিয়েছেন আরও ঘন ঘন—চারটি হলুদ কার্ড পেয়েছেন এসময়। ভিনিসিয়ুসের সর্বশেষ গোলের জন্য ফিরতে হবে প্রায় ৬০ দিন পেছনে। সবশেষ গত বছরের ১০ অক্টোবর জাতীয় দলের গোল হয়ে করেছিলেন ভিনি। সাউথ কোরিয়ার বিপক্ষে ১ গোল ও এক অ্যাসিস্ট পেয়েছিলেন ভিনি। তার আগে ৫ অক্টোবর ক্লাবের হয়ে লা লিগায় জোড়া গোল পেয়েছিলেন ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে। এরপর থেকে গোল যেন হারিয়েই ফেলেছেন ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। ফর্মহীনতার সঙ্গে যোগ হয়েছে মাঠের উত্তেজনা ও আচরণগত বিতর্ক। শেষ ২০ ম্যাচে চারবার হলুদ কার্ড দেখার পাশাপাশি একাধিকবার জড়িয়েছেন নিজ দলের কোচ, প্রতিপক্ষ কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে তর্কে। গতবছরের ২৬ অক্টোবর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এল ক্লাসিকোতে ৭২ মিনিটে বদলি হিসেবে তুলে নেওয়া হয় ভিনিসিয়ুসকে। সিদ্ধান্তটি মেনে নিতে পারেননি তিনি। টাচলাইনের দিকে হাঁটার সময় বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রকাশ্যেই। বদলি হিসেবে রদ্রিগোকে নামানোর সিদ্ধান্ত নেন কোচ জাবি আলোনসো, যা নিয়েই মূলত ক্ষোভের সূত্রপাত। সাধারণত বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় কোচের সঙ্গে হাই-ফাইভ বা কোলাকুলি করেন খেলোয়াড়রা। কিন্তু ভিনিসিয়ুস সেই সৌজন্য দেখাননি। আলোনসোর দিকে তাকানো তো দূরের কথা, বেঞ্চেও না বসে সরাসরি টানেলের দিকে চলে যান। পরে ফিরে এলেও কোচের সঙ্গে সম্পর্কের শীতলতা স্পষ্ট ছিল। সবশেষ সুপারকোপার সেমিফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমিওনের সঙ্গেও তর্কে জড়ান ভিনিসিয়ুস। ম্যাচ চলাকালীন সিমিওনের খোঁচায় উতপ্ত হয়ে পাল্টা জবাব দেন রিয়ালের ৭ নম্বর জার্সিধারী। গোল নেই, ফর্ম নেই—তার ওপর আচরণগত বিতর্ক। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জন্য সময়টা যে মোটেও স্বস্তির নয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় সত্য।