ঢাকা ২৪ মার্চ, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঈদের আগে দাম কমলো সোনার স্বাধীন বাংলার জনগণের প্রত্যাশা পূর্ণ হোক চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে ঈদ শুক্রবার জাবির হল থেকে ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার দেশে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা নেই, জুলাই পর্যন্ত মজুদ রয়েছে: খাদ্যমন্ত্রী রাজশাহীতে ট্রাকের ধাক্কায় বাবা-ছেলে নিহত বিসিএফ-এর ইফতার মাহফিলে বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠার আলোচনা রুট গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ আইসিসি থেকে বড় সুখবর পেলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক

গাজায় আরও ৬৪ ফিলিস্তিনি নিহত, ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ গেল ১৩ জনের

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৭ আগস্ট, ২০২৫,  10:49 AM

news image

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় একদিনে আরও ৬৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে প্রাণ হারান ১৩ জন। আর অনাহার ও অপুষ্টিতে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের। বুধবার (২৭ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা গাজার সবচেয়ে বড় শহর গাজা নগরীতে আরও গভীরভাবে ঢুকে পড়েছে। পুরো মহল্লা-মহল্লা ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে, ফলে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর আর কোথাও আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থাকছে না। এর মধ্যেই ইসরায়েলি অবরোধ সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ভয়াবহ আকার নিয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) গাজা নগরীর পূর্বাঞ্চলে একটি জনবহুল বাজারে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। আল-আহলি আরব হাসপাতালের সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী ছিলেন। আল জাজিরার যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরায়েলি হামলার মুখে উত্তর গাজার আস-সাফতাওয়ি এলাকা থেকে মানুষ পালাচ্ছে। প্রায় ১০ লাখ মানুষকে জোর করে দক্ষিণ দিকে ‘কনসেন্ট্রেশন জোনে’ ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে ইসরায়েল। ধ্বংসস্তূপে ভরা ধুলোমাখা রাস্তায় লম্বা সারি বেঁধে হাঁটছে নারী-পুরুষ-শিশুরা। কারও হাতে ব্যাগ, কম্বল, খাটিয়া, কেউ ঠেলাগাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছে সামান্য জিনিসপত্র, আবার কেউ ছোট ছোট বাচ্চাদের হাত ধরে হাঁটছে। প্যালেস্টাইনি সিভিল ডিফেন্সের হিসাব অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া টানা অভিযানে গাজা নগরীর জায়তুন ও সাবরা এলাকায় এক হাজারেরও বেশি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েল। গাজা নগরীর বাসিন্দা ও লেখক সারা আওয়াদ বলেন, ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে প্রতিদিন এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে— নিজ ঘরে থেকে অবিরাম বোমাবর্ষণের ঝুঁকি নেবে, নাকি আবারও উদ্বাস্তু হবে। তিনি বলেন, আমি সব সময় ভাবি, কেন আমাকে পালিয়ে গিয়ে তাঁবুতে থাকতে হবে, অথচ আমার ঘর তো এখানেই? প্রতিদিন দেখি পরিবারগুলো ঘর ছাড়ছে, অথচ তাদের যাওয়ার জায়গা নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থিত জিএইচএফ চলতি বছরের মে মাসের শেষ দিকে ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সাহায্য সংগ্রহের চেষ্টায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জাতিসংঘের মানবিক দপ্তর (ওসিএইচএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে— গাজা উপত্যকায় ক্ষুধা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে এবং জরুরি সেবাগুলো ভেঙে পড়ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহারে মারা গেছেন আরও তিনজন, ফলে গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৩ জনে, যার মধ্যে ১১৭ জনই শিশু।


logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম