ঢাকা ১৬ মে, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ফারাক্কা ব্যারাজের বিরূপ প্রভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতেও পড়ছে: রিজভী স্মার্টফোন মানুষের সাধের মধ্যে আনতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা কুমিল্লাকে বিভাগ করা জনগণের দাবি হলে বাস্তবায়ন হবে: তারেক রহমান ধামরাইয়ে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ২৫ বিশ্বকাপের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, দলগুলোর বেস ক্যাম্পে ব্যস্ততা রোববার রাত থেকে ১৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায় কুমিল্লায় পথসভায় প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যার মধ্যে ৭ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা আরও ৪৫ দিন বাড়ল ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বরগুনার ​বামনায় ইনসাফ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শুভ উদ্বোধন, স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত

কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পিঁয়াজের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ এপ্রিল, ২০২৫,  11:19 AM

news image

ভরা মৌসুমের মধ্যেই হঠাৎ করে বেড়েছে পিঁয়াজের দাম। তিন-চার দিনের ব্যবধানেই প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। এই দাম বৃদ্ধি আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ উঠেছে, ভারত থেকে পিঁয়াজ আমদানির পাঁয়তারা করছেন কিছু আমদানিকারক। তারাই সিন্ডিকেট করে দেশের বাজারে পিঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছেন।

দেশে বাজারে পিঁয়াজের দাম বাড়তি থাকলে সরকার পিঁয়াজ আমদানির সুযোগ দেবে। এতে তাদের ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে পিঁয়াজের ভরা মৌসুমে দাম বৃদ্ধির কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করছে সাধারণ ক্রেতারা। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে মানভেদে পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে।

যদিও গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দেশি পিঁয়াজ প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়। তবে পহেলা বৈশাখের পরপরই তা বাড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আড়তে পিঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় হঠাৎ করেই পাইকারিতে দাম বেড়ে গেছে। ঢাকায় সবচেয়ে বেশি পিঁয়াজ আসে ফরিদপুর থেকে।

ফরিদপুরে পিঁয়াজের দাম বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই ঢাকার বাজারে তার প্রভাব পড়ছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের বাজারে পিঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও দাম বেড়ে এখন ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

রাজধানীর এক পিঁয়াজ বিক্রেতা জানান, চার দিন আগেও ৪০ টাকা কেজি দরে পিঁয়াজ বিক্রি করেছি। এখন পাইকারিতেই কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এ কারণে প্রতি কেজি পিঁয়াজ ৫৫ টাকার নিচে বিক্রি করা যাচ্ছে না।

কারওয়ান বাজারের আরেক পিঁয়াজ বিক্রেতাও একই রকম দাবি করে বলেন, দাম বাড়ার পেছনে খুচরা বিক্রেতাদের কোনো হাত নেই। পাইকারি বাজার থেকে যে দামে কিনি, সেই অনুযায়ী বিক্রি করি। আমরা নিজেরাও জানি না কেন এমন বাড়ল।

তবে আড়তদাররা জানাচ্ছেন ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্য, এবার মুড়িকাটা পিঁয়াজে কৃষকরা দাম না পেয়ে লোকসান গুনেছেন। ফলে তারা হালি পিঁয়াজ সব বাজারে না ছেড়ে মজুদের দিকে ঝুঁকছেন। এতে সরবরাহ কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে আড়ত, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে। পিঁয়াজের দামের হঠাৎ এই ঊর্ধ্বমুখিতায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বাজার করতে এসে ক্রেতারা বলছে, বাজারে নতুন করে সিন্ডিকেট শুরু হয়েছে। দেশের বাজারে পিঁয়াজের দাম কম থাকুক, সেটা কিছু অসাধু পিঁয়াজ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী চান না। তাই পাইকারি পর্যায় ও আড়তে এখন থেকেই নজরদারি বাড়াতে হবে, তা না হলে সামনে পিঁয়াজের দাম আরো বেড়ে যাবে। এদিকে পিঁয়াজের উৎপাদন মৌসুমে ন্যায্য দাম পাননি কৃষকরা। এখন তাদের হাতে তেমন পিঁয়াজ নেই, মজুদদারদের হাতে চলে গেছে পিঁয়াজ। এই সুযোগে সিন্ডিকেট করে তারা দাম বাড়িয়ে বাজার অস্থির করার চেষ্টা করছেন বলে বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। 

ক্রেতারা বলছেন, রমজান মাসে পিঁয়াজের বাড়তি চাহিদা থাকার পরও দাম বাড়েনি। এখন হঠাৎ করে এক লাফে কেজিতে ১৫ টাকা দাম বেড়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক। সরকারের উচিত অবিলম্বে বাজার মনিটরিং জোরদার করা। তা না হলে কোরবানির ঈদের আগে বাজার চরম অস্থির হয়ে উঠতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কমেছে ঠিকই, তবে যে হারে দাম বাড়ছে, তা অস্বাভাবিক। আবারও বাজার সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে, যারা কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে মুনাফা লুটছে।

এ বিষয়ে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, পিঁয়াজের আকস্মিক দাম বৃদ্ধির বিষয়টি ব্যবসায়ীদের নেতিবাচক ব্যবসা চর্চার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার এবং এই খাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজির অংশ। আগে ভারত থেকে পিঁয়াজ আসতে বিলম্ব হলেই এখানে দাম বেড়ে যেত। এখন পিঁয়াজের আড়তদার, কমিশন এজেন্ট, দাদন ব্যবসায়ীরা পিঁয়াজ কিনে মজুদ করে রাখছেন। সে কারণে দাম বেড়েছে। অন্যদিকে পেঁয়াজের বাজারে কোনো তদারকি হয় না। ভোক্তা অধিদপ্তর বা জেলা প্রশাসন এখানে কোনো তদারকি করে না। সূত্র: কালের কণ্ঠ

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম