ঢাকা ০৫ এপ্রিল, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
১৫ টাকায় চাল পাচ্ছে ৫৫ লাখ পরিবার শিক্ষকদের উৎসব ভাতা বাড়ানো নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধের সময় নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানাল সরকার চাঁদাবাজির মামলায় খালাস পেলেন আ.লীগের সাবেক এমপি মোজাম্মেল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চের নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইন না অফলাইন, সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহেই: শিক্ষামন্ত্রী দুই ‘গাদ্দারের’ ফাঁসি দিল ইরান সারাদেশে হামের টিকা দেওয়ার তারিখ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এনএসসির তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া দেননি আসিফ মাহমুদ ইরানের তীব্র প্রতিরোধের মাঝেও যেভাবে উদ্ধার করা হলো মার্কিন পাইলটকে

ইরানের তীব্র প্রতিরোধের মাঝেও যেভাবে উদ্ধার করা হলো মার্কিন পাইলটকে

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৫ এপ্রিল, ২০২৬,  2:13 PM

news image

ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়া ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে জীবিত উদ্ধারের এক রুদ্ধশ্বাস ও নাটকীয় বিবরণ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  রোববার (৫ এপ্রিল)  ইস্টার সানডের প্রথম প্রহরে এক বিশেষ বার্তায় নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে এই সফল অভিযানের কথা নিশ্চিত করেন তিনি। খবর সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার। ট্রাম্প বলেন, একটি ‘দুঃসাহসিক’ অনুসন্ধান ও বিশেষ উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে নিখোঁজ থাকা ওই পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে। অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে শত্রুর একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করা ওই সম্মানিত পাইলট কিছুটা আহত হয়েছেন, তবে তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে আছেন। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ দুই দিন পর ওই পাইলটকে শত্রুর সীমানা থেকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আমার সরাসরি নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাকে অক্ষত উদ্ধারের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সমরাস্ত্রে সজ্জিত ডজনখানেক বিমান পাঠায়। তিনি কিছুটা আহত হয়েছিলেন, তবে খুব দ্রুতই পুরোপুরি ঠিক হয়ে যাবেন। এদিকে, আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শত শত চৌকস বিশেষ অভিযান বাহিনীর (স্পেশাল ফোর্স) কমান্ডো সদস্য এই ছায়া অভিযানে সরাসরি অংশ নেয়। মার্কিন এই কমান্ডোরা চরম ঝুঁকি নিয়ে ইরানের ভূখণ্ডের গভীরে প্রবেশ করে ওই বিমানচালককে উদ্ধার করে এবং তাকে নিরাপদে দেশ থেকে বের করে নিয়ে আসে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারে শুরু হওয়া এই নাটকীয় ও স্নায়ুক্ষয়ী অভিযান শেষ হয় দিনের আলো ফোটার পর। তবে পুরো অভিযানটি মোটেও পরিকল্পনা অনুযায়ী মসৃণভাবে এগোয়নি। উদ্ধারের সময় চারপাশ থেকে গর্জে ওঠা ইরানি বাহিনীর হালকা ও ভারী অস্ত্রের তীব্র গোলাগুলির মধ্যেই মার্কিন কমান্ডো বাহিনী ওই বিমানচালককে নিজেদের কব্জায় নিতে সক্ষম হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, এর আগে শনিবার প্রথম উদ্ধার অভিযানে আরেকজন পাইলটকেও সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় উদ্ধার অভিযানটি বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বা শত্রুরা সতর্ক হয়ে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় প্রথম অভিযানের খবরটি আগে প্রকাশ করা হয়নি।্লে

ট্রাম্প আরও লিখেছেন, “সামরিক ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো শত্রুর ভূখণ্ডের গভীরে ঢুকে পৃথকভাবে দু’জন মার্কিন পাইলটকে অক্ষত উদ্ধার করা হলো। আমরা কখনোই সমরাঙ্গনে কোনো মার্কিন বীর যোদ্ধাকে একা ফেলে আসি না! কোনো একজন মার্কিন সদস্যের বড় ক্ষতি ছাড়াই এই দুটি অতি গোপনীয় অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া প্রমাণ করে যে, আমরা ইরানের আকাশে শতভাগ পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি। এটি এমন এক গৌরবময় মুহূর্ত, যা নিয়ে পৃথিবীর সব আমেরিকানের গর্ব করা উচিত।”

উদ্ধার হওয়া অসম সাহসী ওই ক্রু বা পাইলটদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। তবে ট্রাম্প জানান, উদ্ধারকৃত দ্বিতীয় সেনানী একজন ‘অত্যন্ত সম্মানিত কর্নেল’ এবং বর্তমানে তিনি ‘সম্পূর্ণ নিরাপদ’ জায়গায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এই সাহসী যোদ্ধা ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শত্রুদের ঠিক পেছনে লুকিয়ে ছিলেন এবং শত্রুরা ক্রমশ তার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছিল। তবে তিনি কখনোই একা ছিলেন না, কারণ মার্কিন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তার অবস্থান প্রতি মুহূর্তে নিখুঁতভাবে নজরদারিতে রাখা হচ্ছিল।

এর আগে গত শুক্রবার সম্পূর্ণ পৃথক দুটি ঘটনায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী আমেরিকার দুটি শক্তিশালী সামরিক বিমান ভূপাতিত করার দাবি করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো ফলাও করে জানিয়েছিল, পারস্য উপসাগরে সংঘর্ষের পর একটি মার্কিন ‘এ-১০ ওয়ার্টহগ’ গ্রাউন্ড-অ্যাটাক বিমানও তারা গুলি করে সাগরে আছড়ে ফেলেছে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম