ঢাকা ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় ইয়াবা তৈরির সরঞ্জামাদি ও ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ২ হাজার টাকা ছাড়াল ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম রাড্ডা ক্লিনিক দখলমুক্ত ঘোষণা, টাঙানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির সাইনবোর্ড প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ রূপপুরের জ্বালানিবাহী বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান সপ্তম দিনেও থামেনি চুয়েট আন্দোলন প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিতদের জন্য বড় সুখবর কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত টার্মিনাল থেকে যাত্রীসেবা শুরু সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাইবার আইনের অপপ্রয়োগ চাই না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালমনিরহাটে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪, আহত ৬

ইউরোপে বাংলাদেশি তরুণের বাজিমাত​

#

০৬ মে, ২০২৬,  6:20 PM

news image

ডেস্ক রিপোর্ট: পোল্যান্ডে বাংলাদেশি এক তরুণ উদ্যোক্তা কাজ করছেন মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নে। নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমকে পুজিঁ করে বিদেশের মাটিতে ব্যবসায়িক খাতে এক নতু ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। বাংলাদেশি বংশদ্ভূ ত এই বাঙালি উদ্যোক্তা ইদানীংকালে বিশেষভাবে নজরে এসেছেন পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিজনেস এবং ইমিগ্রেশন কনসালটেন্সিতে তাঁর প্রতিষ্ঠানটি খুব কম সময়েই পেয়েছে বৈশ্বিক স্বীকৃতি। কথা হচ্ছিল মাহাদি মুহাম্মদ-এর সাথে, যিনি পোল্যান্ডভিত্তিক বিজনেস এবং ইমিগ্রেশন কনসালটেন্সি ফার্ম "লেক্স করপোরেশন" (Lex Corporation)-এর কো-ফাউন্ডার। পোল্যান্ডের ব্যবসায়িক মহলে তিনি ‘মুহাম্মদ’ নামেই পরিচিত; নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের জায়গা থেকে এই নামটির প্রতি তাঁর রয়েছে বিশেষ অনুরাগ। শুরুতে স্থানীয় বাজার নিয়ে ছোট পরিসরে কাজ শুরু করলেও অভিজ্ঞ পোলিশ আইনজীবী, অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও এইচআর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ধীরে ধীরে আজ প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমাদৃত। বর্ত মানে লেক্স করপোরেশন অত্যাধুনিক ডিজিটাল অথেনটিকেশন ও আইডেন্টিফিকেশন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। বৈশ্বিক পর্যায়ের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পোল্যান্ড সরকার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে তারা সরাসরি সম্পৃক্ত।

কেবল পরামর্শ সেবাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিষ্ঠানটি এখন 'জিটু বি' (G2B) এবং ভিসা আউটসোর্সিং খাতেও নিজেদের পরিধি বাড়াচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের সাথে তারা এখন ভিএফএস গ্লোবালের মতো আন্তর্জাতিক মানের সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। ​ব্যবসায়িক পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে কোম্পানিটি নিজস্ব উদ্যোগে একটি ইউরোপীয় সার্টি ফাইড ট্রান্সলেশন সেন্টার এবং একটি প্রাইভেট জেট রেন্টাল ও অপারেশন কোম্পানি গড়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের বহুমুখী সেবার মাধ্যমে 'লেক্স করপোরেশন' এখন একটি শক্তিশালী ও নির্ভ রযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবার নজর কেড়েছে। বর্ত মানে ডিজিটাল অথেনটিকেশন ও আইডেন্টিফিকেশন প্রযুক্তিতে তাঁর প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি ও বিভিন্ন দেশের সরকারের সাথে কাজ করছে। এই প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে মুহাম্মদ বলেন: "২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক চু ক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বের সব দেশের জন্যই ডিজিটাল অথেনটিকেশন ও আইডেন্টিফিকেশন প্রযুক্তি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়বে।"এই প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখেই তাঁরা বর্ত মানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি ইউরোপের বাইরের বিভিন্ন দেশের সরকারকে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন। এর পাশাপাশি কোম্পানিটি এখন G2B এবং ভিসা আউটসোর্সিং খাতে নিজেদের মেলে ধরছে।

মুহাম্মদ জানান, তাঁরা বর্ত মানে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের সাথে 'ভিসা আউটসোর্সিং সেন্টার' (VOC) স্থাপনের কাজ করছেন। ভিএফএস গ্লোবাল বা বিএলএস ইন্টারন্যাশনালের মতো সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই বেশ কিছু দেশের সরকারের সাথে তাঁদের সমঝোতা স্মারক (MoU) ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে গোপনীয়তার স্বার্থে দেশগুলোর নাম এখনই প্রকাশ করছেন না তিনি। বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর চিন্তা ও স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে এই তরুণ উদ্যোক্তা দেশপ্রেমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, প্রত্যেকের মধ্যেই দেশপ্রেম থাকা জরুরি। মুহাম্মদ বলেন: "আমার ব্যবসা ইউরোপে হলেও আমরা পোল্যান্ডসহ পুরো ইউরোপে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এবং প্রবাসীদের নিয়মিত সহায়তা দিচ্ছি। আমি মনে করি, এর মাধ্যমে আমরা পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির সাথেই যুক্ত আছি।" ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও ভিসা আউটসোর্সিং সেন্টার (VOC) সম্প্রসারণের বড় পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। মুহাম্মদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের মানুষের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ ও আধুনিক করা, যাতে দীর্ঘ অপেক্ষার সময় কমে আসে এবং পার্শ্ববর্তী কোনো দেশে গিয়ে ভিসা আবেদনের ভোগান্তি থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পায়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্যের শিখরে থাকলেও শিকড়ের টান অটুট রাখা এবং নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে দেশের মানুষের উপকারে আসাই এই তরুণ উদ্যোক্তার মূল লক্ষ্য।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম