ঢাকা ০৯ জুলাই, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের শপথে বাধা নেই: হাইকোর্ট পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর টানা বৃষ্টিতে পানিবন্দি ভোলার কয়েক হাজার মানুষ কুয়েত, বাহরাইনে ফের হামলা চালাল ইরান প্রাথমিকে শিক্ষক পদে ৪৬ হাজার পরিক্ষার্থীর ফলাফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ সিলেট ও চট্টগ্রামে ১০ স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যার আশঙ্কা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা করে পালালো পাষণ্ড স্বামী প্রাথমিকের বৃত্তির ফল আজ প্রকাশ হচ্ছে না ইরানের ‘হত্যার তালিকায়’ শীর্ষে আমি: ট্রাম্প ফ্রান্সের বিপক্ষে মহারণের আগে বড় ধাক্কা মরক্কোর

আশ্রয়প্রার্থীদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে জার্মানি

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ মার্চ, ২০২৪,  4:30 PM

news image

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংকটের জের ধরে ইউরোপে শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে৷ জার্মানিতে বহিরাগতদের সেই ঢলকে কেন্দ্র করে প্রবল রাজনৈতিক বিবাদ চলছে৷ এএফডি-র মতো চরম দক্ষিণপন্থি দল বিষয়টিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের অনিশ্চয়তার ফায়দা তুলছে৷ এমন পরিস্থিতিতে ফেডারেল ও রাজ্য সরকারগুলো সংকট সামাল দিয়ে নিয়ন্ত্রণহীনতার অভিযোগ খণ্ডন করার চেষ্টা করছে৷ গত নভেম্বর মাসে চ্যান্সেলর ও মুখ্যমন্ত্রীরা একগুচ্ছ পদক্ষেপের বিষয়ে ঐকমত্যে এসেছিলেন৷গতকাল বুধবার (৬ মার্চ) জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস ও ১৬টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা অভিবাসন নীতির বিভিন্ন দিক ও বাস্তব সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন৷ বার্লিনে শলৎস বলেন, বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখনই তার সুফল দেখা যাচ্ছে না৷ যেমন আশ্রয়প্রার্থীদের নগদ আর্থিক সহায়তার বদলে ডেবিট কার্ড দেওয়ার পদক্ষেপ কার্যকর করতে সময় লাগছে৷ অনেক আশ্রয়প্রার্থীরা এতকাল নগদ অর্থ নিজেদের দেশে পাঠিয়ে আসছেন বলে সমালোচনা হচ্ছিল৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশে শরণার্থীদের আবেদন পরীক্ষার ব্যবস্থার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ আগামী ২০ জুন আগামী শীর্ষ বৈঠকের আগে সেই উদ্যোগের প্রাথমিক ফলের জন্য মুখ্যমন্ত্রীরা চাপ দিচ্ছেন৷ সেই সব পদক্ষেপের পাশাপাশি শলৎস অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন সীমিত করতে সব সময়ে সক্রিয় থাকার ওপর জোর দেন৷ তার মতে, গত ২০-২৫ বছরে এমন সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি৷ প্রধান বিরোধী ইউনিয়ন শিবির সরকারের উপর আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যার ঊর্ধ্বসীমা স্থির করার জন্য চাপ দিচ্ছে৷ কিন্তু আন্তর্জাতিক ও জাতীয় আইনের আওতায় এমন কোনো সুযোগ নেই বলে সরকার ও কয়েকটি রাজ্য মনে করছে৷ তবে সব মিলিয়ে নভেম্বর মাসে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে চ্যান্সেলর ও মুখ্যমন্ত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন৷ কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কিছু বাড়তি পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন৷ যেমন বাভেরিয়া ও স্যাক্সনি রাজ্য সরকার ইউক্রেন থেকে আসা মানুষের বিশেষ আর্থিক সুবিধা বন্ধ করে আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে তাদের সাধারণ আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে গণ্য করার দাবি তুলছে৷ আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা কমাতে ইউনিয়ন শিবিরের মুখ্যমন্ত্রীরা আরও কিছু দেশের সঙ্গে অভিবাসন চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছেন৷ সে ক্ষেত্রে আশ্রয়ের আবেদন নাকচ হলে সেখান থেকে আসা মানুষদের ফেরত পাঠানো সহজ হবে৷ ২০২৩ সালে জার্মানিতে প্রায় তিন লাখ ঊনত্রিশ হাজার বহিরাগত রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন৷ ২০২২ সালের তুলনায় সংখ্যাটা প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি৷ তার উপর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন থেকে প্রায় দশ লাখ শরণার্থী জার্মানিতে এসেছেন৷ বহিরাগতদের এমন ঢল সামলাতে বিশেষ করে পৌর স্তরে নানা সমস্যা দেখা যাচ্ছে৷ তাদের বাসস্থান, ভাষা শিক্ষা, শিশু-কিশোরদের জন্য কিন্ডারগার্টেন বা স্কুলের ব্যবস্থা অনেক পৌর কর্তৃপক্ষের সাধ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে৷ বাড়তি আর্থিক ব্যয়ভার নিয়েও সমস্যা দূর হয়নি৷ নভেম্বরের বৈঠকে প্রত্যেক আশ্রয়প্রার্থীর জন্য পৌরসভাগুলোকে বছরে ৭,৫০০ ইউরো অনুদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও অনেক শহর ও গ্রাম ঘাটতির অভিযোগ করছে৷

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম