NL24 News
১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, 12:45 PM
আজ সাভার ও আশুলিয়া মুক্ত দিবস
ওবায়দুর রহমান লিটনঃ আজ ১৪ ডিসেম্বর সাভার হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালে সারাদেশের মত মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়েছিলেন এখানকার প্রায় আড়াইশ নিরস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা। এদিন ১৬ বছরের কিশোর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোহাম্মদ দস্তগীর টিটোর আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে হানাদার মুক্ত হয় সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলটি। এই দিনটি উপলক্ষে শ্রদ্ধার সাথে নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে সাভার আশুলিয়াবাসী। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের বর্ণনা অনুযায়ী, ভারতের অন্তিম নগর হতে ২নং সেক্টরের অধীনে ৫২ জন গেরিলা আশুলিয়ার গাজীবাড়ী এলাকার নেঁদু খার বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপন করেন। এসময় দেড় মাস প্রশিক্ষণ দেয়া হয় কয়েক শতাধিক নিরস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাকে। পরে মুক্তিযোদ্ধারা আশুলিয়ার তৈয়বপুর ক্যাম্পে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর নেতৃত্বে আরও একটি ক্যাম্প তৈরি করেন। ১৪ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র দুদিন আগে। ক্যাম্পে খবর আসে পাক হানাদার বাহিনীর ৪০-৫০ জনের একটি দল টাঙ্গাইলে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে নাস্তানাবুদ হয়ে ঢাকার ক্যাম্পে ফিরছে। সে অনুযায়ী কমান্ডার নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর নেতৃত্বে একটি দল আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার ঘোষবাগ-গঙ্গাবাগ গ্রামে অবস্থান নেন। পাক হানাদার বাহিনী সেখানে পৌঁছালেই শুরু হয় সম্মুখ যুদ্ধ। ঝাঁপিয়ে পড়ে বাচ্চুর গেরিলা বাহিনী। শহীদ টিটোর সঙ্গে সেই যুদ্ধে অংশ নেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহের আলী জানান, ‘আমরা বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে সতর্ক অবস্থান নিই। যুদ্ধ শুরু হলে টিটো আমার পাশেই যুদ্ধ করছিলেন। আমাদের আগ্রাসী আক্রমণে পিছু হটছিল পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা। ব্যাপক গোলাগুলি হচ্ছিলো। গোলাগুলিতে কয়েকজন পাকসেনা নিহত হলে পিছু হটতে হটতে ওরাও পাল্টা গুলি করছিল। এর মধ্যেই টিটো মাথা তুলে গুলি করতে উদ্যত হয়। এতে টিটোর শরীরের ডানদিকে গুলি লাগে। ওকে আমরা আহত অবস্থায় নিয়ে আসি। একজন পাকসেনাকেও আহত অবস্থায় ধরতে সক্ষম হই।’ জাহের আলী বলেন, ‘মুমূর্ষু অবস্থায় টিটোকে পার্শ্ববর্তী ডেইরি ফার্মে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শহীদ হন টিটো। পরে সাভার ডেইরি ফার্ম গেইটের কাছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধার ঘেঁষে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।’ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন অরক্ষিত অবস্থায় সাভারের কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার (ডেইরি ফার্ম) এর ঝোপের মধ্যে পড়েছিল শহীদ টিটোর কবর। পরে ১৯৯৯ সালে সাভার সেনানিবাসের নির্মাণে ‘টিটোর স্বাধীনতা’ নামে একটি স্মৃতিফলক তৈরি হয় সেখানে। সাভারের লাল মাটিকে আরও লাল করে অসীম সাহসী প্রাণ টিটোর হৃদস্পন্দন থেমে গেছে দেশ স্বাধীনের ঠিক দুদিন আগে তবে সেদিনেই সাভার হয়েছে শত্রুমুক্ত। ১৬ই ডিসেম্বরে বাংলাদেশ পেয়েছে এক বিজয়, এক স্বাধীনতা। যার শ্রমে রয়েছে শহীদ টিটোর মতো লাখো শহীদের আত্মত্যাগ।