নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ মে, ২০২৬, 6:45 PM
অন্ধকার নামলেই লালনীল আলোয় ঝলমল করে ওঠে উত্তরার অবৈধ বারগুলো
পর্ব- ১
রাজধানীর উত্তরার আকাশজুড়ে সন্ধ্যার অন্ধকার নামতেই দৃশ্যপট বদলে যায়। মাগরিবের আজানের পর যখন জনজীবন শান্ত হওয়ার কথা, ঠিক তখনই উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের বারগুলোতে শুরু হয় তথাকথিত ভুতুড়ে ব্যস্ততা। তবে এই ব্যস্ততা কোনো ইতিবাচক বিনোদনের নয়; বরং বারের আড়ালে অপসংস্কৃতি, জালিয়াতি এবং কিশোর অপরাধের এক ভয়ঙ্কর বলয় তৈরি হয়েছে এখানে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এসব বারে এখন অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণ-তরুণীদের অবাধ যাতায়াত। নিয়মানুযায়ী মদ্যপানের জন্য নির্দিষ্ট বয়সের বাধ্যবাধকতা ও পারমিট প্রয়োজন হলেও, এখানে তা মানা হচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, মাত্র ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে মদ্যপানের লাইসেন্স সংগ্রহ করছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (নারকোটিক্স) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে এসব লাইসেন্স প্রদানের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
বিলাসিতার উৎস নিয়ে প্রশ্নঃ
সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তরার কম্বো বার, কোরিয়ান বার, নেক্সট বার, কিংফিশার, মার্গারিটা, কিচেন বার, ক্যাম্পফায়ার, সিটি বার ও টাইগার বারসহ আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে রাত বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে চলে ডিজে পার্টি ও অশ্লীল নাচ জুয়া। এসব বারের ভেতরে একেকটি টেবিলে প্রতি রাতে ওড়ানো হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রশ্ন উঠেছে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস কী? সাধারণ আয়ের মানুষের পক্ষে এভাবে অর্থ ব্যয় করা অসম্ভব। স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা, অবৈধ সিন্ডিকেট বা কালো টাকার মালিকরাই এখানে অর্থের দাপট দেখাচ্ছেন।
নিরাপত্তাহীনতায় আবাসিক এলাকাঃ
আবাসিক এলাকায় এভাবে বার গড়ে ওঠায় চরম ক্ষুব্ধ উত্তরার বাসিন্দারা। তাদের মতে, সারারাত বারগুলো খোলা থাকার প্রভাবে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে কিশোর গ্যাং–এর দৌরাত্ম্য এখন সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারের সামনে গভীর রাত পর্যন্ত অপরাধীদের মহড়া চলায় সাধারণ নাগরিকরা পরিবার নিয়ে চলাফেরা করতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক বলেন, আমাদের সন্তানেরা চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। জালিয়াতি করে লাইসেন্স নিয়ে তারা বারে ঢুকছে, অথচ দেখার কেউ নেই। প্রশাসন যদি এখনই কঠোর না হয়, তবে এই এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
ডিএমপি যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন) মহিদুল ইসলামকে উক্ত বিষয়ে অবগত করলে তিনি বলেন আমাদের নিয়মিত অভিজান চলমান রয়েছে যারা লাইসেন্স প্রাপ্ত কিন্তু নিয়মের বাইরে অবৈধ কার্যকলাপে লিপ্ত তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় আনবো এবং আমাদের অভিযান চলমান। এই বিশাল সিন্ডিকেটের পেছনে কারা কলকাঠি নাড়ছে? প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে বছরের পর বছর এই অবৈধ বাণিজ্য চলছে? এসব নেপথ্য কারিগর ও প্রভাবশালী রাঘববোয়ালদের তথ্য নিয়ে থাকছে এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আগামী পর্ব।