নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মে, ২০২৬, 3:20 PM
'চাঁদাবাজদের ভয়ে' পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক
ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের দীর্ঘ ৩০ বছরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজনের বিরুদ্ধে। চাঁদা না দেওয়ায় দোকানে তালা ঝুলিয়ে দখল নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান (৬৩)। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. মজিবুর রহমান হেমায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রায় তিন দশক ধরে “এন এন লাইব্রেরী এন্ড স্টেশনারী” নামে একটি দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন। অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক বই-খাতা ও শিক্ষা সামগ্রীর ছোট ব্যবসার মাধ্যমে কোনোমতে পরিবার চালিয়ে আসছিলেন। তবে গত ৫ আগস্টের পর এলাকায় নতুন করে প্রভাব বিস্তার করা কিছু ব্যক্তি দোকানদারদের কাছে চাঁদা দাবি শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় মৃত শাহজাহান ব্যাপারীর ছেলে শরিফুল ইসলাম এবং হায়দার আলীসহ কয়েকজন তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এবং আশপাশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানি করা শুরু হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা তার দোকানে এসে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শরিফুল ইসলামের নির্দেশে হায়দার আলী দোকানে তালা ঝুলিয়ে দখল করে নেয়। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়াতে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে জীবননাশের পায়তারা চালাচ্ছে ও বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। জীবন ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক বলেন,“সারা জীবন ছাত্র পড়িয়ে সম্মানের সাথে চলার চেষ্টা করেছি। এখন বয়সের শেষ সময়ে এসে নিজের দোকান রক্ষা করতেই থানায় দৌড়াতে হচ্ছে। আমি ও আমার পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।” স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, সম্প্রতি এলাকায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি হঠাৎ করে আধিপত্য বিস্তার করে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তরা অস্বীকার করেন তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় বৃদ্ধ শিক্ষককে ফাসানোর সত্যতা পাওয়া গেছে। এবিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী জানান তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসীর দাবি,একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সাথে এমন আচরণ শুধু অন্যায় নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও চরম অবক্ষয়ের উদাহরণ। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।