ঢাকা ১৮ জুলাই, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
রাত ১টার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে কোনো ভদ্রলোক আওয়ামী লীগ করে না: বিদ্যুৎমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে: প্রেস সচিব হামের উপসর্গে একদিনে আরও ৪ শিশুর প্রাণহানি রাজধানীতে যানবাহনের হর্ন নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে কৃষি কর্মকর্তা নিহত আমাদের বাণিজ্য পরিপূর্ণভাবে চীন নির্ভর হয়ে পড়েছে: তথ্যমন্ত্রী পাকিস্তানের সরকারি হাসপাতালে এইচআইভি আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু বাংলাদেশকে বাণিজ্যযুদ্ধে সঙ্গে রাখতে চায় চীন: মির্জা ফখরুল আজ থেকে শুরু হচ্ছে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম

“মেধাস্বত্বের স্বীকৃতি পেলেন প্রধানমন্ত্রী ও আশ্রয়ণ প্রকল্প”

#

২৭ এপ্রিল, ২০২৩,  3:00 PM

news image

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া



বাংলার দরিদ্র, অসহায় মানুষের আশ্রয়, তাদের আশা আকাক্সক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেয়া আশ্রায়ণ প্রকল্পের উদ্ভাবক হিসেবে সৃজনশীল মেধাকর্মের স্বীকৃতি পেলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। এর দ্বারা বঙ্গবন্ধু কন্যার অর্জনের মুকুটে আরেকটি পলক যুক্ত হলো। ১৯৯৭ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্ভাবিত এ আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং জীবনমানের উন্নয়ন। আশ্রয়ের মাধ্যমে মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২৩ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অধীন আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে তিনি ২৮ লাখ মানুষকে পুনর্বাসিত করেছেন। আশ্রায়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমানের ক্ষেত্রে এসেছে আমূল পরিবর্তন। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, পেশাগত উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, পুষ্টিসহ সব ক্ষেত্রে আশ্রয়ণের অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে। ঘরের পাশাপাশি মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা পাচ্ছে, স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ সংযোগ, সুপেয় পানি পাচ্ছে। সর্বোপরি এ মডেলটি টেকসই দারিদ্র নিরসনে অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া এ প্রকল্পটি সর্বোপরি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আটটি ধাপ অতিক্রম করছে যেটা একেবারেই অভাবনীয় এক সাফল্য। সর্বমোট ৩৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয় পেয়েছে এ প্রকল্পের মাধ্যমে যেটা এখনো চলমান রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন বিরোধী দলে ছিলেন তখনও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেও আশ্রায়ণ মডেল নিয়ে লিখেছেন, জনসচেতনতা তৈরী করেছেন। তারই ফসল আজকের ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ। শীঘ্রই বাংলাদেশ তার এ সৃজনশীল কাজের সুফল ভোগ করবে দারিদ্র চিরতরে নিরসন করে। ইতোমধ্যেই দেশের চরম দারিদ্রসীমা ৫.৮ এর কোঠায় নেমে এসেছে। আর এসব অনন্য অর্জনের কারণেই ধারণাটিকে  সৃজনশীল মেধাকর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে শেখ হাসিনার মডেলের জন্য ৬০ বছর মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীকে এই স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এর স্বত্বাধিকারী বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলার দরিদ্র মানুষের আশার বাতিঘর দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

আশ্রয়ণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ একটি সরকারি প্রকল্প যার মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীন এবং যার জমি আছে ঘর নেই এমন পরিবারের জন্য বাসস্থান নির্মাণ করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  হাত ধরেই ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন নোয়াখালী বর্তমান লক্ষীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরপোড়াগাছা গ্রামে ভূমিহীন-গৃহহীন, অসহায় ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দেশী ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার পর দেশের গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবার পুনর্বাসনের মতো জনবান্ধব ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমগুলো স্থবির হয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু হত্যার দীর্ঘ ২১ বছর পর  তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধুর জনবান্ধব ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমগুলো পুনরায় শুরু করেন। তাই তিনি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মডেল’ সামনে এনে পিছিয়ে পড়া ছিন্নমূল মানুষকে মূলধারায় আনার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন সুযোগ্য সন্তানের যথার্থ সমার্থক শেখ হাসিনা। তেইশ বছর দ্বিধাহীন সংগ্রাম, সহস্র যন্ত্রণা ও নিপীড়ন সহ্য করে বঙ্গবন্ধু নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার। ত্রিশ লক্ষ শহিদ এবং দুই লক্ষ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল-সবুজের পতাকার বাংলাদেশ। পাকিস্তানী শাসকেরা এবং তাদের দোসররা মিলে সুজলা-সুফলা বাংলাকে বানিয়েছিল মৃত্যুপুরী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মত ধ্বংসযজ্ঞ সাধিত হয়েছিল বাংলার মাটিতে। বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা এবং খাদ্য গুদাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ ধ্বংস করে সমগ্র যোগাযোগ ব্যবস্থাকে প্রস্তর যুগের মত দুর্গম করেছিল হানাদার বাহিনী। সেই ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দিয়েছিলেন সোনার বাংলা গড়ে তোলার। সোনার বাংলা গড়ার জন্য সময় পেয়েছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর। এযেন সুদীর্ঘ সোনার বাংলা উপন্যাস লিখতে যেয়ে লেখকের অকাল মৃত্যু। তবে থেমে থাকেনি বাংলার অগ্রযাত্রার উপন্যাস লেখার কাজ। বাবার সহজাত গুণাবলি ধারণ করে বাংলার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের উপন্যাস লিখতে বসেন শেখ হসিনা। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা কক্সবাজার জেলার সেন্টমার্টিনে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন এবং একই বছর তিনি সারা দেশের গৃহহীন-ভূমিহীন মানুষকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে শুরু করেন “আশ্রয়ণ প্রকল্প”। বিশ্বের বুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত আশ্রয়ণ প্রকল্পে ভাসমান ভূমিহীন পরিবার জায়গাসহ দৃষ্টিনন্দন বাড়ি পাচ্ছেন। এ পরিবারগুলোর অধিকাংশ ছিল ‘অতি দরিদ্র সীমার নিচে’। বাসস্থানের মৌলিক অধিকার ছিল না তাদের। এখন তারাই জায়গার মালিক হচ্ছেন, বাড়ির মালিক হচ্ছেন। একইসঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগে তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান করা হচ্ছে। এমন অধরা স্বপ্নপূরণের আনন্দ-অশ্রু এখন তাদের চোখে। মুখে নতুন সূর্যের ঝলমলে হাসি। ইতোমধ্যে জায়গাসহ বাড়ি পাওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বসতিরা বাস করছেন রঙিন টিন আর পাকা দেয়ালের আধাপাকা বাড়িতে। সেখানেই করছেন শাক-সবজির আবাদ। কেউবা হাঁস-মুরগি, ছাগল-গরু পালন করছেন। সন্তানদের পাঠাচ্ছেন স্কুলে। আশ্রয়হীন ভাসমান মানুষগুলো বসবাসের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এই সুবিধাটি পেয়ে তাদের সবার মুখে এখন নতুন সূর্যের ঝলমলে হাসি। এখন আর দুশ্চিন্তা নেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার তরী কবিতার মূল ভাব বিশ্লেষণ করলে বোধগম্য হয় যে মহাকালে স্থান পায় প্রতিটি মানুষের কর্ম। কর্ম’ই মানুষের পরিচয়, কর্ম দ্বারাই একজন মানুষ বেঁচে থাকে সহস্র বছর। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্ম ব্রত এবং হিমায়লয় কঠিন দৃঢ়তা তাঁকে স্থান দিয়েছে মহাকালের অনন্ত যাত্রায়। একবার চোখ বন্ধ করে কল্পনা করুন ২০০৫ সালের বাংলাদেশ এবং ২০২১ সালের বাংলাদেশ! উন্নয়নের যে ধারা এই বাংলাদেশে এখন দৃশ্যমান, এই ধারা কেবলই শেখ হাসিনার অবদান। হেনরি কিসিঞ্জারের তলাবিহীন ঝুড়িকে যেই জহুরী উন্নয়নের তীর্থস্থান হিসেবে রূপান্তরিত করেছে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য জ্যেষ্ঠ তনয়া শেখ হাসিনা। জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, মুজিববর্ষে দেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ১ লাখ ১৭ হাজার ২৯টি বাড়ি হস্তান্তরের পর এবারের ঈদের উপহার হিসেবে তৃতীয় ধাপের নির্মাণাধীন ৩২ হাজার ৯০৪টি বাড়ি হস্তান্তর করা হয়েছে। শুধুমাত্র বাড়ি করে দিয়েই সরকার দায়িত্ব শেষ করেনি। বরং উপকারভোগীদের স্থায়ীভাবে জীবনমান উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ভিজিএফ সুবিধা প্রদান, কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, সমবায় সমিতি গঠন ও ঋণ প্রদান, কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, পুকুর খনন ও মৎস্য চাষ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ প্রদান, বৃক্ষরোপণ, গভীর ও অগভীর নলকূপ স্থাপন,স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা এবং বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রমসহ আরো নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর মানুষ গৃহবন্দি হয়ে পড়ে, তখন শ্রমজীবি মানুষদের ঈদ আনন্দ ম্লান হতে বসেছিল। কিন্তু তখনই এগিয়ে আসেন মানবিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, দোকান কর্মচারী, ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসায় কর্মরত শ্রমিক, পোল্ট্রি খামারের শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক ও হকারসহ নিম্ন আয়ের নানা পেশার মানুষদের ৫০ লাখ পরিবারকে নগদ ২ হাজার ৫ শত টাকা দিয়েছেন। যার জন্য সরকারকে ব্যয় করতে হয়েছে ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। প্রতি পরিবারে পাঁচ জন সদস্য ধরা হলে এই নগদ সহায়তার সুবিধা পেয়েছে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ। পরবর্তী বছর ২০২১ সালেও এ কার্যক্রম চালু ছিল। সেসময়ও ৩৬ লাখ ২৫ হাজার মানুষকে আড়াই হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের মোবাইলে টাকা পাঠানো হয়েছে, যাতে করে একটি টাকাও তশরুপর সুযোগ না থাকে। বদলে যাওয়া বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি আসলেই রূপকথাকেও হার মানাচ্ছে। যার রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’ পৃথিবীতে অতূতপূর্ব মানবিক দৃষ্টান্তের মডেল হিসেবে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমিসহ বাড়ি দেওয়া এবং এ প্রকল্পের বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে সমন্বিত কার্যক্রমের ফলে অতি দরিদ্রের হার দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। যা এসডিজির লক্ষ্যমাত্র পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। একইসঙ্গে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের মর্যাদাসম্পন্ন উন্নত বাংলাদেশের অঙ্গীকার পূরণ হচ্ছে, যা স্মার্ট বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। 

লেখক: অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া
ট্রেজারার
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
সাবেক চেয়ারম্যান
ট্যুরিজম অ্যান্ড হস্পিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম